প্রাচীন ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-৯

তৎকালীন প্রসিদ্ধ খানখানাপুরে প্রতিষ্ঠিত অন্নপূণ্যার মন্দির তার সমকালীন বলে ধারণা করা যায়। পূর্বে মন্দিরটি বাজারে মধ্যে ছনের ছাউনি বিশিষ্ট ছিল। বর্তমানে স্থানান্তরিত হয়ে বাঁশহাটায় সুদৃশ্য ইমারত বিশিষ্ট মন্দির। এর প্রতিটি স্তম্ভ কারুকার্যময়। এই মন্দিরে কেবল অন্নপুণ্যার পূজা ব্যতীত অন্য কোনো দেবীর পূজা হয় না।

গোয়ালন্দ বিজয়বাবুর মন্দির

বৃটিশ ভারতে গোয়ালন্দ ও গোয়ালন্দের গুরুত্ব সুবেদিত। তৎকালীন রাজধানী কলিকাতার সাথে ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের একমাত্র যাত্রাপথ ছিল গোয়ালন্দ। তৎকালীন খ্যাতিমান প্রকৌশলী বিজয়বাবু গোয়ালন্দ বাজারের অনতিদূরে একখানা মন্দির নির্মাণ করেন যা বিজয়বাবুর মন্দির বলে সাধারণ্যে পরিচিত। বিজয় বাবুও ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, মানবদরদী ও সংস্কৃতি মনা। ১৯৩৬ সালে এ মন্দির নির্মাণ করেন। নিজে প্রকৌশলী বিধায় মন্দিরের গঠন কাঠামোতে আধুনিকতার ছাপ রয়েছে। মন্দিরটি বেশ বৃহৎ আকৃতির। ছাদ থেকে শতফুট উঁচু মঠ আকৃতির আকাশ ছোঁয়া বরুজ। মঠটির চারপাশে ছোট ছোট রঙ্গিন পাথরের কারুকাজ মনোমুগ্ধকর। মঠের উচ্চ শৃঙ্গে ত্রিশূল। মন্দিরের সম্মুখে প্রশস্ত নাটমঞ্জ। নানা কারণে তখণ গোয়ালন্দ সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এই নাটমঞ্চে যাত্রা, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হত। কলকাতা থেকে আসতেন নামি-দামী শিল্পী। এখানে এখন পূজাপার্বণ অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান মন্দিরটি সংরক্ষণের অভাবে ভগ্নপ্রায়। জমি বেদখল হচ্ছে।

মুকুন্দিয়ায় দ্বারকানাথ সাহা চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর স্মৃতিচিহ্ন মঠ

রাজবাড়ি সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া অন্তর্গত মুকুন্দিয়া গ্রাম। এ গ্রামের প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন দ্বারকানাথ সাহা চৌধুরী। তিনি রাজা সূর্যকুমারের সমসাময়িক। রাজা সূর্যকুমার ও জমিদার দ্বারকানাথ সাহার প্রজা হিতৈষী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। তাঁদের আনুকূল্যে রাজবাড়ি পাবলিক লাইব্রেরি সমৃদ্ধ হয়। পল্লী চিকিৎসা ও শিক্ষা বিস্তারে দ্বারকানাথ সাহা এলাকায় স্মরণীয়। দ্বারকানাথ সাহার জন্ম ১৩৪৪ এবং মৃত্যু ১৪২২ বাংলা। পিতার মৃত্যুর পর পুত্র সরজেন্দ্র নাথ সাহা পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মাণ করেন সুদৃশ্য মঠ। পাশেই দ্বারকানাথ সাহার স্ত্রী মঠটি বিদ্যামান রয়েছে। মঠটি জেলার পত্নতত্ত্বের নিদর্শন বহন করছে।

কোলাবাড়িয়া ডিকে সাহার মন্দির

পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের আর একটি গ্রাম কোলাবাড়িয়া। সাধারণ লোকে বলে খোলাবাড়িয়া। খোলামেলা উম্মুক্ত পরিবেশের কোনো বাড়ির নাম থেকে হয়ত গ্রামের নাম হয়েছিল খোলাবাড়ি যা বর্তমানে আঞ্চলিক উচ্চারণে হয়ে গেছে কোলাবাড়িয়া। অনুমান করা যায় ১৮০০ শতকের জমিদার শ্রী দেবনাথ কুমার সাহা ছিলেন খোলামেলা মনের জমিদার। উদার চেতনার মানুষ হিসেবে খোলামেলা মন নিয়ে সবাই তাঁর সাথে মিলিত হতেন। ধর্ম চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি নির্মাণ করেন এই মন্দির যা আজও ডিকে সাহার মন্দির হিসেবে স্মৃতি বহন করছে। সে সাথে ধর্ম চর্চার রীতিনীতিও জানা যায়-----মন্দিরটির দিকে তাকালেই বোঝা যায় নিখুঁত কারুকারর্যের অতীত নিদর্শন। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়লেও সৌন্দর্য ম্লান হয়নি। অপরুপ স্থাপত্যের নিদর্শন বহন করছে মন্দিরটি।

Additional information