প্রাচীন ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-১০

নলিয়া জোড় বাংলা মন্দির

নলিয়া জোরবাংলা মন্দিরবালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রামে একটি জোড় বাংলা মন্দিরের ধবংসাবশেষ রয়েছে। এরুপ একটি মন্দির মাদারীপুরের রাজৈর থানায় দেখতে পাওয়া যায়। এর গঠন বিচিত্র এ সব মন্দির ১৭০০ শতকে তৈরি বরে পণ্ডিতগণ মনে করেন।

 

 

মদাপুর ও মদাপুরে রাজ রাজেশ্বরের (শিব) জাগ্রত দেবতা

আনন্দনাথ রায়ের ফরিদপুরের ইতিহাস ২৭ পৃষ্ঠা----‘বেলগাছি স্টেশনের অন্তর্গত মদাপুরের বৃক্ষপুষ্করিণী সমন্বিত শিব (রাজ রাজেশ্বর) নগর পাংশা স্টেশনের অধীনে মদাপুর গ্রাম অতি প্রাচীন। এই গ্রামের দুটি বট বৃক্ষের নিচে লোকেরা বহুকাল যাবৎ পূজা দিয়া আসিতেছে। বৃক্ষের তলদেশে একটি ইষ্টক নির্মিত ক্ষুদ্র মন্দিরের ভগ্নাবাশেষ দৃষ্ট হয়।’ মদাপুরের বটবৃক্ষটি জাগ্রত দেবতা হিসেবে রাজ রাজেশ্বরের নামে নিয়মিত পূজা করা হয়। পূজা সাধারণত মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাণ্ড বটবৃক্ষকে ঘিরে অনেক গল্প কাহিনী প্রচলিত আছে। অনেকে মানত করে বটবৃক্ষের নিচে সন্তানের আজন্ম লম্বিত মাথার চুল কেটে মানত পূরণ করে। দেশ দেশান্তর থেকে শত শত মানুষ প্রতিবছর চৈত্র মাসে দোল যাত্রায় আগমন করে। একই সময় মেলা বসে। বট বৃক্ষটি ঘিরেই থাকে সব আয়োজন। বৃক্ষের চারপাশ ইট দ্বারা বাঁধানো প্রায় ৪০০ বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে বলে জানা যায়।

মহানায়ক স্বামী সমাধি প্রকাশারণ্য

স্বামী সমাধি প্রকাশারণ্য কিংবদন্তির মহানায়ক যাঁর তত্ত্ব, আদেশ, উপদেশ, কর্ম পরিধি বিদেশ বিভুঁয়েও কথিত। রাজবাড়ি জেলা নলিয়া জামালপুরের উনবিংশ শতাব্দীর আশির দশকে জন্মগ্রহণ করেন স্বামী সমাধি প্রকাশারণ্য। বাল্যকালে তার নাম ছিল নরেশচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়। সাধারণ লোকে বলে নরেশ পাগলা। এই নরেশ পাগলাই পরে আর্যসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।

স্বামী প্রকাশারণ্য তৎকালীন সময় প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে ইংরেজিতে এম এ পাশ করেন। ছাত্রকালীন শ্রী রামকৃষ্ণের মানসপুত্র ব্রহ্মনিন্দ মহারাজদের সাথে তার আলাপচারিতা ছিল। লেখাপড়া শেষে তিনি বালিয়াকান্দি হাই স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। পনের বছর তিনি এ পেশায় ছিলেন। ব্রহ্মচারী সাধক এতে তুষ্ট হননি। পিতা বিবাহ দেন কিন্ত তিনি ঘর সংসারে আটকে থাকেন না। কোনো সুদূরের পিয়াসা তার মধ্যে। শিক্ষক জীবনেই তার বানপ্রস্থ অবস্থা। শিক্ষকতা কাজে থাকাকালীন তার বেশভূষা দেখলেই বোঝা যেত তিনি একজন সাধক বা সাধু পুরুষ। পরনে হাঁটু পর্যন্ত লম্বিত পাজামা, গায়ে খদ্দরের হাফ জামা, পায়ে সেন্ডেল। মাথায় তেলহীন চিকন কালো চুল। দীর্ঘ ঋজু দেহ। গৌরকান্তি তেজোদ্দীপ্ত চেহারা দেখলেই বোঝা যায় তিনি অপরিগ্রহ সাধকের মূর্ত প্রতীক। ফরিদপুর জেলার শিক্ষক সম্মেলনে যোগদান করেন। সেখানে তাঁর অভিভাষণ থেকে চালু হয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ধর্ম শিক্ষা। যেখানে ধর্ম সভা, কীর্তন, ভাগবত পাঠ, ধর্মালোচনা সেখানেই মাস্টার মশাই। বাল্যকাল থেকেই ব্রাহ্মণ হয়ে আচণ্ডাল শুদ্রদির সাথে মিশে গেছেন। তাদের অন্ন ভোজন করেন। বুঝেছিলেন জাতি ভেদ প্রথা সমাজে প্রভূত ক্ষতিসাধন করছে। এর বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছিলেন বিদ্রোহ। লিখলেন, জাতিকথা পরশমণি। এসকল পুস্তকে প্রমাণ করলেন জাতিভেদ প্রথার অসারতা। সত্যের সন্ধানে দিনাজপুরের এক হাঁড়ি তার কাছে দীক্ষা প্রার্থী হলে স্বামীজি নিজেই দীক্ষাগ্রহণ করলেন দিনাজপুরে তার বাড়িতে যেয়ে। ব্রহ্মচারীর মুক্তি মনুষ্য জীবনের পরম কাম্য। এ পথে আসতে হলে প্রয়োজন ব্রহ্মকালচার বা সমাধি সাধন। দীক্ষা গ্রহণের পর তিনি ‘স্বামী সমাধি প্রকাশারণ্য’ নাম গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন আর্য সংঘ। আর্য সংঘের মাধ্যমে তিনি তাঁর মত, পথ তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন জন্মান্তরবাদ কোনো মিথ্যা নয়।

Additional information