শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-১৩

এ সময় মুসলমানদের আরো রাজনৈতিক ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ভারতের প্রদেশগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করার প্রস্তাব দেয়। এটা মুসলিম লীগ মেনে নেয়নি। কংগ্রেসের সভাপতি জওহরলাল নেহেরুও নন। দেশ বিভাগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে মুসলিম লীগের তরফ থেকে ঐ বছরের ১৬ আগস্ট ডাইরেক্ট এ্যাকশন পালন করার কর্মসূচী দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী ঐ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। যাতে সাধারণ লোকেরা ঐ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতে পারে। অনেকের মতে তিনি দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার জন্য মুসলমানদের সংগঠিত করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে মন্ত্রী হিসেবে তিনি লাল বাজারের পুলিশের সদর দপ্তরে বসে থাকেন। দাঙ্গা থামানোর কতটা প্রচেষ্টা করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। এই দাঙ্গায় চারদিনে প্রায় ১০ হাজার হিন্দু মুসলমান নিহত হয়।

আল্লামা ইকবালকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা (পাঞ্জাবের পি, কাশ্মীরের কে, ইন্ডাজ (সিন্ধু) এর আই এবং বেলুচিস্থানের স্থান) বলা হয়। পাকিস্তানের প্রথম প্রস্তাবনায় বাংলার নাম থাকে না। তবে বিভক্তির কালে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পশ্চিম পাকিস্তানের অংশ এবং পূর্ব পাকিস্তানের অংশ মুসলমানদের জন্য স্বাধীন দুটি রাষ্ট্য হতে পারত। একে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাবে ঐ কথাটিই বলেছিলেন। ভারতের মুসলিম মেজরিটি অংশ নিয়ে তারা স্বাধীন ভূখণ্ড পাবে। কিন্তু মুসলিম লীগ সভাপতি জিন্নাহ পরবর্তীতে এ দাবি মেনে না নিয়ে একক পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব দেন। বাংলার মুসলিম নেতৃবৃন্দ জিন্নাহর কৌশল ও ব্যক্তিত্ত্বের প্রতি অনুগত হয়ে পড়েন। ফলশ্রুতিতে বাংলার পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম গরিষ্ঠ অংশ নিয়ে হল পূর্ব-পাকিস্তান এবং পাঞ্জাবের সিন্দু, উত্তর পশ্চিম সিমান্ত প্রদেশ ও বেলুচিস্তান  নিয়ে হয় পশ্চিম-পাকিস্তান। এভাবে উভয় পাকিস্তান নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি পাকিস্তান। রাজধানী হয় করাচী। প্রেসিডেন্ট হন কায়েদা আজম মোহামম্মদ আলী জিন্নাহ।

রাজবাড়ি জেলায় তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মৌঃ তমিজ উদ্দিন খান, খান বাহাদুর ইউসুফ হোসেন, আহম্মদ আলী মৃধা, ডা. একেএম আসজাদ, অধ্যক্ষ কেতাব উদ্দিন আহম্মদ, মোঃ হাতেম আলী (পিএলএল শালমারা), মৌঃ ইসমাইল হোসেন (নাড়ুয়া) হাজী আবদুস সাত্তার (মৃগী) এ্যাডভোকেট আবদুল মাজেদ (রাজবাড়ি), আব্দুল গনি (সেক্রেটারী, মুসলিম লীগ), অ্যাডভোকেট আবদুল জলিল, হানিফ মোল্লা (গোয়ালন্দ), আব্দুল গফুর (বাচ্চু মাষ্টারের পিতা) মোঃ হাবিবুর রহমান (রাজবাড়ি), আমজাদ হোসেন জোয়ারদার (রাজবাড়ি), অধ্যাপক আব্দুল গফুর (বেলগাছি) অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল (রাজবাড়ি), ফখরউদ্দিন আহম্মেদ, আবদুর রহমান মৃধা প্রমুখ বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

 পাকিস্তান আন্দোলনে মুসলিমলীগের নেতৃত্বাধীন অত্র অঞ্চলের মুসলমান সম্প্রদায় আন্দোলন গড়ে তোলে। তাদের মুখে স্লোগান থাকে লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রতি ভাবাবেগে কালুখালির অদূরে একটি হাটকে ‘পাকিস্তানের হাট’ নামকরণ করে। ১৯৫১ সালে তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী লিয়াকত আলীর নাম অনুসারে নাড়ুয়অ ইউনিয়নে নব প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়, ‘লিয়াকত আলী মেমোরিয়াল হাই স্কুল।’ বৃটিশ রাজের অবসান এবং পূর্ববাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের পৃথক রাষ্ট্র গঠন মুসলমানরা বড় প্রাপ্তি মনে করে।

পাকিস্তান পরবর্তী রাজনীতি

(১৯৪৭-১৯৭১)

আবুল মনসুর আহম্মদ এর কথায়, ‘এ জন্যই পূর্ববাংলা ফাউ এর ধান কাউ এর ধান টিয়ায় খাইলে গৃহস্তের আপত্তি হয় না।

Additional information