শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-১৫

এর পরপরই বিরোধীদল গঠনের উদ্দেশ্যে কিছু মুসলিম লীগ নেতা মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রথমে নারায়ণগঞ্জে ও পরে টাঙ্গাইলে কর্মী সম্মেলন করে নেতাদের কাজের তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং মুসলিমলীগের দরজা খুলে দেবার দাবি করেন।

নেতারা কর্ণপাত না করায় ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন কর্মীরা নিজেরা নিজেরাই মুসলিমলীগ গঠন করেন। সরকারি মুসলিমলীগ হতে পার্থক্য দেখাবার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম রাখলেন ‘আওয়ামী মুসলিমলীগ’ এভাবেই মুসলিমলীগের বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী (জনগণের)মুসলিমলীগ দল গঠিত হয়। ১৯৫৫ সালে ২২ অক্টোবর কাউন্সিল সভায় আওয়ামী মুসলিম থেকে মুসলিম বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়। রাজবাড়িতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালের নভেম্বরে। শেখ মুজিবুর রহমান এর উপস্থিতিতে রাজবাড়িতে আওয়ামী লীগ গঠনে সভাপতি থাকেন ডা. এস এম ইয়াহিয়া। সম্পাদক থাকেন মরগুব আহম্মেদ। সদস্য থাকেন অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম মৃধা, মোঃ হারুন, ডা. জলিলুর রহমান প্রমুখ। পরবর্তীতে গোয়ালন্দ মহকুমার আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকেন শামসুজ্জামন চৌধুরী (বাদশা ভাই), সম্পাদক আকবর আলী, সদস্য মরগুব আহম্মেদ, ডা. জলিলুর রহমান প্রমুখ। ষাটের দশকের প্রথম ভাগে সভাপাতি নির্বাচিত হন কাজী হেদায়েত হোসেন। এ সময় সম্পাদক থাকেন ডা. জলিলুর রহমান। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকেন অমলকৃষ্ণ চক্রবর্তী, একে এম নুরুজ্জামন, অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান চৌধুরী, ডা. জয়নাল আবেদিন, এবিএম নুরুল ইসলাম, মোঃ মোসলেম উদ্দিন মৃধা, গওহর মণ্ডল, মশারফ হোসেন, আব্দুল ওয়াহাব বিশ্বাস প্রমুখ। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী এমএল এ নির্বাচিত হন।

১৯৬১ সালে রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন ছাত্রলীগ  দলটির শক্তিশালী ভিত রচনা করে। ছাত্রলীগ থেকে প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন চিত্তরঞ্জন গুহ। আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, আমজাদ হোসেন, নাজিবুর রহমান, ফরিদ আহম্মেদ, ফকীর আব্দুর রাজ্জাক, এটিএম রফিক উদ্দিন, মকসুদ আহম্মেদ রাজা, আনোয়ার হোসেন, কাজী ইকবাল ফারুক, ফকীর আবদুল জব্বার, মকসেদ আলী, জিল্লুল হাকিম, গণেশ নারায়ন চৌধুরী (সন্তু) রেজাউল হক রেজা, আশরাফ আলী প্রমুখ ছাত্রলীগ নেতা পার্টির আদর্শ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৩ সালে রাজবাড়ি কলেজে নানা বাধা বিপত্তির মুখে ছাত্রবৃন্দ জেলায় প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। ছাত্রলীগের নেপথ্যে নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতা দেন কাজী হেদায়েত হোসেন। আওয়ামী লীগ ছয় দফার আন্দোলন, ‘৬৯ এর গণআন্দোলন, রেলশ্রমিক আন্দোলনসহ স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

দেশের স্বাধীনতা অর্জনে আওয়ামী লীগের অবদান প্রশ্নাতীত। স্বাধীনতা উত্তরকালে কাজী হেদায়েত হোসেন, মোঃ মোসলেম উদ্দিন মৃধা, অমলকৃষ্ণ চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ দলটির নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৫ সালে পট পরিবর্তনে দলটি সঙ্কটে নিপতিত হয়। এ সঙ্কট উত্তরণে দলটিকে সচল রাখেন অ্যাডভোকেট সামসুল হক, অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রফিকুস সালেহীন (সভাপতি), মকসুদ আহমেদ রাজা, একেএম নুরুজ্জামান, মহসীন উদ্দিন (বতু ভাই), কাজী কেরামত আলী, জিল্লুল হাকিম, নাসির উদ্দিন, আব্দুল হাই, নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, ফকীর আবদুল জব্বার, আকবর আলী মর্জি (মুর্জি ভাই) গণেশ নারায়ণ চৌধুরী সন্ত, অশোক বাগচি,  এসএম নওয়াব আলী প্রমুখ।

Additional information