শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-২২

স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতি

মুক্তিযুদ্ধের অবসানে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখে ১৯৭২ সালে শাসনতন্ত্র রচিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ৭ মার্চ প্রথম পার্লামেন্টারী গণতন্ত্রের সাফল্যের লক্ষ্যে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০টি সিটের মধ্যে ২৯২টি আওয়ামী লীগ ৭টি অন্যপক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়। বিরোধী পক্ষের সাতটির মধ্যে জাসদ ৩টি, জাতীয় লীগ ১টি ও নির্দলীয় ৩জন নির্বাচিত হন। রাজবাড়ি থেকে নির্বাচিত হন কাজী হেদায়েত হোসেন ও মোসলেম উদ্দিন মৃধা। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ন্যাপের দুই অংশ এবং কমিউনিস্ট পার্টি শক্তিশালী থাকলেও নির্বাচনে ভালো ফলাফল করেনি। নৌকার জোয়ার পূর্বের মতো থাকে। এরমধ্যে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি ভিয়েতনাম দিবস উপলক্ষে ছাত্রদের মিছিলের ওপর গুলি চালায়। মতিউল ইসলাম (রাজবাড়ি) ও আরেকজন নিহত ও অনেকে আহত হয়। মোজাফ্ফর ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নই সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল (রাজনীতির পঞ্চাশ বছর পৃষ্ঠা-৬২৫)। নিহত মতিউল ইসলাম রাজবাড়ির মোসলেম উদ্দিন মৃধার ছেলে। মতিউল ইসলামের মৃত্যুর প্রতিবাদে কমরেড কমল গুহ’র নেতৃত্বে আজাদী ময়দানের সভায় বিপুল সমাবেশ ঘটে। কমরেড আশু ভরদ্বাজের সভাপতিত্বে এ সময় কমল গুহ তীব্রভাষায় নিন্দা জানায়

এ সময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল রাজবাড়িতে প্রবল বিরোধী ভূমিকা পালন করে। অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন গুহ ও আবদুল মতিন (পাংশা) জাসদের নেতৃত্ব দেন। বিশেষ করে পাংশা জাসদের ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল। সে সময় আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে পাংশায় জাসদ এত শক্তিশালী ছিল যে, তাদের নিয়ন্ত্রন করতে সরকারকে হিমসিম খেতে হয়। এ সময় অনেক জাসদকর্মী নিহত হন এবং অনেকে আত্মগোপন করেন। জাসদ নেতা আব্দুল মতিন আত্মগোপন থেকে দলকে পরিচালিত করেন। চিত্তরঞ্জন গুহ গ্রেপ্তার ও কারারুদ্ধ হন। রাজবাড়ি কলেজের ছাত্র সংগঠনগেুলোর মধ্যে জাসদ খুব শক্তিশালী ছিল এবং আশির দশকের শেষ পর্যন্ত জাসদ কতৃত্ব বজায় রাখে। এমজি মোস্তফা, কাজী মতিন, আহমেদ নিজাম মন্টু, সোহান আহম্মেদ, আবদুল হামিদ, মনির হোসেন, লুৎফর রহমান (লাবু) প্রমুখ নেতৃত্ব দেন।

বিরোধীদল হিসেবে ন্যাপ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ন্যাপের নেতৃত্ব দেন আব্দুল মোমেন (বাচ্চু মাস্টার), আব্দুস সাত্তার, ওয়াজিউল্লাহ মন্টু প্রমুখ। ১৯৭৩ সালে মোজাফ্ফর হোসেনে এবং ১৯৭৪ সালে মওলানা ভাসানী রাজবাড়িতে সভা করেন। উক্ত সভায় তিনি সরকারকে তীক্ত ভাষায় সমালোচনা করেন।

স্বাধীনতার পর পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশ স্বাধীন হলেও তারা পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি নামেই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। পার্টির মেনিফেস্টোর দেয়াল লিখন ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজবাড়ি বিশেষ করে ধুঞ্চি, কলেজপাড়া, ড্রাইস, বিনোদপুর, সেগুনবাগিচা, সজ্জনকান্দা এবং মফস্বলে ভবদিয়া, দ্বাদশী, মিজানপুর, মাটিপাড়া পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে। নেতৃত্বে থাকেন ছমির উদ্দিন, মওলা বক্স, রকিবুল হাসান মেহেদি, মকুবল হোসেন বাবু, আকতার হোসেন, সাকের আলী, আরমান আইনউদ্দিন, কেরামত, কাশেম প্রমুখ। আন্ডার গ্রাউন্ডে থেকে নেতৃত্ব দেন আল্লা নেওয়াজ খায়রু, দুলাল মোল্লা, ঝন্টু মোল্লা প্রমুখ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ট্রাজেডির পর রাজনীতির ধারা পাল্টে যায়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর অনুপ্রেরণায় উপ-রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার কর্তৃক জাতীয়তাবাদী - গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করেন। ১৯৭৮ এ মে জাগদল, ভাসানী ন্যাপ, ইউপিপি মুসলিমলীগ, তফশীলী ফেডারেশনের সমন্বয়ে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ গঠন করেন।

Additional information