শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-২৩

রাজবাড়িতে এমএ মোমেন (বাচ্চু মাস্টার) সভাপতি এবং পাংশায় নাসিরুল হক সাবু সম্পাদক এবং এটিএম আব্দুর রাজ্জাককে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জাগদল গঠিত হয়। এরপর জাগদল ও জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের নেতৃত্বে আসেন আক্কাস আলী মিয়া ছাত্র নেতৃত্বে থাকেন অ্যাডভোকেট এমএ খালেক, আজিজুল হক (টোকন) কামরুজ্জামান প্রমুখ। ১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হলে রাজবাড়িতে নেতৃত্বে থাকেন অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, এটিএম আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক, নঈম আনসারী, আতাউর রহমান আতা, আবুল হোসেন মাসুদ, বকুল, সামাদ উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম মৃধা প্রমুখ। ১৯৭৯ এর ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা (এম) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আশির দশকের শেষ ভাগ থেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সুসংগঠিত হয়ে ওঠে। বিগত দুই দশক যাবৎ ছাত্রদল অনেকাংশে কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে। গাজী আহসান হাবিব, স্বপন, সিরাজুল আলম চৌধুরী, খায়রুল আনাম বকুল, মিজানুর রহমান, জায়েদ আল কাওসার, নাসির উদ্দিন নাসির, মোঃ মহিউদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক সরদার প্রমুখ নেতৃত্ব দান করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন এবং দীর্ঘ নয় বছর শাসনকাজ পরিচালনা করেন। তিনি জাতীয় পার্টি গঠন করেন। রাজবাড়িতে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে থাকেন অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম মৃধা। ১৯৮৮ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হন আব্দুল লতিফ মুন্সি ও আব্দুল মতিন। ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের পতন ঘটে। ১৯৯১ এর সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ি-১ থেকে অ্যাডভোকেট  আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী এবং রাজবাড়ি-২ থেকে ডা. একেএম আসজাদ  সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরীর মৃত্যুতে আসন শূন্য হলে কাজী কেরামত আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক। ১৯৯৬ এর সংসদ নির্বাচনে কাজী কেরামত আলী এবং জিল্লুল হাকিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ এর সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ি-১ এ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ি-২ এ নাসিরুল হক সাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ এর ডিসেম্বরের নির্বাচনে রাজবাড়ি-১ থেকে কাজী কেরামত আলী এবং রাজবাড়ি-২ থেকে জিল্লুল হাকিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 কমিউনিস্ট রাজনীতি

শোষনহীন, সাম্যবাদী সমাজ গঠনে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি মহামতি কার্ল মার্কস ও এঙ্গেলস প্রচারিত কম্যিউনিজম তত্ত্ব থেকে কমিউনিস্ট শব্দের উদ্ভব। সভ্যতার ইতিহাস সুপ্রাচীন হলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সুংসংবদ্ধ সমাজ গঠনের ইতিহাস সুপ্রাচীন নয়। কয়েক হাজার বছর ধরে মানবজাতি যে সাম্রাজ্য ও রাষ্ট্র শক্তির অধীনে সম্পদ, সম্পাত্তির অধিকারভোগে অভ্যস্থ-----তা সুখকর নয়। প্রকৃতির আলো বাতাসের সমঅধিকারের মতো মানুষ ভূমি, আয়, উৎপাদনের সমভাগী নয়। অথচ এর উপরও সকল মানুষের ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার অধিকার আছে। প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সম্পদ কেবল স্বল্প সংখ্যক মানুষের কজ্বায়। সঞ্চিত সম্পদ আহরণে মৌলিক ভূমিকা পালনকারী বেশির ভাগ মানুষ অবহেলিত, বঞ্চিত, লাঞ্চিত, শোষিত, ক্ষেত্রবিশেষে ঘৃন্য। রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো পরিবর্তনে সমাজবদ্ধ মানুষের আর্থিক ও সামাজিক ন্যায্য হিস্যা কিভাবে নিশ্চিত করা যায় তারই যুক্তিমাফিক তত্ত্ব পরিকাঠামো দাঁড় করান হয় স্যোসালিজম ও কমিউনিজম তত্ত্বে। অবশ্য মার্কসের পূর্বে লুইব্লা, সেন্ট সাইমন, চার্লস ফুরিয়র, রর্বাট ওয়েন, থোমাস মূর এমন কি বার্নাড ‘শ এমন সমাজ ভাবনার কথা বলেছেন।

Additional information