শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-২৪

তবে সে সব ভাবনা হিসেবী বা যুক্তিভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। কেবল মার্কস সমাজ বিবর্তন, মানবিক অধিকার ও উৎপাদনের মৌলিক তত্ত্ব বিশ্লেষণে, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রকৃত রুপরেখা নির্ণয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল উপস্থাপন করেন। এ মডেলটির বিশেষত্ব হল প্রচলিত ব্যক্তিমালিকানায় ভোগ দখলের পরিবর্তে চাই সামাজিক দখল, প্রচলিত শাসন উৎপাদন বন্টনের বিপরীতে চাই নবচেতনায় কৌশলী রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র গঠন সহজ নয়। কারণ যারা প্রচলিত রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী তারা সস্পদ লিপ্সা, ভোগ, দখল, বিসর্জন দিবে তা ভাবা অবান্তর। তাই শত্রুশক্তিকে পরাজিত করে নব রাষ্ট্রের পত্তনে চাই বঞ্চিত মানুষের সংঘবদ্ধ শক্তি ও বিপ্লব। এ কারণে প্রয়োজন দল ও পার্টি।

১৯১৮ সালে মার্কস এঙ্গেলস কমিউনিস্ট পার্টির এশতেহার প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে মার্কস এঙ্গেলসের মতবাদ ‘মার্কসবাদ’ নামেই সুপরিচিত। এঙ্গেলেসের মৃত্যুর পর রাশিয়ায় লেনিন ও স্ট্যালিন ও স্ট্যালিন মার্কসের মতবাদকে গ্রহণ করে জনগণের সার্বিক মুক্তির জন্য কমিউনিস্ট পার্টি ও শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। অনেক বছর সংগ্রামের মধ্যদিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি লক্ষ কোটি শ্রমজীবী মানুষ সশস্ত্র সংগ্রাম তথা বিপ্লবের মাধ্যম রাশিয়ায় জারতন্ত্রকে উৎখাত করে ১৯১৯ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। ইতিহাসে এটাই প্রথম শ্রমিক বা প্রলেতারিয়েত রাষ্ট্র।

রাশিয়ার শ্রমিক রাষ্ট্রের সফলতায় বিশ্বের নানা দেশে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে ওঠে। ১৯২১ সালে চীনে, ১৯১৮ সালে অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, গ্রীস, পোল্যন্ড, হাঙ্গেরী; ১৯১৯ সালে যুগোস্লোভাকিয়া, নেদারল্যান্ড, মেক্সিকো, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম হয়। বৃটেন, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক ১৯২০ সালে কমিউনিস্ট পার্টি জন্মলাভ করে। এশিয়ায় ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর সোভিয়েট ইউনিয়নের তাসখন্দে অর্থাৎ প্রবাসে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। তাতে ছিলেন সস্ত্রিক এম এন রায়, সস্ত্রিক অনিল মুখার্জী, মুহম্মদ আলী, মুহম্মদ শরীফ সিদ্দিকী প্রমুখ। পার্টির নামকরণ হয় সিপিআই। অবিভক্ত বাংলায় ১৯২৮ সালে মাত্র ৪ জন পাটি সদস্য ছিলেন। তারা  হলেন মুজাফ্ফর আহমদ, আব্দুল রাজ্জাক, সামছুল হুদা ও আবদুল হালিম। ১৯৩০ সালে প্রথম জেলা কমিটি গঠিত হয় বঙ্গের  বর্ধমান জেলায়। এরপর ১৯৩৪ সালে হুগলি জেলায়। পূর্ববাংলায় সিলেট জেলা কমিটি গঠিত হয় ১৯৩৪ সালে, কুমিল্লা ১৯৩৭ সালে। যশোর ও খুলনা কমিটি গঠিত হয় ১৯৩৮ সালে।

চট্রগ্রাম ১৯৩৭ সালে। রংপুর সিপিআ এর নেতৃত্বে ১৯৪১ সালে জনযুদ্ধ, ১৯৪১ সালে কাউরে কৃষ্ণাঙ্গ সংগ্রাম, ১৯৪৬ সালে তেলেঙ্গানা, ১৯৪৬-১৯৪৮ তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলে পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম হয় কলিকাতাতে। নয়জনকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। তারা হলেন সাজ্জাদ জহির, খোকা রায়, নেপাল নাগ, জামালুদ্দিন বুখারী, আতা মুহম্মদ ইব্রাহীম, মনি সিং, কৃষ্ণবিনোদ রায় ও মনসুর হাবিবুল্লা।

১৯২০ সালে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের পর থেকেই ভারতবর্ষে বিশেষ করে বাংলায় এর ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুশীলন, স্বরাজ, স্বদেশী বিপ্লবীদের অনেকে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করে। রাজবাড়ি বিভিন্ন কারণে কমিউনিস্টদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। রেলসূত্রে কলকাতা ও অন্যান্য অঞ্চলের সাথে সহজ যোগাযোগ, গোয়ালন্দ উভয় বাংলার দ্বারপথ, রেল শ্রমিক ও গোয়ালন্দ ঘাট কুলীদের দাবি দাওয়া আদায়ে গণসংগঠন, পার্টি গঠন ও আন্দোলনের ভিত তৈরি করে। কমিউনিস্ট আন্দোলনের শুরু থেকেই অত্র অঞ্চলে আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন বর্তমান রাজবাড়ি জেলার কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে সমর সিংহ, আশু ভরদ্বাজ, শ্যামেন ভট্রাচার্য, সত্য মিত্র, প্রফুল্ল কর্মকার, মনমোহন ভাদুড়ি,

Additional information