শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-২৬

কমিটিতে ছিলেন আব্দুল মতিন, টিপু বিশ্বাস, ওহিদুর রহমান, আল্লা নেওয়াজ খায়রু (রাজবাড়ি) প্রমুখ নেতৃবৃন্দ-১ (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের রুপ রেখা, আমজাদ হোসেন, পৃষ্ঠা-১৯৫)।

১৯৭৯ সালে সেপ্টেম্বর মাসে গণফ্রন্ট, ন্যাপ, জাগমুই, ইউপিপি, সাম্যবাদী দল (তোয়াহা) গণতান্ত্রীক ফ্রন্ট গঠন করে। পার্টি ১৯৮০ সালে তাত্ত্বিক মুখপত্র শ্রেণিসংগ্রাম প্রকাশ করে। মার্কসবাদী লেনিনবাদী পরিচিতিতে নিপীড়িত শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্তদের শ্রেণিসংগ্রামের বিপ্লবী হিসেবে দাঁড় করাতে সচেষ্ট হয়। রাজবাড়িতে গণফ্রন্টের নেতৃত্বে দেন আল্লা নেওয়াজ খায়রু, আনছার আলী, ছমির উদ্দিন প্রমুখ। এসময় থেকে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, মঞ্জুরুল আলম দুলাল, আতাউর রহমান আতা পার্টির নেতৃত্ব দান করেন। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই কমিউনিস্ট পার্টিগুলো কাজ করে এসেছে। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আদর্শ, রাজনীতি, অর্থনীতির পরিবর্তনে বিভিন্ন সময়ে পার্টির আদর্শ উদ্দেশ্য বিশ্ব প্রেক্ষাপটে কৌশল গ্রহনে নানাভাবে বিভক্ত হয়েছে। এ উদ্দেশ্য নিয়েই রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিন বাদী) নাম পরিবর্তন করে ওয়ার্কাস পার্টি রাকা হয়। পরবর্তীতে পার্টি মেনন-রনো নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ পার্টি গঠনের প্রচেষ্টা নেয়। অতপর ১৯৯২ সালের মে মাসে উভয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির নাম পরিগ্রহ করে। সূচনালগ্ন থেকেই রাজবাড়িতে ওয়ার্কাস পার্টি সংগঠিত হতে থাকে। ওয়ার্কাস পার্টির নেতৃত্ব দেন------ জ্যোতিশংকর ঝন্টু, আরমান আলী, রেজাউল হক রেজা, সুশান্ত কুমার প্রমুখ।

১৯৯০ সালে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, আমলা, মুৎসু্দ্দি পুঁজিবাদ ও সামান্তবাদ উচ্ছেদের লড়াইয়ে সকল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির একটি বিপ্লবী কর্মসূচিভিত্তিক ফ্রন্ট গড়ে তোলা হয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, জারতীয় সম্প্রসারণবাদ, দালাল, পুঁজিবাদ ও সামান্তবাদ উচ্ছেদে জাতীয় ছাত্রদল, (জাতীয়বাদী ছাত্রদল নয়) জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোট, লেখকশিবির প্রগতিশীল বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলে। ছাত্র মৈত্রী রাজবাড়ি কলেজে শক্ত ভিত গড়ে তোলে। কলেজের ছাত্রছাত্রী সংসদ নির্বাচনে একক কর্তৃত্ব বজায় রাখে। নেতৃত্বে থাকেন ------ প্রভাত কুমার দাস, আলতাফ মাহমুদ পিয়াল, মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপন, সফিকুল ইসলাম, রকিবুল হাসান (মেহেদি), বিপ্লব প্রমুখ।

ওয়ার্কাস পাটির বিক্ষুদ্ধ একটি অংশ ১৯৯৪ স্বতন্ত্র ভূমিকা গ্রহণ করে পৃথক  হয়ে পড়ে। এই অংশের নেতৃত্ব দেন টিপু বিশ্বাস। ওয়ার্কাস পার্টির নেতৃত্ব সম্পর্কে বলেন----‘এরা কয়েক বছর ধরে কমিউনিস্ট পার্টির আন্দোলনে আছেন বলে শাসন এবং নিজেদের অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, কুকাজকে মার্কসবাদের সৃজনশীলতার নামে পাশ করিয়ে নেন----অতপর নিজেদের নেতা হিসেবে অমরত্ব দান করে বড়ই কৌতুক অনুভব করেন।’ (আমজাদ হোসেন, পষ্ঠা-২৬৯)। ১৯৯৫ সালে টিপু বিশ্বাস ওয়ার্কাস পার্টি থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় গণফ্রন্ট এর অস্তিত্ব ঘোষণা করেন। তারা কয়েকটি সংগঠনের সৃষ্টি করে, এ ফ্রন্ট গঠন করেন। এ সংগঠনগুলো টিপু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ‘জাতীয় কৃষক ক্ষেত মজুর সমিতি’ বলে আত্মাপ্রকাশ করে। উল্লেখ্য ডা. এস এ করিমের নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠিত হয়। জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের রাজবাড়িতে নেতৃত্বে আছেন আনিসুর রহমান, (সহকারী অধ্যাপক কামরুল ইসলাম কলেজ, গোয়ালন্দ) রবিউল আলম, জাচ্চু মিত্র। বর্তমানে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি এর নেতৃত্বে আছেন কমরেড আবুল কালাম, সৌমেন দান ভরত প্রমুখ।

Additional information