শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-৩১

সকল স্তরের রাজনীতিবিদসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা শোকবার্তা পাঠান। ঢাকায় তাঁকে কবরস্থ করা হয়। ঘটনার ক্রমিকে জন্ম নেওয়া কালরেখা কেবল সম্মুখে ধাবমান। কোনো কোনো মানুষের ‘কর্ম ঘটনার কালের রেখা’ হ্রস্ব। আবার কোনো কোনো মানুষের কর্ম ঘটনার রেখা দীর্ঘ। বৃটিশ বিতাড়ন, গণমানুষের অধিকার আদায় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর কর্ম ঘটনা রেখা তুলনামূলক অনেক দীর্ঘ। তাঁর এ কর্মসাধনা প্রেরণার উৎস হয়ে জনকল্যাণে আমাদের কর্ম-ঘটনার দীর্ঘ করবে।

আবু ইসমাইল সিরাজী

আবু ইসমাইল সিরাজী একজন চিকিৎসক ও অগ্নিযুগের রাজনীতিবিদ। তিনি পাংশা উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ১৮৯৮ খ্রি. জন্মগ্রহণ করেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমএ পাস করে কলিকাতা কম্পারেবল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। ১৯২৪ সালে তিনি নেতাজী সুভাস বসুর সংস্পর্শে আসেন এবং কংগ্রেসের রাজনীতিতে যোগদান করেন। তিনি আজাদ হিন্দু ফৌজের স্বশস্ত্র কমান্ডার হিসেবে তৎকালীন সময়ে অত্র এলাকায় আজাদ হিন্দু ফৌজকে সংগঠিত করেন। তিনি বিভিন্ন ভাষাবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইংরেজি, সংস্কৃতি, পালি, উর্দু, হিন্দি, ফারসি, ফ্রেন্স ভাষায় তাঁর সমান দক্ষতা ছিল। রাজনীতি, সাহিত্য মানবসেবায় ছিলেন এক কিংবদন্তি পুরুষ। ১৯২২ সালে আর্য সাহিত্য সমাজের পক্ষ থেকে বিদ্যারত্ন ও ‘কাব্যনিধি’ উপাধি লাভ করেন। ১৯২৭ সালে গৌড়ীয় সর্ব বিদ্যায়তন হতে আদ্য পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করেন। মুসলিম জাগরণে তাঁর অবদান অসামান্য। ১৯৪৪ সালে তিনি মুসলিমলীগে যোগদান করে ১৯৪৭ এর পাকিস্তান আন্দোলনকালে বিশেষ সহায়তা দান করেন। তিনি মুসলিম লীগের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য নানা অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হন। কলিকাতার মেয়র নির্বাচনে হোসেন শহীদ সহরোওয়ার্দীর প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন ও তাঁর পক্ষে নিরলস কাজ করায় সোহরাওয়ার্দীর বিজয় সহজ হয়েছিল।

১৯৪৬ এর কলিকাতায় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার বিভৎসতায় তার কোমল হৃদয় বেদানাতুর হয়ে ওঠে। অসহায় মানুষের খাদ্য, আশ্রয় প্রদানের কর্মসূচী গ্রহণ করলে সোহরাওয়ার্দী তাঁকে রেডক্রসসহ নানাভাবে সাহায্য প্রদান করেন। সারা জীবন রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও পদের মোহ তাঁর ছিল না। রাজনীতির মাধ্যমে মানব সেবাই ছিল তাঁর ব্রত। শেষজীবনে আর্তমানবতার সেবায় ফিরে আসেন নিজ প্রবাসে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ নারী শিক্ষার প্রসারে হাতে নেন নানা উন্নয়নমূলক কাজ।

তাঁর পুত্র প্রকৌশলী আবু ইশরাত সিরাজী একজন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। তিনি জয়কৃষ্ণপুরে পিতার গড়া মাদ্রাসা আলীম পর্যায়ে উন্নীত করেন। পিতার স্বপ্ন লালনে এলাকায় অবহেলিত মানুষের জীবন মান উন্নয়নে নিজেকে ব্যাস্ত রাখেন। তিনি বর্তমানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপ-পরিচালক। তিনি মাদ্রাসার মেয়েদের নিয়মিত পোশাক, পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষা সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করেন।

Additional information