শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-৩৩

জমিদারী উচ্ছেদ হওয়ায় এবং জনসেবায় নিয়োজিত রাখায় শেষজীবনে তাঁকে দারুণ সঙ্কটে পড়তে হয়। এক সময় টিবি রোগে আক্রান্ত হলে তাঁর সন্তান রশীদ চৌধুরী (বিখ্যাত শিল্পী) ছাত্র থাকাকালীন ঢাকায় চিকিৎসারত পিতার জন্য নিজের সাইকেল বিক্রি করে ওষধ ক্রয় করেন। এ মহান রাজনীতিবিদ ১৯৬৯ সালে পরলোকগমন করেন। তাঁর এক পুত্র রশীদ চৌধুরী ভূবন বিখ্যাত ট্রাপেস্ট্রী শিল্পী (মৃত) আর এক পুত্র নাসির হোসেন চৌধুরী রাজবাড়ি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন (বর্তমানে আমেরিকাবাসী)। আর এক পুত্র নাজির হোসেন চৌধুরী (নীলু চৌধুরী) এমপি ছিলেন (বর্তমানে কানাডা বাসী) মেয়ে ডা. মাসুদা পিজি’র প্রখ্যাত সাইক্রটিস্ট (সম্প্রতি পরলোগমন করেন)। আর দুই পুত্র অবসরপ্রাপ্ত মেজর।

রওশন আলী চৌধুরী

তৎকালীন বৃটিশ ভারতে ইংরেজশাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদি নাম রওশন আলী চৌধুরী। তিনি কেবল রাজনীতিতেই সংশ্লিষ্ট ছিলেন না, তিনি ‘কোহিনুর’ পত্রিকার প্রকাশের মাধ্যমে ইংরেজ জাতির জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং মানুষকে সচেতন করে তোলেন। সে সময় কোহিনূর পত্রিকাকে কেন্দ্র করে সারা পূর্ববাংলায় স্বাধীকার সচেতনতার উন্মেষ ঘটে। তিনি ছিলেন পত্রিকাটির স্বত্বাধিকারী, সম্পাদক ও কর্মাধ্যক্ষ। প্রায় দশ বছর পত্রিকাটি বিভিন্ন সময়ের ব্যবধানে প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৩০৫ সালে, বাংলা। এছাড়া তিনি কলিকাতা থেকে ইরানী ভাষায় প্রকাশিত ‘হাবলুল মতিন’ এবং ‘সোলতান’ নামক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। স্বদেশী আন্দোলন শুরু হলে তিনি পাংশায় ‘স্বদেশ বান্ধব সমিতি’ গঠন করে আন্দোলনের নেতৃত্ব দান করেন। সারাজীবন তিনি কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে তিনি একজন সুপরিচিত নেত। এ সময়ে তিনি অত্র অঞ্চলে নেতৃত্ব দেন। খানখানাপুরের তমিজ উদ্দিন খান, মাজবাড়ির আহম্মদ আলী, পাংশার রওশন আলী চৌধুরীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। ঘরে ঘরে চরকায় সুতা কাটা শুরু হয়। মানুষ বিলেতী পণ্য বর্জন করে। তিনি বাঙালি মুসলমানের ভাবজগতে সমাজ চেতনা ও প্রগতিশীল ধ্যান ধারনা সঞ্চারের প্রবক্তা হিসেবে ইতিহাস খ্যাত। তিনি ১৮৭৪ সালের পাংশার নারায়ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা এনায়েতুল্লা চৌধুরী ছিলেন একজন পুলিশ অফিসার। ভাই সুসাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরী। তিনি ১৯৩৩ সালে পাংশায় পরলোকগমন করেন।

খন্দকার নাজির উদ্দিন আহমেদ

মাটির রস সিঞ্চনে যারা মানুষের প্রাণের সঞ্চারে নিবেদিত তারা এদেশের কৃষক, জেলে, তাঁতী, মজুর। অথচ এ শ্রেণি সমাজে অবহেলিত, উপেক্ষিত, পশ্চাৎপদ। পিছিয়ে পড়া এ বিরাট জনগোষ্ঠীর অগ্রগামীতায় যারা নিরলস কর্তব্য কাজে ব্যাস্ত থাকেন তারাই প্রকৃত অর্থে রাজনীতিক। খন্দকার নাজির হোসেন এমনি এক মানুষ। তিনি ‘কাঙ্গাল’, গুর্খা, কৃষক পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে পশ্চাৎপদ মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলেছেন, নিরাপদ আশ্রয়ে তাদের অগ্রযানের পথকে প্রশস্ত করেছেন।

Additional information