শতবছরের রাজনীতি - পৃষ্ঠা নং-৩৪

সে সময় ছিল না ছাপাখানার এত সুযোগ সুবিধা। নিজ প্রচেষ্টায় নিজ গ্রামে ছাপাখানা স্থাপন করে তিনি সাধারণ মানুষকে জীবন বিকাশের পথে সংগঠিত করেছেন, তাদের অভাব অনটনের কথা সকল মহলে তুলে ধরেছেন। প্রতিবাদী চেতনা বিকাশের জন্য তিনি বৃটিশ সরকার কর্তৃক কারাভোগ করেন। যখন বৃটিশ ভারতের মানুষ নানাভাবে বঞ্চিত, শোষিত সেই কালে পাংশা উপজেলাধীন ভেল্লাবাড়িয়া গ্রামে খন্দকার নাজির উদ্দিন আহমেদের জন্ম (১২৭৮ বাংলা)। রাজনীতির তাত্ত্বিক ধারায় নিজেকে না জড়ালেও রাজনীতির ছায়া থেকে তিনি মুক্ত ছিলেন না। তিনি তৎকালীন যশাই ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। পাংশা থানা জমিয়াতুল ওলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মাছপাড়া হাইস্কুল ও পাংশা শাজুঁই মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৩৬৫ (বাং) সালের ইহলোক ত্যাগ করেন।

সমরেন্দ্রনাথ সিংহ (সমর সিংহ)

সররেন্দ্রনাথ সিংহ সকল মহলে সমর সিংহ সমর সেন বা মাস্টার মশায় বলে পরিচিত ছিলেন। অকৃতদ্বার, ত্যাগী, সংগ্রামী এ মহান নেতার সাথে আমার পরিচয় ঘটে ১৯৭০ সালের ফেব্রয়ারি মাসে, কলেজ পাড়ায় আবুল হাসেমের বাড়িতে। আমি সবেমাত্র রাজবাড়ি কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছি। আবুল হাশেম (বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি গ্রহণ করেন) আমাকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। আর্কষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী সমর সিংহের সহজ সরল কথায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ি। এমনিতেই তখন মার্কসীয় চেতনায় বিভোর থাকতাম। মার্কসের গভীর দর্শনগুলো যখন তিনি সহজভাবে বলতে থাকলেন তখন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় বিনত হলাম।

সমর সিংহ বাংলার কমিউনিস্টদের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। আজীবন কমিউনিস্ট রাজনীতির দীক্ষা গুরু। রাজবাড়িতে কমিউনিস্ট পার্টি যখন সুসংগঠিত হয়নি, স্থানীয়ভাবে মতবাদ যখন প্রসার লাভ করেনি তখন নিরলস শ্রম ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তিনি এ কাজ সম্পন্ন করেন। তার পিতা উপেন সিংহ ছিলেন রাজবাড়ির উকিল ব্যাংকের সর্বশেষ কর্মকর্তা। ১৯২১ সালে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল (বর্তমান রাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়। থেকে এন্ট্রাস (বর্তমান এসএসসি) পাশ করেন। অতঃপর ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যায়নকালে অল-ইন্ডিয়া ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন।

ঐ কলেজে দর্শন শাস্ত্রে অনার্সের ছাত্র থাকাকালে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। বৃটিশ সরকারের দ্বারা গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন। ১৯৪৭ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৫৮ তে আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক শাসন জারীর প্রথম দিনেই তিনি রাজবাড়ির রাহ্নবী কুণ্ডুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন। প্রায় দু’বছর পর ছাড়া পান। ১৯৬৫ সালে রেল ধর্মঘটের সময় গ্রেফতার হন। ১৯৬৭ তে মুক্তি পান। ১৯৬৯ সালে ঢাকায় পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই বিপ্লবীসহ অনেককে গণসংবর্ধনা দেয়। ১৯৭০ সালের মাঝামাঝিতে তিনি আত্মগোপনে চরে যান। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর উড়াকান্দা গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর লেখা ‘তিনটি আগুনের ফুলকি’ একটি ঐতিহাসিক দলিল। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে রাজবাড়ি খলিফা পট্রিকে ‘সমর সিংহ চত্বর’ নামকরণ করা হয়।

Additional information