শতবছরের রাজনীতি-২

অ্যাডভোকেট আঃ ওয়াজেদ চৌধুরী

এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা, নিষ্ঠাবান একজন রাজনীতিবিদের নাম আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী। বরাট ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামে জন্ম নেওয়া এ রাজনীতিক জীবন সায়াহ্নেও রাজনীতির কিংবদন্তি পুরুষ। রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যায়নকালেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। জাতীয় চেতনায় এ বীর মাতৃভাষার দাবিতে সৈনিকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তিনি নিজেকে সমর্পন করেন এবং ১৯৫২ সালের ২১

ফেব্রয়ারি মিছিলে যোগদান করেন। মিছিলে থাকাকালীন তিনি বাম হাতে গুলিবিদ্ধ হন। সারাজীবনই তিনি আঘাতের চিহ্ন এবং ভাষা শহীদের স্মৃতি বহন করেছেন। ১৯৪৭ পরবর্তী পাকিস্তান রাজনীতির টালমাটাল দিনে বিচার বিভাগের সরকারি চাকরি (মুন্সেফ) ইস্তফা দিয়ে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে রাজবাড়ি-গোয়ালন্দ এলাকা থেকে এমএলএ নির্বাচিত হন। এ সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আহম্মেদ আলী মৃধা। এমএলএ থাকাকালীন তরুণ রাজনীতিবিদ ভাষার দাবিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা

রাখেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হিসেবে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের শক্ত ভিত রচনা করেন। আইয়ুব শাহীর বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠ। হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। ছয় দফার আন্দোলনে তিনি অগ্রসেনার ভূমিকা পালন করেন। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা  দেখা যায়। তিনি ষাটের দশকের শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালে তৎকালীন সরকার সমস্ত মহকুমায় একজন করে জেলা (রাজনৈতিক) গভর্নর ঘোষণা করলে তিনি রাজবাড়ি জেলা গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন রাজবাড়ি বারের বিজ্ঞ আইনজীবী। অকুতোভয় বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী ন্যায় প্রতিষ্ঠায় স্পষ্টবাদী ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ি-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক। তিনি ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই পরলোকগমন করেন।

মোসলেম উদ্দিন মৃধা

রাজবাড়ি জেলার রাজনীতির অঙ্গনে এক ক্ষণজন্মা পুরুষ মোসলেম উদ্দিন মৃধা। বৃটিশ ভারত, পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তাঁর সদর্প বিচরণ আমাদের গর্বিত করে তোলে। রাজনীতির ফাঁকে ফাঁকে মানুষ গড়ার শিল্পী হিসেবে একজন সুবেদিত শিক্ষক, জাতি গঠনের অভিভাবক। ১৯১৪ সালে মোসলেমউদ্দিন মৃধা পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সুজা উদ্দিন মৃধা। দুবছর বয়সেই তিনি পিতৃহারা হন। বিদূষী মাতা সন্তানের লেখাপড়ায় যত্নবান হন। তিনি ছিলেন অতিমেধাবী ছাত্র। কাজী আবুল হোসেন পাঠশালা থেকে প্রাইমারী বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। সেনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিদ্যোৎসাহী শিক্ষক আমানত আলী মল্লিকের স্নেহছায়া ও প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধানে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৩৬ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি বেঙ্গল রেলওয়ের এ্যকাউন্টস বিভাগে যোগদান করেন। রেলওয়েতে চাকরিরত থাকা অবস্থায় তিনি রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট হন। ১৯৪২ সালে যে ঐতিহাসিক ধর্মঘট সংগঠিত হয় তার নেতৃত্ব দেন মোসলেম উদ্দীন মৃধা।

Additional information