শতবছরের রাজনীতি-২ - পৃষ্ঠা নং-১১

মোঃ জিল্লুল হাকিম

কাজী কেরামত আলী ও জিল্লুল  হাকিম মোঃ জিল্লুল হাকিম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। রাজবাড়ি কলেজে অধ্যায়নকালে বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র জিল্লুল হাকিম ছাত্রলীগের রাজনীতির নেতৃত্ব দান করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অসম সাহসী জিল্লুল হাকিম বীরের মতো সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভারতে ট্রেনিং নিয়ে ১৭ জন সঙ্গীসহ পাংশা আগমন করেন। বৃহৎ একটি মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন করে বালিয়াকান্দি ও পাংশায় ৬/৭টি সফল অপারেশন সম্পন্ন করেন। তাঁর গেরিলা প্র্রশিক্ষণ ছিল নিখুঁত। তাঁর উপর নানাভাবে আক্রমণ হলেও গেরিলা প্রশিক্ষণের জন্য বেঁচে যান। এই মেধাবী ছাত্র মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেলেও মানবসেবার ব্রত নিয়ে রাজনৈতিক জীবনকেই বেছে নেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ি-২ আসন (পাংশা - বালিয়াকান্দি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানা উন্নয়ন মূলক কাজ করছেন। পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে জোরালো ভূমিকা রাখছেন। মোঃ জিল্লুল হাকিম ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন।

 মোঃ নাসিরুল হক সাবু

পাংশা উপজেলার এক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মোঃ নাসিরুল হক (সাবু)। ১৯৭১ সালে নিজস্ববাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে রাজবাড়ি জেলায় এ দলের নেতৃত্বে আছেন। এক সময় তিনি দলের জেলা পর্যায়ে নেতৃত্বদান করেন। এলাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট। ২০০১ সালে তিনি রাজবাড়ি-২ আসন (পাংশা-বালিয়াকান্দি) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হাসিমাখা ভদ্র এ তরুণ নেতা এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত।

কাজী কেরামত আলী

কাজী কেরামত আলী এমপিবিনয় ও ভদ্রতার অনন্য প্রতীক কাজী কেরামত আলী রাজনীতির অঙ্গনে সুপরিচিত নাম। শ্রেণিকক্ষে পাঠের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ এবং শ্রেণিপাঠ শেষ হলে সব কোলাহল ভেদ করে যথার্থ ক্যাম্পাস ত্যাগ, আমার স্মৃতিতে ভাসমান। পিতা-কাজী হেদায়েত হোসেন ছিলেন রাজবাড়ির রাজনীতির অঙ্গনে পুরোধা ব্যাক্তিত্ব। রাজনীতির পরিমণ্ডরে বেড়ে ওঠা কাজী কেরামত হয়ত রাজনীতির সাথে জড়িত হতে চাননি। রাজবাড়ির শান্ত শ্যামল পরিবেশ, প্রবাহমান পদ্মার দিগন্ত রেখা তাঁর শিল্পী মনের বিকাশ ঘটায়। এরপরেও তিনি গণমানুষের ভালোবাসা ও কল্যাণ কামনা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেন না। ১৯৯১ তে সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনে কাজী কেরামত আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি রাজবাড়ি-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত কাজী কেরামত আলী রাজনীতির অঙ্গনে বিশিষ্টতা অর্জন করেছেন। বিশ বছরের অধিককাল জাতীয় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট এই রাজনীতিবিদ জাতীয় রাজনীতির বিকাশ ও পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য নানা কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছেন। নদীভঙ্গন রোধসহ মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট উন্নয়নে তাঁকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনকারী কাজী কেরামত রাজনীতির অঙ্গনে জনপ্রিয় নেতা।

Additional information