শতবছরের রাজনীতি-২ - পৃষ্ঠা নং-১২

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপিগণমানুষের কল্যাণ, সামাজিক অস্তিত্ব, চিন্তা চেতনার বিকাশ আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোয় নিহীত। স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতি রাষ্ট্রকাঠামোর শক্ত ভিত রচনা করে। আর এই শক্ত ভিত সামাজিক কল্যাণের বাহক। আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। রাজবাড়ি তথা জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সুপরিচিত নাম।

রাজনীতির আবহমণ্ডলে তিনি বেড়ে ওঠেন। পরিণত বয়সে রাজনীতি ধ্যান জ্ঞানে পরিণত হয়। জেষ্ঠ্য ভ্রাতা গরিব নেওয়াজ একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ। ভ্রাতা আল্লা নেওয়াজ খায়রু ছিলেন তুখোর বামপন্থী রাজনীতিবিদ। পিতা খ্যাতিমান হোমিও চিকিৎসক ডা. এমএ ওয়াহেদ ছিলেন রাজনীতি সচেতন। আল্লা নেওয়াজ খায়রুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ছাত্রজীবনেই বাম রাজনীতিতে ঘনিষ্ঠ হন। এ ধারার মধ্য দিয়েই তিনি পর পর তিনবার রাজবাড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগদান করেন। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদের নির্বাচনে তিনি রাজবাড়ি-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি পৌরসভাকে আধুনিক রুপকল্পে সজ্জিত করেন। রাজবাড়ি শহরের প্রবেশ সড়ককে তিনি দ্বিমুখী সড়কে রুপান্তর করে অলঙ্কারিক বৃক্ষে সুশোভিত করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল কলেজের নানা উন্নয়নমুখী কাজ করেন।

এই রাজনীতিককে প্রায়শই টিভিতে নানা টক শো এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সকল অনুষ্ঠানে তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শ্রোতাকে আকৃষ্ট করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্টবিজ্ঞানে এমএ পাস এ প্রাজ্ঞ রাজনীতিক, রাজনীতির অঙ্গন সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

মোঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস

রাজবাড়ি জেলার রাজাপুর গ্রামের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবদুল ওহাব বিশ্বাসের পুত্র মোঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হন। তিনি রাজবাড়িতে তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব। সবার প্রিয় ইমদাদুল হক বিশ্বাস এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশেষভাবে তৎপর থাকেন। বর্তমানে তিনি রাজবাড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। কেবল রাজনীতির অঙ্গনেই নয় সমাজ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তৃতা বিবৃতি দিক নির্দেশনামূলক ও আকর্ষণীয়। সুপণ্ডিত ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজাপুর গ্রামে ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক এবং বসন্ত পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যন ছিলেন। তিনি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন।

ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজাপুর ইয়াছিন হাই স্কুল থেকে ১৯৬৯ এ এসএসসি সরকারি ইয়াছিন কলেজ ফরিদপুর থেকে ১৯৭২ সালে এইচ এস সি পাস করেন। এরপর ১৯৭৮ সালে টিএন্ডটি কলেজ থেকে স্নাতক এবং ১৯৮২ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে ফরিদপুর ল’ কলেজ থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ইমদাদুল হক বিশ্বাস ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত । ১৯৮৫, ১৯৯০ এবং ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনবারই রাজবাড়ি সদর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সৎ নিষ্ঠাবান ও জনসেবক ইমদাদুল হক বিশ্বাস স্বচ্ছ রাজনীতি চর্চায় স্থানীয় রাজনীতির উৎকর্ষ সাধনে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন।

Additional information