শতবছরের রাজনীতি-২ - পৃষ্ঠা নং-৩

কাজী হেদায়েত হোসেন

কাজী হেদায়েত হোসেনরাজবাড়ি শহর উন্নয়ন, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষার শেকড় বিস্তারের দিকে দৃষ্টি ফেরালে কাজী হেদায়েত হোসেন বহুল আলোচিত নাম। মেধা, কর্মদক্ষতা, কর্মপরিকল্পনা, জাতীয় চেতনার নানা গুণাবলীর সংমিশ্রণ ঘটেছিল তাঁর মধে। ফলে অল্পসময়ে তিনি জীবনের নানা ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করেন। সামাজিক সৌহার্দ  প্রতিষ্ঠায় তাঁর সতত প্রচেষ্টা, হিংসা বিদ্বেষের উর্ধে্ব উদার মনোভাব পোষণ, মানুষের কল্যাণে কর্মতৎপরতা ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুব বেশি ছিল না কিন্তু জীবন অভিজ্ঞতায় তিনি ছিলেন দুর্গম পথের দিশারী। প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন জীবনের নানা ক্ষেত্রে।

কাজী হেদায়েত হোসেন রাজবাড়ি শহরের নিকটবর্তী ধুনচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন ব্যবসায়ী। কাজী হেদায়েত হোসেন নিজেও ব্যবসা সূত্রে অর্থ-বিত্তের মালিক হন এবং রাজবাড়ি শহরে প্রচুর ভূ-সম্পত্তি ক্রয় করেন। তিনি শহরের একজন স্বচ্ছল ও ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরিণত বয়সে তিনি রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তিনি রাজবাড়িতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাজবাড়িতে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন, রাজবাড়ি কলেজ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে এমপিএ নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। হানাদারবাহিনী যাতে গোয়ালন্দ ঘাট পার হতে না পারে সেজন্য তিনি রাজবাড়ির মানুষকে আহবান জানান এবং সংগঠিত করেন। জনগণ তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে ২৭ মার্চ গোয়ালন্দে সমবেত হয়। এরপর তিনি ভারতে পাড়ি জমান এবং কল্যাণী ট্রানজিট ক্যাম্পের দায়িত্ব নেন। শরণার্থীদের থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা করেন। রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর উদ্যোগ শ্রেষ্ঠকর্ম বলে বিবেচিত। কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কাজী আজহার আলীকে উদ্যোগী করে তোলেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার দ্বার উম্মোচিত হয়। তিনি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। ছাত্রদের বৃত্তি ও লজিং এর ব্যবস্থা করে গরিব মেধাবী ছাত্রদের সাহায্য করতেন। রাজবাড়ি কলেজে চাকরি হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে লেখক (মতিয়র রহমান) কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করে। পৌরবাসীর জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণপুরুষ। তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পৌরবাসীর কল্যাণে নানা কাজ সম্পাদন করেন। কাজী হেদায়েত হোসেন রাজবাড়িতে রাজনীতির ঐতিহ্যের ধারক। সে ঐতিহ্যের ধারা এখনো বহমান। তাঁর পুত্র কাজী কেরামত আলী ১৯৯৩ (উপ-নির্বাচন), ১৯৯৬ এবং ২০০৮ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আরেক পুত্র কাজী এরাদত হোসেন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। কাজী হেদায়েত হোসেন ১৯৭৫ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।

মোঃ সামসুল আলম (গগন ভাই)

রাজবাড়ির রাজনীতির অঙ্গনে মরহুম সামসুল আলম এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব। নিরহঙ্কর, নির্লোভ, আত্মত্যাগী এই রাজনীতিক রাজনীতির অঙ্গনে দিকদ্রষ্টা। সাহস ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দ্বারা কেবল রাজবাড়ি নয়, জাতীয় পর্যায়ে রেখে গেছেন স্মরণীয় অবদান। ছাত্রজীবন থেকে যেমন শ্রেণিসংগ্রাম, ভাষার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় তেমনি পরিণত বয়সে যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফার আন্দোলন, ‘৬৯ এর গণআন্দোলন, মুক্তিযু্দ্ধ এবং আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সাহসী সহযোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। মোঃ সামসুল আলম ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহছেন উদ্দিন ছিলেন রেলের অফিসার।

Additional information