শতবছরের রাজনীতি-২ - পৃষ্ঠা নং-৪

সামসুল আলম ১৯৪২ সালে রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশন থেকে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কলিকাতায় স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। এরপর ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধুর সতীর্থ। বেকার হোস্টেলে থাকাকালীন বামপন্থী নেতা আবুল হাসেমের নেতৃত্বাধীন বাম ধারায় সম্পৃক্ত হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে যোগদান করলে লাঠিচার্জে আহত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন। সরকারি চাকরি ত্যাগ করে রাজবাড়ি বারে ওকালতি শুরু করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াজেদের পক্ষে গণচেতনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, শামসুল আলম, আবদুল মান্নান, তাজউদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়ার আলতাফ হোসেন এবং বামপন্থী চিন্তক ড. আবু আহমেদ ও আখলাকুর রহমানের মতো মানুষের সঙ্গী হিসেবে রাজনীতি ও মানুষের শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা ছিল তাঁর রাজনীতির আদর্শ।

ধানমন্ডি ট্রাজেডির পর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি রাজবাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রাণ-সঞ্চারে অকুতোভয় নেতার ভুমিকায় কাজ করেন। মানুষের কল্যাণ কামনাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। রাজবাড়িতে তিনি গরিবের উকিল বলে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এবং রাজবাড়ি জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালে শাহাদত বরণ করেন। তাঁর এক পুত্র শফিকুল আজম মামুন বর্তমান জিপি। আর এক পুত্র নিবেদিত শিক্ষক শফিউল আজম মুনিম সহকারি অধ্যাপক।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ

রাজনীতি ও অত্র এলাকায় ব্যবসা ও শিল্পপ্রসারে বিশেষ একটি নাম নিজাম উদ্দিন আহমেদ। সাধারণ মানুষের নিকট তিনি নিজাম সাহেব বলে পরিচিত। জন্ম ১৯২৩ সালে গোয়ালন্দের পশ্চিম উজানচরে। পিতা মোঃ বকাই সরদার ছিলেন জমিদার। জমিদারীসূত্রে অর্থবিত্তের মালিক হলেও তিনি বন্দর নগরী গোয়ালন্দে নানা ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। পারিবারিক পরিবেশ পড়ালেখা করে শিক্ষিত হয়ে ওঠেন। গোয়ালন্দ ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র। বিশিষ করে মৎস্য ব্যবসার ক্ষেত্র হিসেবে গোয়ালন্দের সুনাম ছিল। স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যবসায়ীদের দ্বারা গড়ে ওঠে ফিস মার্চেন্ট এসোসিয়েশন। নিজাম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন এই ফিস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। পরবর্তীতে তিনি উজানচর ইউনিয়ন বোর্ডের সভাপতি এবং গোয়ালন্দ মহকুমার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এমপিএ নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালে রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি প্রতি বান্ডিল বরফ থেকে অর্থ আদায় করে কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি নিজ অর্থ ব্যয়ে গোয়ালন্দে আল নিজামিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। নিজামউদ্দিন আহমেদের বিশেষ কৃতিত্ব রাজবাড়ির একমাত্র বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান গোয়ালন্দ টেক্সটাইল মিল। এ মিলটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলে এক হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মিলটি জাতীয়করণ করা হলে মিলটি বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হয়। লোকসানের বোঝাসহ ১৯৮০ সালে তা আবার ফিরিয়ে দেয়া হয়। নিজাম উদ্দিন আহমেদের দক্ষ পরিচালনায় মিলটি পূর্ব গৌরব ফিরে পায়। একজন সমাজসেবক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি হিসেবে তিনি সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন।

Additional information