শতবছরের রাজনীতি-২ - পৃষ্ঠা নং-৬

মোঃ সিরাজুল ইসলাম মৃধা

বালিয়াকান্দি থানার এক বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম মৃধা সকলের নিকট পরিচিত সিরাজ মৃধা। তিনি ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন (বিএনপি)। তার কথায়, চলায়, বলায় কিছুটা মোড়লী ভাব থাকলেও তিনি বাস্তবে ছিলেন সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। তিনি সাধারণ মানুষের নিকট অতিকাছের মানুষ ছিলেন এবং মানুষের সমস্যা সমাধানই যেন ছিল তার কাজ। তার পুত্র শওকত সিরাজ এলাকার প্রিয় মানুষ।

এবিএম গোলাম মোস্তফা (এম)

কালের ফুল অকালে ঝরে যায়। গোলাম মোস্তফা (এম) এর বিষয়টিও তাই। রাজবাড়ি কলেজের বিশিষ্ট ছাত্রনেতা ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই মনে হত এ ছেলেটি একদিন কিছু করবে। পরিণত জীবনে এসে সে অনুমানটি সঠিক হলো। তিনি ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট জিয়া এ তরুণ এমপিকে বিশেষ স্নেহ করতেন। রাজবাড়িকে নিয়ে গোলাম মোস্তফার অনেক স্বপ্ন ছিল। এমপি থাকাকালে তিনি রাজবাড়ির উন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান। গোলাম মোস্তফা জন্ডিস রোগে অকালে মৃত্যুবরণ করেন।

আল্লা নেওয়াজ খায়রু

ষাটের দশকে গণমুক্তির রাজনীতির দুটি ধারা লক্ষ্য করা যাবে। এক পাকিস্তানিদের শোষণ থেকে পূর্ব-পাকিস্তানকে রক্ষা, অন্যটি সমাজতান্ত্রিক চেতনায় শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করা। শেষোক্ত ধারার রাজনীতির উদ্দেশ্য ছিল একমাত্র শোষণ মুক্তির মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব। এই শেষোক্ত ধারার রাজনীতির স্থানীয় ছাত্র সংগঠনের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের মধ্যে আল্লা নেওয়াজ খায়রু অন্যতম। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে রাজবাড়িতে বামপন্থী দলের যে সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয় তার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বে ছিলেন আল্লা নেওয়াজ খায়রু। আল্লা নেওয়াজ ১৯৬৯ এর গণআন্দোলনের পরপরই ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে রাজনীতির গোপন তৎপরতায় চলে যান। আন্ডাগ্রাউন্ড থাকাকালীন তিনি বিভিন্নভাবে স্থানীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলেন। ৬/৭ বছর রাজনীতির গোপন তৎপরতায় থাকার পর তিনি খোলা রাজনীতিতে ফিরে আসেন। তার পিতা ডা. আব্দুল ওয়াহেদ এবং ভ্রাতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তাঁর নামে আল্লা নেওয়াজ খায়রু একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কমলকৃষ্ণ গুহ

কমিউনিস্ট আন্দোলন ও কমিউনিস্ট রাজনীতির নেতৃত্বে কমলকৃষ্ণ গুহ এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৭ সালে রাজবাড়ি জেলার ছাইবাড়িয়া গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার ভ্রাতা কালীকৃষ্ণ গুহ পশ্চিমবাংলার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী এবং বিশিষ্ট কবি। কমলকৃষ্ণ গুহ ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন এবং ফরিদপুর আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি পাংশা কলেজে গণিতের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর চাকরি ছেড়ে রাজবাড়ি কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হন।

Additional information