শতবছরের রাজনীতি-২ - পৃষ্ঠা নং-৭

১৯৬৮ সালে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগদান করেন। তিনি ন্যাপের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে পাংশার মোসলেম উদ্দিন মৃধার ছেলে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মিছিলে গুলিতে নিহত হলে কমলকৃষ্ণ গুহ আজাদী ময়দানে সভায় ক্ষোভে ফেটে পরেন। তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৫ পর্যন্ত উক্ত পার্টির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কমরেড আশু ভরদ্বাজের নিত্যসঙ্গী ছিলেন। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন, স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংগ্রাম, কৃষক ক্ষেতমজুর আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি বহু ছোট গল্প কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে গেছেন।

এবিএম নুরুল ইসলাম

সদালাপী, সদাহাস্য, সহজ সরল ব্যক্তিত্ব এবিএম নুরুল ইসলাম। প্রবীন রাজনীতিবিদ, হাইকোর্টের উকিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার চেয়ারম্যন, পরিচালক। রাজবাড়ির মানুষের কাছে সুপরিচিত নাম। আইনের সূক্ষ্ণ বিশ্লেষক। ক্ষেত্রবিশেষে জাতির পরামর্শক। ছাত্র থাকাকালীন তাঁর লেক সার্কাসের বাসায় গিয়ে আতিথ্যে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

১৯৩৭ সালে এবিএম নুরুল ইসলাম পাংশা উপজেলাধীন হোগলাডাঙ্গী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহা্জ্ব মোঃ আবদুস সাত্তার ‘সাত্তার হাজী’ নামে পাংশা এলাকায় খুবই সুপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। ছাত্রজীবনেই এবিএম নুরুল ইসলাম রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে এসএম মুসলিম হলের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ছাত্র সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৬১ সালে ঢাকা হাইকোর্টের বার কাউন্সিলে যোগদান করেন। ১৯৬৫ সালে গোয়ালন্দ মহকুমা ও মানিকগঞ্জ থেকে জাতীয় পরিষদের এমএনএ নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে গোয়ালন্দ মহকুমার জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি পাংশা হোগলাডাঙ্গী কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।

ডা. এস এ মালেক

ডাঃ এস এ মালেক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. এসএ মালেক স্পষ্টবাদী, নির্ভীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একজন রাজনীতিবিদই নন, রাজবাড়িতে তিনি নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবেও পরিচিত। স্বাধীনতাত্তোরকালে তিনি যেমন রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তেমনি তার চিকিৎসা দিয়ে মানুষকে সেবা করেছেন। তাঁর পৈতিক নিবাস বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার মূলঘর ইউনিয়নের সৈয়দ মহল্লায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন রাজবাড়িতে কাটিয়েছেন। তিনি রাজবাড়ি আসন থেকে ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে ঢাকার একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং এমবিবিএস ডাক্তার হয়েও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও বঙ্গবন্ধ গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের (১৯৯৬) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন।

Additional information