শতবছরের রাজনীতি-২ - পৃষ্ঠা নং-৮

অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম

আহম্মদ আলী মৃধার পুত্র আহম্মদ মর্তফা (চুন্নু ভাই) দেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ছিলেন। তার স্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম বিএনপি সরকারের আমলে রাজবাড়ি, ফরিদপুর মহিলা ইউনিটে মহিলা এমপি  মনোনীত হন এবং পরবর্তীতে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি ঢাকা হোম ইকোনমিক্স কলেজ থেকে ১ম শ্রেণিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবে কাজ করেন। মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি রাজবাড়িতে জাতীয় এক্রোবেট, গণগ্রন্থগার ভিত্তি স্থাপন, জেলা মিল্পকলা একাডেমী উদ্বোধন, ধাওয়াপাড়া ঘাট উদ্বোধন, আহমেদ আলী মৃধা কলেজ প্রতিষ্ঠা, মাজবাড়ি জাহানারা বেগম কলেজ প্রতিষ্ঠা, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সমাবেশ ঘটান। তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তিনি রাজবাড়ি বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে এলডিপির সাধারণ সম্পাদক।

চিত্তরঞ্জন গুহ

রাজবাড়ি জেলার রাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিত নাম অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন গুহ। জেলা তথা জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। নিরহঙ্কর, নির্লোভ, সদালাপী চিত্তরঞ্জন গুহ রাজনীতির ক্ষেত্রে আদর্শের অনুসারী। তাঁর রাজনৈতিক বক্তৃতা, বিবৃতি, রাজনীতি চর্চা আকর্ষণীয় ও শিক্ষণীয়। ভাষার মাধুর্যে ও তাত্ত্বিকতায় তিনি বক্তৃতামঞ্চের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর বক্তৃতা না শুনে শ্রোতা সভাস্থল ত্যাগ করে না। চিত্তরঞ্জন গুহ ১৯৪০ সালে ৬ এপ্রিল রাজবাড়ির সজ্জ্বনকান্দায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সতীশ চন্দ্র গুহ। তৎকালীন রেলওয়ে স্কুল (ইয়াছিন স্কুল) থেকে তিনি প্রাইমারি শিক্ষা শেষ করে আরএসকে ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ এবং ১৯৬১ সালে রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে রাজবাড়ি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। অতঃপর ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল’ ফ্যাকল্টি থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকেন।

১৯৫৪ সালে তিনি গোয়ালন্দ মহকুমার পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরীর পক্ষে ব্যাপক উদ্যোমে কাজ করেন। চিত্তরঞ্জন গুহ একজন তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। রাজবাড়ি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের তিনি প্রথম সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। সে সময়ে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং বক্তৃতা প্রশসংসা ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে মুখে আলোচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে রাজবাড়ি কলেজের নানা বাধা বিপত্তির মুখে প্রথম ‘শহীদ মিনার’ নির্মাণ করা হয়। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রসেনা। সে সময়ে আইয়ুব সমর্থক খান এ সবুর রাজবাড়ি আগমন করলে তিনি কালো পতাকা প্রদর্শন করায় তাঁকে গ্রেপ্তার  করা হয়। তিনি জেলে বসে পরীক্ষা দিয়ে বিএ পাস করেন। রেল শ্রমিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পান। চিত্তরঞ্জন গুহ জগন্নাথ হলের ছাত্র ছিলেন এবং উক্ত হলের ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অধিবেশনে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি  নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি পলিটিক্যাল মটিভেটরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে ৩১ অক্টোবর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ‘জাসদে’ যোগদান কেরন। ১৯৭৩ সালে নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদের প্রার্থী হিসেবে রাজবাড়ি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ১৯৭৪ সালের মার্চে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার ও কারারুদ্ধ হন। ২৯ ডিএলআর এর মাধ্যমে রীট করে ১৯৭৬ সালে মুক্তি পান। পরে জাসদ থেকে পদত্যাগ করে গণফোরামে যোগদান করেন এবং বর্তমানে তিনি গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি রাজবাড়ির একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। কয়েকবার রাজবাড়ি বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি নিজেই কেবল সংস্কৃতিমনা নন তিনি প্রখ্যাত শিল্পী বামনদাস গুহের জামাতা। তাঁর এক কন্যার শ্বশুর বাংলাদেশ কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী সুভাষ দত্ত। তাঁর স্ত্রী দেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী দিপ্তী গুহ।

Additional information