শতবছরের রাজনীতি-২ - পৃষ্ঠা নং-১০

এই সময় সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পেশা বদল করেছেন। রাজমিন্ত্রীর জোগাল হিসেবে অনেক দিন কাজ করেছেন। কোলকাতায় ভাগ্য অন্বেষণে অনেক দিন রাজমিন্ত্রীর কাজ করেছেন। গান্ধীজী যখন মারা যান তখন  তিনি কাজের অন্বেষণে ভারতে। এরপর বিড়ি বাঁধার কাজ এবং এই সময়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সময়টা ১৯৪৭ পাকিস্তান আমল। শ্রেণি সংগ্রাম তার মনে বাসা বাঁধে। শ্রমজীবী মানুষদেরকে নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দেলন গড়ে তোলেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। শ্রমজীবী মানুষকে সংঘবদ্ধ করেন। এই সময় তিনি পাকিস্তান শোষকের রোষানলে পড়ে কারারুদ্ধ হন। ১৯৬৭/৬৮ সালে পাকিস্তান শোষকের ভয়ে আন্ডার গ্রাউন্ড এ যেতে বাধ্য হন। এই সময়ে সমর সিং এর সাহচার্যে আসেন। তিনি বাম রাজনীতির ধারায় আজীবন নিজেকে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

মোঃ রোকন উদ্দিন চৌধুরী

পদ্মার ভাঙ্গনের ফলে পাবনা অঞ্চল থেকে অনেক বিশিষ্ট পরিবার রাজবাড়িতে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে। রোকন উদ্দিন চৌধুরী এমনই একটি পরিবারের সন্তান। ছাত্রজীবন এডওয়ার্ড কলেজে পরবর্তীতে তিনি নানা কাজের মাধ্যমে রাজবাড়িতে অতিপরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি ‍মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। দ্বাদশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে সংশ্লিষ্ট। সমাজ হিতৈষী, কর্মঠ, সদালাপী রোকন চৌধুরী এলাকার প্রিয় ও অতি পরিচিত ব্যক্তি।

নাজিবর রহমান

নাজিবর রহমান রাজবাড়ি জেলার তৎকালীন ছাত্রনেতা। রাজবাড়ি কলেজের ১৯৬৬ সালের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের সাধারণ সম্পাদক (ছাত্রলীগ) শিল্প ব্যাংকের পরিচালক। ১৯৭৩ সালে রাজবাড়ি পৌরসভার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান নজিবর রহমান রাজবাড়ির কৃতি সন্তান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক। অমায়িক ব্যবহার আর সরলতায় তিনি সকলের নাজিবর ভাই। মুক্তিযুদ্ধে ছোট ভাইকে হারিয়েছেন। ব্যকুল হৃদয় আজও উদ্বেলিত হয় তার স্মৃতিতে। জেলার বিশিষ্ট এ রাজনীতিকের নিকট থেকে এলাকার মানুষ উন্নয়ন তরান্বিত হওয়ার আশা রাখে। তিনি ঢাকা এফবিসিসিআই এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। পরিচালক জনতা ব্যাংক লিমিটেড।

মোঃ আব্দুল মতিন

রাজবাড়ি জেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবদি, সামজ সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন। তিনি পাংশার সন্তান। রাজবাড়ি কলেজে ছাত্র থাকাকালীন তিনি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হন। একাত্তরের যুদ্ধে তিনি নিজস্ববাহিনী গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি রাজবাড়ি জেলা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৃষ্ট লগ্ন থেকে সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে  এ দলের নেতৃত্ব দেন। আবদুল মতিন ১৯৮৮ সালে নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট।

Additional information