শতবছরের রাজনীতি-২

অ্যাডভোকেট আঃ ওয়াজেদ চৌধুরী

এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা, নিষ্ঠাবান একজন রাজনীতিবিদের নাম আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী। বরাট ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামে জন্ম নেওয়া এ রাজনীতিক জীবন সায়াহ্নেও রাজনীতির কিংবদন্তি পুরুষ। রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যায়নকালেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। জাতীয় চেতনায় এ বীর মাতৃভাষার দাবিতে সৈনিকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তিনি নিজেকে সমর্পন করেন এবং ১৯৫২ সালের ২১

ফেব্রয়ারি মিছিলে যোগদান করেন। মিছিলে থাকাকালীন তিনি বাম হাতে গুলিবিদ্ধ হন। সারাজীবনই তিনি আঘাতের চিহ্ন এবং ভাষা শহীদের স্মৃতি বহন করেছেন। ১৯৪৭ পরবর্তী পাকিস্তান রাজনীতির টালমাটাল দিনে বিচার বিভাগের সরকারি চাকরি (মুন্সেফ) ইস্তফা দিয়ে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে রাজবাড়ি-গোয়ালন্দ এলাকা থেকে এমএলএ নির্বাচিত হন। এ সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আহম্মেদ আলী মৃধা। এমএলএ থাকাকালীন তরুণ রাজনীতিবিদ ভাষার দাবিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা

রাখেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হিসেবে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের শক্ত ভিত রচনা করেন। আইয়ুব শাহীর বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠ। হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। ছয় দফার আন্দোলনে তিনি অগ্রসেনার ভূমিকা পালন করেন। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা  দেখা যায়। তিনি ষাটের দশকের শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালে তৎকালীন সরকার সমস্ত মহকুমায় একজন করে জেলা (রাজনৈতিক) গভর্নর ঘোষণা করলে তিনি রাজবাড়ি জেলা গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন রাজবাড়ি বারের বিজ্ঞ আইনজীবী। অকুতোভয় বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী ন্যায় প্রতিষ্ঠায় স্পষ্টবাদী ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ি-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক। তিনি ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই পরলোকগমন করেন।

মোসলেম উদ্দিন মৃধা

রাজবাড়ি জেলার রাজনীতির অঙ্গনে এক ক্ষণজন্মা পুরুষ মোসলেম উদ্দিন মৃধা। বৃটিশ ভারত, পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তাঁর সদর্প বিচরণ আমাদের গর্বিত করে তোলে। রাজনীতির ফাঁকে ফাঁকে মানুষ গড়ার শিল্পী হিসেবে একজন সুবেদিত শিক্ষক, জাতি গঠনের অভিভাবক। ১৯১৪ সালে মোসলেমউদ্দিন মৃধা পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সুজা উদ্দিন মৃধা। দুবছর বয়সেই তিনি পিতৃহারা হন। বিদূষী মাতা সন্তানের লেখাপড়ায় যত্নবান হন। তিনি ছিলেন অতিমেধাবী ছাত্র। কাজী আবুল হোসেন পাঠশালা থেকে প্রাইমারী বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। সেনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিদ্যোৎসাহী শিক্ষক আমানত আলী মল্লিকের স্নেহছায়া ও প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধানে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৩৬ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি বেঙ্গল রেলওয়ের এ্যকাউন্টস বিভাগে যোগদান করেন। রেলওয়েতে চাকরিরত থাকা অবস্থায় তিনি রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট হন। ১৯৪২ সালে যে ঐতিহাসিক ধর্মঘট সংগঠিত হয় তার নেতৃত্ব দেন মোসলেম উদ্দীন মৃধা।


তাঁর নেতৃত্বে এ ধর্মঘটের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য নানা দাবি দাওয়া আদায় করা সম্ভব হয়। তখন থেকেই তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে তিনি রেলওয়ে এ্যাকাউন্টস লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এছাড়া তিনি চাকরির কর্মস্থল সূত্রে চট্রগ্রাম ব্যাংক কর্মচারী লীগ, চট্রগ্রাম পোর্ট কর্মচারী লীগ, কালুরঘাট জুট কর্মচারী লীগ ও পূর্ব-পাকিস্তান রেলওয়ে কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মুসলিমলীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবির প্রতি তাঁর সমর্থন ছিল। মূলত তিনি ছিলেন শোষিত মানুষের দাবি আদায়ের নেতা। ১৯৫২ সালে তিনি নিখিল পাকিস্তান মজদুর ফেডারেশনের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর লেখনীর মাধ্যমেও শোষণের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন ও সংগঠিত করেছেন। চট্রগ্রাম থেকে প্রকাশিত ‘পরিচয়’ পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন। ফরিদপুরের সৈয়দ আবদুর রবের পত্রিকায় এবং জগদীশ ভট্রাচার্যে ‘প্রাত্যই’ পত্রিকায় কাজ করেছেন। চৌধুরী হারুন অর রশীদের ‘আওয়াজ’ পত্রিকায় ছদ্মনামে ‘পাকি অর্থনীতির উপর এক নজর ও পাকিস্তান অর্থনীতির উপর আরেক নজর’ প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে লেখাটি কলিকাতা থেকে প্রকাশিত সত্যেন মজুমদারের ‘সত্যযুগে’ প্রকাশিত হলে পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ১৯৫৪ সালে তিনি মুক্তি পান। জেলে থাকাবস্থায় তাঁর পরিবারের সাহায্যের জন্য রেলওয়ে শ্রমিকরা চট্রগ্রামে ‘মোসলেম নগর’ নামে একটি হস্তশিল্প বসান। জেল থেকে মুক্তি পেয়েও তিনি প্রায় দু-বছর পাংশায় নিজ গৃহে অন্তরীণ থাকেন। অতঃপর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং ১৯৫৬ সালে গোয়ালন্দ মহকুমায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৮ সালে তিনি ড. কাজী মোতাহার হোসেনের অনুরোধে হাবাসপুর কাশিমবাজার হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং পরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি অবকাঠামো ও ফলাফলে জেলার অন্যতম বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। ১৯৭০ সালে তিনি চাকরি ত্যাগ করে রাজনীতিতে ফিরে আসেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে এমপিএ নির্বাচিত হন। স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে রাজবাড়ি মুক্তিযুদ্ধ কমিটি গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয়। মুজিবনগর সরকার গঠনের পর রানাঘাট থেকে কলিকাতার সল্টলেক পর্যন্ত যুদ্ধশিবিরগুলোর দায়িত্ব তাঁর উপর পড়ে। তিনি নিষ্ঠার সাথে তা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিরবে নিভৃতে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। মানবপ্রেমী, নিষ্ঠাবান কর্মী, নিবেদিত রাজনীতিবিদ, দক্ষ শিক্ষক, সংগঠক মোসলেম উদ্দিন মৃধা ১৯৯২ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন।

ডা. এসএম ইয়াহিয়া

রাজবাড়ি জেলা তথা দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষের কাছে নিমতলার ডাক্তার ইয়াহিয়া অতি পরিচিত ব্যক্তি। বাজারের মধ্যে তার ডিসপেনসারির নিকট একটি বড় নিমগাছ ছিল। নিবেদিত প্রাণ এই হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের হাতের ছোঁয়ায় হাজার হাজার রোগী রোগমুক্তির পর তাঁর (ইয়াহিয়া) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। তাঁর হোমিওপ্যাথিক প্রাকটিসের হাত তুলনাহীন। দীর্ঘ ৫০ বৎসরের বেশি তিনি এ পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। ডা. ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আত্মীয়। ডা. ইয়াহিয়া রাজবাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদেহী, অমায়িক ব্যবহারের এই মানুষটি রাজনীতিতে অনেককাল জড়িত থাকলেও তাঁকে বিশেষ কোনো দলের লোক বলে মনে হয় নাই। তিনি যেন একজন ডাক্তার, একজন মানুষ, একজন সেবক। বয়সের ভারে চলাফেরা করতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি নিজ বাড়িতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতেন। সম্প্রতি তিনি পরলোকগমন করেছেন।


কাজী হেদায়েত হোসেন

কাজী হেদায়েত হোসেনরাজবাড়ি শহর উন্নয়ন, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষার শেকড় বিস্তারের দিকে দৃষ্টি ফেরালে কাজী হেদায়েত হোসেন বহুল আলোচিত নাম। মেধা, কর্মদক্ষতা, কর্মপরিকল্পনা, জাতীয় চেতনার নানা গুণাবলীর সংমিশ্রণ ঘটেছিল তাঁর মধে। ফলে অল্পসময়ে তিনি জীবনের নানা ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করেন। সামাজিক সৌহার্দ  প্রতিষ্ঠায় তাঁর সতত প্রচেষ্টা, হিংসা বিদ্বেষের উর্ধে্ব উদার মনোভাব পোষণ, মানুষের কল্যাণে কর্মতৎপরতা ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুব বেশি ছিল না কিন্তু জীবন অভিজ্ঞতায় তিনি ছিলেন দুর্গম পথের দিশারী। প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন জীবনের নানা ক্ষেত্রে।

কাজী হেদায়েত হোসেন রাজবাড়ি শহরের নিকটবর্তী ধুনচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন ব্যবসায়ী। কাজী হেদায়েত হোসেন নিজেও ব্যবসা সূত্রে অর্থ-বিত্তের মালিক হন এবং রাজবাড়ি শহরে প্রচুর ভূ-সম্পত্তি ক্রয় করেন। তিনি শহরের একজন স্বচ্ছল ও ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরিণত বয়সে তিনি রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তিনি রাজবাড়িতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাজবাড়িতে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন, রাজবাড়ি কলেজ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে এমপিএ নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। হানাদারবাহিনী যাতে গোয়ালন্দ ঘাট পার হতে না পারে সেজন্য তিনি রাজবাড়ির মানুষকে আহবান জানান এবং সংগঠিত করেন। জনগণ তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে ২৭ মার্চ গোয়ালন্দে সমবেত হয়। এরপর তিনি ভারতে পাড়ি জমান এবং কল্যাণী ট্রানজিট ক্যাম্পের দায়িত্ব নেন। শরণার্থীদের থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা করেন। রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর উদ্যোগ শ্রেষ্ঠকর্ম বলে বিবেচিত। কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কাজী আজহার আলীকে উদ্যোগী করে তোলেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার দ্বার উম্মোচিত হয়। তিনি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। ছাত্রদের বৃত্তি ও লজিং এর ব্যবস্থা করে গরিব মেধাবী ছাত্রদের সাহায্য করতেন। রাজবাড়ি কলেজে চাকরি হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে লেখক (মতিয়র রহমান) কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করে। পৌরবাসীর জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণপুরুষ। তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পৌরবাসীর কল্যাণে নানা কাজ সম্পাদন করেন। কাজী হেদায়েত হোসেন রাজবাড়িতে রাজনীতির ঐতিহ্যের ধারক। সে ঐতিহ্যের ধারা এখনো বহমান। তাঁর পুত্র কাজী কেরামত আলী ১৯৯৩ (উপ-নির্বাচন), ১৯৯৬ এবং ২০০৮ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আরেক পুত্র কাজী এরাদত হোসেন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। কাজী হেদায়েত হোসেন ১৯৭৫ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।

মোঃ সামসুল আলম (গগন ভাই)

রাজবাড়ির রাজনীতির অঙ্গনে মরহুম সামসুল আলম এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব। নিরহঙ্কর, নির্লোভ, আত্মত্যাগী এই রাজনীতিক রাজনীতির অঙ্গনে দিকদ্রষ্টা। সাহস ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দ্বারা কেবল রাজবাড়ি নয়, জাতীয় পর্যায়ে রেখে গেছেন স্মরণীয় অবদান। ছাত্রজীবন থেকে যেমন শ্রেণিসংগ্রাম, ভাষার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় তেমনি পরিণত বয়সে যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফার আন্দোলন, ‘৬৯ এর গণআন্দোলন, মুক্তিযু্দ্ধ এবং আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সাহসী সহযোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। মোঃ সামসুল আলম ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহছেন উদ্দিন ছিলেন রেলের অফিসার।


সামসুল আলম ১৯৪২ সালে রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশন থেকে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কলিকাতায় স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। এরপর ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধুর সতীর্থ। বেকার হোস্টেলে থাকাকালীন বামপন্থী নেতা আবুল হাসেমের নেতৃত্বাধীন বাম ধারায় সম্পৃক্ত হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে যোগদান করলে লাঠিচার্জে আহত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন। সরকারি চাকরি ত্যাগ করে রাজবাড়ি বারে ওকালতি শুরু করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াজেদের পক্ষে গণচেতনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, শামসুল আলম, আবদুল মান্নান, তাজউদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়ার আলতাফ হোসেন এবং বামপন্থী চিন্তক ড. আবু আহমেদ ও আখলাকুর রহমানের মতো মানুষের সঙ্গী হিসেবে রাজনীতি ও মানুষের শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা ছিল তাঁর রাজনীতির আদর্শ।

ধানমন্ডি ট্রাজেডির পর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি রাজবাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রাণ-সঞ্চারে অকুতোভয় নেতার ভুমিকায় কাজ করেন। মানুষের কল্যাণ কামনাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। রাজবাড়িতে তিনি গরিবের উকিল বলে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এবং রাজবাড়ি জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালে শাহাদত বরণ করেন। তাঁর এক পুত্র শফিকুল আজম মামুন বর্তমান জিপি। আর এক পুত্র নিবেদিত শিক্ষক শফিউল আজম মুনিম সহকারি অধ্যাপক।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ

রাজনীতি ও অত্র এলাকায় ব্যবসা ও শিল্পপ্রসারে বিশেষ একটি নাম নিজাম উদ্দিন আহমেদ। সাধারণ মানুষের নিকট তিনি নিজাম সাহেব বলে পরিচিত। জন্ম ১৯২৩ সালে গোয়ালন্দের পশ্চিম উজানচরে। পিতা মোঃ বকাই সরদার ছিলেন জমিদার। জমিদারীসূত্রে অর্থবিত্তের মালিক হলেও তিনি বন্দর নগরী গোয়ালন্দে নানা ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। পারিবারিক পরিবেশ পড়ালেখা করে শিক্ষিত হয়ে ওঠেন। গোয়ালন্দ ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র। বিশিষ করে মৎস্য ব্যবসার ক্ষেত্র হিসেবে গোয়ালন্দের সুনাম ছিল। স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যবসায়ীদের দ্বারা গড়ে ওঠে ফিস মার্চেন্ট এসোসিয়েশন। নিজাম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন এই ফিস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। পরবর্তীতে তিনি উজানচর ইউনিয়ন বোর্ডের সভাপতি এবং গোয়ালন্দ মহকুমার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এমপিএ নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালে রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি প্রতি বান্ডিল বরফ থেকে অর্থ আদায় করে কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি নিজ অর্থ ব্যয়ে গোয়ালন্দে আল নিজামিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। নিজামউদ্দিন আহমেদের বিশেষ কৃতিত্ব রাজবাড়ির একমাত্র বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান গোয়ালন্দ টেক্সটাইল মিল। এ মিলটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলে এক হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মিলটি জাতীয়করণ করা হলে মিলটি বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হয়। লোকসানের বোঝাসহ ১৯৮০ সালে তা আবার ফিরিয়ে দেয়া হয়। নিজাম উদ্দিন আহমেদের দক্ষ পরিচালনায় মিলটি পূর্ব গৌরব ফিরে পায়। একজন সমাজসেবক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি হিসেবে তিনি সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন।


আক্কাস আলী মিয়া

আক্কাছ আলী মিয়া রাজবাড়ি জেলা তথা অত্র এলাকার স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব আক্কাস আলী মিয়া ১৯৩৮ সালে উত্তর দৌ্লতদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ওকিল উদ্দিন মিয়া। সাত বছর বয়সে পিতৃহারা এবং ৮ বছর বয়সে মাতৃহারা আক্কাস আলী মিয়া দাদীর স্নেহে লালিত পালিত হতে থাকেন। অতপর পাবনা জেলার বেড়া উপজেলাধীন ঢালার চরে বোনের আশ্রয়ে থেকে চর জাজিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করে রাজবাড়ির রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশনে (আর এস কে) ভর্তি হন। বিদ্যালয়ে লেখাপড়া বেশিদূর অগ্রগামী হয়নি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর সমাপ্তি ঘটে। তবে পরিণত জীবনে তিনি পাঠ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্যাসহ নান বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর সাথে ধর্ম, রাজনীতি, সমাজ সংগঠন নিয়ে কথা বললে স্বল্প শিক্ষিত বলে মনে হত না। যে কোনো বিষয়ে তাঁর ধ্যান ধারণা ছিল স্বচ্ছ। আত্মোপলদ্ধির বিষয়টি ছিল তাঁর সহজাত। তিনি ছিলেন স্পষ্টবাদী। ঘোরপ্যাঁচ রেখে কথা বলতেন না।

স্বাধীনচেতা আক্কাস আলী মিয়া কৈশোর থেকে আর্থিক বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে পদ্মা যমুনার সঙ্গমস্থলের জল মহালের জলকর আদায়ের কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। জলমহালের জমিদারীকালে তিনি ‘মালেক সাব’ বলে সাধারণ পরিচিতি লাভ করেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী ও চরাঞ্চলের মানুষ তাঁর আদেশ উপদেশ মেনে চলতে থাকে। তিনি হয়ে ওঠেন তাদের নেতা। জলমহালের নানা বিবাদ বিসম্বাদ বিচক্ষণতার সাথে মিমাংসা করতেন। তাঁর অধীনে পানসি নৌকা, রকেট নামের বৃহৎ নৌকা, লাঠিয়াল, মাঝি, নায়েব, গোমস্তার বিরাট বহর কাজ করত। ১৯৬২ সালে তিনি ঢালার চর ইউনিয়নের মেম্বার এবং পরে উক্ত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এ সময় থেকে তিনি রাজবাড়ি শহরে বসবাস শুরু করেন। অবশ্য ৪০ এর দশকে ঢালার চরের ভাঙ্গন শুরু হলে উক্ত চরের বিপুল সংখ্যক  মানুষ রাজবাড়ি শহরে বেড়াডাঙ্গা, লক্ষীকোল, বিনোদপুর, ধুঞ্চি এবং শহরের আশেপাশে বসতি গড়ে তোলে। তারা প্রায় সবাই আক্কাস মিয়া অনুসারী বলে পরিচিত ছিল যা এখনো বর্তমান রয়েছে। এই গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ চরের মানুষ বলে তাদের ধারণা পরিচিতি আছে। আক্কাস আলী মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তিনি কল্যাণী ক্যাম্পে বিশেষ তায়িত্ব পালন করেন।

তিনি রাজবাড়ি শহরের বিপুল মানুষের সমর্থনে ১৯৭৩ সালে রাজবাড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কাজী হেদায়েত হোসেনের সাথে রাজবাড়ির ‘দুই ব্যঘ্রের লড়াই’ বলে পরিচিত এ নির্বাচন ঐতিহাসিক নির্বাচন বলে মানুষ আজও স্মরণে রেখেছে। সে নির্বাচন সাজসজ্জা, প্রচার প্রচারণা, আনন্দ উল্লাস বিবিসি কর্তৃক প্রচারিত হত। তিনি দ্বিতীয়বার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন রাজবাড়ির হাট বাজারের উন্নতিসহ পৌর মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। আক্কাস আলী মিয়া জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠার পূর্বে জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা। পরে বিএনপির সভাপতি ও সংগঠক। ১৯৮৬ নির্বাচনে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। অত্র এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন। দৌলতদিয়া ঘাট স্থাপন, দৌলতদিয়া পর্যন্ত রেল সংস্থাপন তাঁর সম্মণীয় কাজ। ফরিদপুরের শ্রারামদি ঘাট স্থাপন পরিকল্পনাটি বাতিল করে তা দৌলতদিয়ায় স্থাপন আক্কাছ আলী মিয়ার প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছিল। দৌলতদিয়া ঘাট স্থাপনের ফলে রাজবাড়ি জেলার গুরুত্ব বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। তিনি একজন ইসলামী চিন্তাশীল ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কোর-আন হাদিস বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান রাখতেন এবং আধুনিক চেতনায় ব্যাখ্যা দিতেন। তিনি বেড়াডাঙ্গা রহিমুন্নেছা ইসলামী কিন্ডার গার্টেন ও ইসলামী জীবন গবেষণার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সন্তানেরা জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আক্কাছ আলী মিয়া ২০০০ সালে পরলোকগমণ করেন। রাজবাড়ি জেলা স্কুল মাঠে তাঁর জানাযা সম্পন্ন হয়। রাজবাড়ির মানুষের মনে এখনো তাঁর স্মৃতি অম্লান। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে আক্কাছ আলী স্মৃতি পরিষদ গঠিত হয়েছে।


মোঃ সিরাজুল ইসলাম মৃধা

বালিয়াকান্দি থানার এক বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম মৃধা সকলের নিকট পরিচিত সিরাজ মৃধা। তিনি ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন (বিএনপি)। তার কথায়, চলায়, বলায় কিছুটা মোড়লী ভাব থাকলেও তিনি বাস্তবে ছিলেন সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। তিনি সাধারণ মানুষের নিকট অতিকাছের মানুষ ছিলেন এবং মানুষের সমস্যা সমাধানই যেন ছিল তার কাজ। তার পুত্র শওকত সিরাজ এলাকার প্রিয় মানুষ।

এবিএম গোলাম মোস্তফা (এম)

কালের ফুল অকালে ঝরে যায়। গোলাম মোস্তফা (এম) এর বিষয়টিও তাই। রাজবাড়ি কলেজের বিশিষ্ট ছাত্রনেতা ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই মনে হত এ ছেলেটি একদিন কিছু করবে। পরিণত জীবনে এসে সে অনুমানটি সঠিক হলো। তিনি ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট জিয়া এ তরুণ এমপিকে বিশেষ স্নেহ করতেন। রাজবাড়িকে নিয়ে গোলাম মোস্তফার অনেক স্বপ্ন ছিল। এমপি থাকাকালে তিনি রাজবাড়ির উন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান। গোলাম মোস্তফা জন্ডিস রোগে অকালে মৃত্যুবরণ করেন।

আল্লা নেওয়াজ খায়রু

ষাটের দশকে গণমুক্তির রাজনীতির দুটি ধারা লক্ষ্য করা যাবে। এক পাকিস্তানিদের শোষণ থেকে পূর্ব-পাকিস্তানকে রক্ষা, অন্যটি সমাজতান্ত্রিক চেতনায় শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করা। শেষোক্ত ধারার রাজনীতির উদ্দেশ্য ছিল একমাত্র শোষণ মুক্তির মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব। এই শেষোক্ত ধারার রাজনীতির স্থানীয় ছাত্র সংগঠনের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের মধ্যে আল্লা নেওয়াজ খায়রু অন্যতম। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে রাজবাড়িতে বামপন্থী দলের যে সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয় তার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বে ছিলেন আল্লা নেওয়াজ খায়রু। আল্লা নেওয়াজ ১৯৬৯ এর গণআন্দোলনের পরপরই ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে রাজনীতির গোপন তৎপরতায় চলে যান। আন্ডাগ্রাউন্ড থাকাকালীন তিনি বিভিন্নভাবে স্থানীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলেন। ৬/৭ বছর রাজনীতির গোপন তৎপরতায় থাকার পর তিনি খোলা রাজনীতিতে ফিরে আসেন। তার পিতা ডা. আব্দুল ওয়াহেদ এবং ভ্রাতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তাঁর নামে আল্লা নেওয়াজ খায়রু একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কমলকৃষ্ণ গুহ

কমিউনিস্ট আন্দোলন ও কমিউনিস্ট রাজনীতির নেতৃত্বে কমলকৃষ্ণ গুহ এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৭ সালে রাজবাড়ি জেলার ছাইবাড়িয়া গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার ভ্রাতা কালীকৃষ্ণ গুহ পশ্চিমবাংলার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী এবং বিশিষ্ট কবি। কমলকৃষ্ণ গুহ ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন এবং ফরিদপুর আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি পাংশা কলেজে গণিতের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর চাকরি ছেড়ে রাজবাড়ি কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হন।


১৯৬৮ সালে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগদান করেন। তিনি ন্যাপের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে পাংশার মোসলেম উদ্দিন মৃধার ছেলে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মিছিলে গুলিতে নিহত হলে কমলকৃষ্ণ গুহ আজাদী ময়দানে সভায় ক্ষোভে ফেটে পরেন। তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৫ পর্যন্ত উক্ত পার্টির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কমরেড আশু ভরদ্বাজের নিত্যসঙ্গী ছিলেন। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন, স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংগ্রাম, কৃষক ক্ষেতমজুর আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি বহু ছোট গল্প কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে গেছেন।

এবিএম নুরুল ইসলাম

সদালাপী, সদাহাস্য, সহজ সরল ব্যক্তিত্ব এবিএম নুরুল ইসলাম। প্রবীন রাজনীতিবিদ, হাইকোর্টের উকিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার চেয়ারম্যন, পরিচালক। রাজবাড়ির মানুষের কাছে সুপরিচিত নাম। আইনের সূক্ষ্ণ বিশ্লেষক। ক্ষেত্রবিশেষে জাতির পরামর্শক। ছাত্র থাকাকালীন তাঁর লেক সার্কাসের বাসায় গিয়ে আতিথ্যে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

১৯৩৭ সালে এবিএম নুরুল ইসলাম পাংশা উপজেলাধীন হোগলাডাঙ্গী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহা্জ্ব মোঃ আবদুস সাত্তার ‘সাত্তার হাজী’ নামে পাংশা এলাকায় খুবই সুপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। ছাত্রজীবনেই এবিএম নুরুল ইসলাম রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে এসএম মুসলিম হলের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ছাত্র সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৬১ সালে ঢাকা হাইকোর্টের বার কাউন্সিলে যোগদান করেন। ১৯৬৫ সালে গোয়ালন্দ মহকুমা ও মানিকগঞ্জ থেকে জাতীয় পরিষদের এমএনএ নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে গোয়ালন্দ মহকুমার জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি পাংশা হোগলাডাঙ্গী কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।

ডা. এস এ মালেক

ডাঃ এস এ মালেক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. এসএ মালেক স্পষ্টবাদী, নির্ভীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একজন রাজনীতিবিদই নন, রাজবাড়িতে তিনি নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবেও পরিচিত। স্বাধীনতাত্তোরকালে তিনি যেমন রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তেমনি তার চিকিৎসা দিয়ে মানুষকে সেবা করেছেন। তাঁর পৈতিক নিবাস বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার মূলঘর ইউনিয়নের সৈয়দ মহল্লায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন রাজবাড়িতে কাটিয়েছেন। তিনি রাজবাড়ি আসন থেকে ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে ঢাকার একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং এমবিবিএস ডাক্তার হয়েও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও বঙ্গবন্ধ গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের (১৯৯৬) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন।


অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম

আহম্মদ আলী মৃধার পুত্র আহম্মদ মর্তফা (চুন্নু ভাই) দেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ছিলেন। তার স্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম বিএনপি সরকারের আমলে রাজবাড়ি, ফরিদপুর মহিলা ইউনিটে মহিলা এমপি  মনোনীত হন এবং পরবর্তীতে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি ঢাকা হোম ইকোনমিক্স কলেজ থেকে ১ম শ্রেণিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবে কাজ করেন। মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি রাজবাড়িতে জাতীয় এক্রোবেট, গণগ্রন্থগার ভিত্তি স্থাপন, জেলা মিল্পকলা একাডেমী উদ্বোধন, ধাওয়াপাড়া ঘাট উদ্বোধন, আহমেদ আলী মৃধা কলেজ প্রতিষ্ঠা, মাজবাড়ি জাহানারা বেগম কলেজ প্রতিষ্ঠা, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সমাবেশ ঘটান। তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তিনি রাজবাড়ি বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে এলডিপির সাধারণ সম্পাদক।

চিত্তরঞ্জন গুহ

রাজবাড়ি জেলার রাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিত নাম অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন গুহ। জেলা তথা জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। নিরহঙ্কর, নির্লোভ, সদালাপী চিত্তরঞ্জন গুহ রাজনীতির ক্ষেত্রে আদর্শের অনুসারী। তাঁর রাজনৈতিক বক্তৃতা, বিবৃতি, রাজনীতি চর্চা আকর্ষণীয় ও শিক্ষণীয়। ভাষার মাধুর্যে ও তাত্ত্বিকতায় তিনি বক্তৃতামঞ্চের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর বক্তৃতা না শুনে শ্রোতা সভাস্থল ত্যাগ করে না। চিত্তরঞ্জন গুহ ১৯৪০ সালে ৬ এপ্রিল রাজবাড়ির সজ্জ্বনকান্দায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সতীশ চন্দ্র গুহ। তৎকালীন রেলওয়ে স্কুল (ইয়াছিন স্কুল) থেকে তিনি প্রাইমারি শিক্ষা শেষ করে আরএসকে ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ এবং ১৯৬১ সালে রাজবাড়ি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে রাজবাড়ি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। অতঃপর ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল’ ফ্যাকল্টি থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকেন।

১৯৫৪ সালে তিনি গোয়ালন্দ মহকুমার পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরীর পক্ষে ব্যাপক উদ্যোমে কাজ করেন। চিত্তরঞ্জন গুহ একজন তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। রাজবাড়ি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের তিনি প্রথম সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। সে সময়ে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং বক্তৃতা প্রশসংসা ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে মুখে আলোচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে রাজবাড়ি কলেজের নানা বাধা বিপত্তির মুখে প্রথম ‘শহীদ মিনার’ নির্মাণ করা হয়। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রসেনা। সে সময়ে আইয়ুব সমর্থক খান এ সবুর রাজবাড়ি আগমন করলে তিনি কালো পতাকা প্রদর্শন করায় তাঁকে গ্রেপ্তার  করা হয়। তিনি জেলে বসে পরীক্ষা দিয়ে বিএ পাস করেন। রেল শ্রমিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পান। চিত্তরঞ্জন গুহ জগন্নাথ হলের ছাত্র ছিলেন এবং উক্ত হলের ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অধিবেশনে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি  নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি পলিটিক্যাল মটিভেটরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে ৩১ অক্টোবর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ‘জাসদে’ যোগদান কেরন। ১৯৭৩ সালে নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদের প্রার্থী হিসেবে রাজবাড়ি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ১৯৭৪ সালের মার্চে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার ও কারারুদ্ধ হন। ২৯ ডিএলআর এর মাধ্যমে রীট করে ১৯৭৬ সালে মুক্তি পান। পরে জাসদ থেকে পদত্যাগ করে গণফোরামে যোগদান করেন এবং বর্তমানে তিনি গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি রাজবাড়ির একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। কয়েকবার রাজবাড়ি বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি নিজেই কেবল সংস্কৃতিমনা নন তিনি প্রখ্যাত শিল্পী বামনদাস গুহের জামাতা। তাঁর এক কন্যার শ্বশুর বাংলাদেশ কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী সুভাষ দত্ত। তাঁর স্ত্রী দেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী দিপ্তী গুহ।


মকসুদ আহমেদ রাজা

মকসুদ আহমেদ রাজা আজীবন রাজনীতিক। স্কুলজীবন থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রাজনীতি ব্যবসা নয়, রাজনীতি রাষ্ট্রীয় চেতনায় মানবকল্যাণের উত্তম কর্মপন্থা। এর দৃষ্টান্ত মকসুদ আহমেদ রাজা। পদ্মার কোলে জন্ম নেয়া মকসুদ আহমেদ রাজা বর্ষার উত্তাল তরঙ্গের মতো কখনো বিদ্রোহী আবার শীতের শান্ত ঢেউয়ের মতো নমনীয়। বক্তৃতা মঞ্চে তাঁর বজ্রকণ্ঠ শ্রোতার রক্তে তরঙ্গের ঢেউ তোলে। তাঁর সহাস্য মুখ, গৌড়কান্তি কোমল স্বভাব, বিনয়ী আচরণ আকৃষ্ট করে। ১৯৪৩ সালে আগস্ট মাসে পদ্মার তীরবর্তী সবুজ শান্ত জৌকুড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মকবুল আহমেদ। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মরগুব আহমেদ রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় (রাজবাড়ি) বিশিষ ভূমিকা রাখেন। জৌকুড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপ্ত করে বেলগাছি আলীমুজ্জামান হাই স্কুল , কুষ্টিয়া এবং সর্বশেষে ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ এবং রাজবাড়ি কলেজ থেকে বিত্র পাস করেন। স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতিতে যোগদান। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে একনিষ্ঠ বিশ্বাসী । ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কাণ্ডারী। ১৯৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সঙ্কটের দিনে নির্ভিক কন্ঠে তাঁর সতত উচ্চারণ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ রাজবাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রদীপ শিখা বলে প্রতীয়মান হত। ঐ চারটি শব্দ এখন তাঁর স্বভাবে পরিণত। যখন যেখানে দেখা হয় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে হাতে হাত মিলান। আদর্শের প্রতি এমন অনুরক্ততা কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। ষাটের দশকের প্রথম দিকে এ তুখোর ছাত্রনেতা রাজবাড়ি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদে সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ভিপি পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি তৎকালীন গোয়ালন্দ মহকুমার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক এবং পরে প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। মকসুদ আহমেদ রাজা রেলশ্রমিক আন্দোলনে যোগদান করে ১৯৬২ সালে গেপ্তার হন এবং কারাবরণ করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একসময় সাংবাদিকতার সঠিক পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। অবজার্ভারসহ স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক দিক নির্দেশনামূলক ফিচার লিখতেন। তিনি সূর্যনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের সভাপতি থাকেন।

তিনি চন্দনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মকসুদ আহমেদ রাজা অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে সুপরিচিত। একটানা সাড়ে পাঁচ ঘন্টা বক্তৃতা দেয়ার রেকর্ড রয়েছে। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল জীবনযাপন করেন। একমাত্র আদর্শের বাস্তবায়ন ছাড়া তাঁর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। মানব সেবাই তাঁর ব্রত। রাজবাড়ি উদীচী কর্তৃক তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ মানবসন্তান’ সম্মননা দেওয়া হয়।

কমরেড আনছার আলী শেখ

বয়সের ভারে নুজ্জ, তবুও প্রাণ শক্তিতে দীপ্যমান। একজন নির্লোভ মানুষ কমরেড আনছার আলী শেখ। সবার প্রিয় কমরেড আনছার ভাই। জন্ম ১৯৩৩ সালে পাবনা মৌকুড়ি গ্রামে দাদার বাড়িতে। শৈশব কেটেছে পার্বতীপুরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালের মাঝামাঝি সময় ন্বপরিবারে রাজবাড়ি দাসের ডাঙ্গী গ্রামে (বর্তমানে নিউকলোনি কলেজপাড়ায়) চলে আসেন। একদিকে বিশ্বযুদ্ধ অন্যদিকে দুর্ভিক্ষ। দারিদ্র আর ক্ষুধার সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পড়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটি। কাজ নেই,  ক্ষুধার তাড়নায় মানুষ ছুটে যাচ্ছে শহরে। পড়াশুনার পাঠ শেষ ক্লাস ওয়ানেই। দারিদ্রতার জন্য ক্লাস টুতে উঠে লেখাপড়া আর চালিয়ে যেতে পারেননি। ক্লাস টুতে পড়ার সময় ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সেই স্মৃতি এখনো তাঁকে আলোড়িত করে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের কিছু আগেই তাঁর পিতা মারা যান। পিতার মৃত্যুর পর সংসার নির্বাহের জন্য ঘরামির কাজ বেছে নেন।


এই সময় সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পেশা বদল করেছেন। রাজমিন্ত্রীর জোগাল হিসেবে অনেক দিন কাজ করেছেন। কোলকাতায় ভাগ্য অন্বেষণে অনেক দিন রাজমিন্ত্রীর কাজ করেছেন। গান্ধীজী যখন মারা যান তখন  তিনি কাজের অন্বেষণে ভারতে। এরপর বিড়ি বাঁধার কাজ এবং এই সময়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সময়টা ১৯৪৭ পাকিস্তান আমল। শ্রেণি সংগ্রাম তার মনে বাসা বাঁধে। শ্রমজীবী মানুষদেরকে নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দেলন গড়ে তোলেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। শ্রমজীবী মানুষকে সংঘবদ্ধ করেন। এই সময় তিনি পাকিস্তান শোষকের রোষানলে পড়ে কারারুদ্ধ হন। ১৯৬৭/৬৮ সালে পাকিস্তান শোষকের ভয়ে আন্ডার গ্রাউন্ড এ যেতে বাধ্য হন। এই সময়ে সমর সিং এর সাহচার্যে আসেন। তিনি বাম রাজনীতির ধারায় আজীবন নিজেকে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

মোঃ রোকন উদ্দিন চৌধুরী

পদ্মার ভাঙ্গনের ফলে পাবনা অঞ্চল থেকে অনেক বিশিষ্ট পরিবার রাজবাড়িতে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে। রোকন উদ্দিন চৌধুরী এমনই একটি পরিবারের সন্তান। ছাত্রজীবন এডওয়ার্ড কলেজে পরবর্তীতে তিনি নানা কাজের মাধ্যমে রাজবাড়িতে অতিপরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি ‍মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। দ্বাদশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে সংশ্লিষ্ট। সমাজ হিতৈষী, কর্মঠ, সদালাপী রোকন চৌধুরী এলাকার প্রিয় ও অতি পরিচিত ব্যক্তি।

নাজিবর রহমান

নাজিবর রহমান রাজবাড়ি জেলার তৎকালীন ছাত্রনেতা। রাজবাড়ি কলেজের ১৯৬৬ সালের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের সাধারণ সম্পাদক (ছাত্রলীগ) শিল্প ব্যাংকের পরিচালক। ১৯৭৩ সালে রাজবাড়ি পৌরসভার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান নজিবর রহমান রাজবাড়ির কৃতি সন্তান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক। অমায়িক ব্যবহার আর সরলতায় তিনি সকলের নাজিবর ভাই। মুক্তিযুদ্ধে ছোট ভাইকে হারিয়েছেন। ব্যকুল হৃদয় আজও উদ্বেলিত হয় তার স্মৃতিতে। জেলার বিশিষ্ট এ রাজনীতিকের নিকট থেকে এলাকার মানুষ উন্নয়ন তরান্বিত হওয়ার আশা রাখে। তিনি ঢাকা এফবিসিসিআই এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। পরিচালক জনতা ব্যাংক লিমিটেড।

মোঃ আব্দুল মতিন

রাজবাড়ি জেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবদি, সামজ সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন। তিনি পাংশার সন্তান। রাজবাড়ি কলেজে ছাত্র থাকাকালীন তিনি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হন। একাত্তরের যুদ্ধে তিনি নিজস্ববাহিনী গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি রাজবাড়ি জেলা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৃষ্ট লগ্ন থেকে সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে  এ দলের নেতৃত্ব দেন। আবদুল মতিন ১৯৮৮ সালে নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট।


মোঃ জিল্লুল হাকিম

কাজী কেরামত আলী ও জিল্লুল  হাকিম মোঃ জিল্লুল হাকিম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। রাজবাড়ি কলেজে অধ্যায়নকালে বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র জিল্লুল হাকিম ছাত্রলীগের রাজনীতির নেতৃত্ব দান করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অসম সাহসী জিল্লুল হাকিম বীরের মতো সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভারতে ট্রেনিং নিয়ে ১৭ জন সঙ্গীসহ পাংশা আগমন করেন। বৃহৎ একটি মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন করে বালিয়াকান্দি ও পাংশায় ৬/৭টি সফল অপারেশন সম্পন্ন করেন। তাঁর গেরিলা প্র্রশিক্ষণ ছিল নিখুঁত। তাঁর উপর নানাভাবে আক্রমণ হলেও গেরিলা প্রশিক্ষণের জন্য বেঁচে যান। এই মেধাবী ছাত্র মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেলেও মানবসেবার ব্রত নিয়ে রাজনৈতিক জীবনকেই বেছে নেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ি-২ আসন (পাংশা - বালিয়াকান্দি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানা উন্নয়ন মূলক কাজ করছেন। পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে জোরালো ভূমিকা রাখছেন। মোঃ জিল্লুল হাকিম ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন।

 মোঃ নাসিরুল হক সাবু

পাংশা উপজেলার এক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মোঃ নাসিরুল হক (সাবু)। ১৯৭১ সালে নিজস্ববাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে রাজবাড়ি জেলায় এ দলের নেতৃত্বে আছেন। এক সময় তিনি দলের জেলা পর্যায়ে নেতৃত্বদান করেন। এলাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট। ২০০১ সালে তিনি রাজবাড়ি-২ আসন (পাংশা-বালিয়াকান্দি) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হাসিমাখা ভদ্র এ তরুণ নেতা এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত।

কাজী কেরামত আলী

কাজী কেরামত আলী এমপিবিনয় ও ভদ্রতার অনন্য প্রতীক কাজী কেরামত আলী রাজনীতির অঙ্গনে সুপরিচিত নাম। শ্রেণিকক্ষে পাঠের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ এবং শ্রেণিপাঠ শেষ হলে সব কোলাহল ভেদ করে যথার্থ ক্যাম্পাস ত্যাগ, আমার স্মৃতিতে ভাসমান। পিতা-কাজী হেদায়েত হোসেন ছিলেন রাজবাড়ির রাজনীতির অঙ্গনে পুরোধা ব্যাক্তিত্ব। রাজনীতির পরিমণ্ডরে বেড়ে ওঠা কাজী কেরামত হয়ত রাজনীতির সাথে জড়িত হতে চাননি। রাজবাড়ির শান্ত শ্যামল পরিবেশ, প্রবাহমান পদ্মার দিগন্ত রেখা তাঁর শিল্পী মনের বিকাশ ঘটায়। এরপরেও তিনি গণমানুষের ভালোবাসা ও কল্যাণ কামনা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেন না। ১৯৯১ তে সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনে কাজী কেরামত আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি রাজবাড়ি-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত কাজী কেরামত আলী রাজনীতির অঙ্গনে বিশিষ্টতা অর্জন করেছেন। বিশ বছরের অধিককাল জাতীয় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট এই রাজনীতিবিদ জাতীয় রাজনীতির বিকাশ ও পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য নানা কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছেন। নদীভঙ্গন রোধসহ মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট উন্নয়নে তাঁকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনকারী কাজী কেরামত রাজনীতির অঙ্গনে জনপ্রিয় নেতা।


আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপিগণমানুষের কল্যাণ, সামাজিক অস্তিত্ব, চিন্তা চেতনার বিকাশ আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোয় নিহীত। স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতি রাষ্ট্রকাঠামোর শক্ত ভিত রচনা করে। আর এই শক্ত ভিত সামাজিক কল্যাণের বাহক। আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। রাজবাড়ি তথা জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সুপরিচিত নাম।

রাজনীতির আবহমণ্ডলে তিনি বেড়ে ওঠেন। পরিণত বয়সে রাজনীতি ধ্যান জ্ঞানে পরিণত হয়। জেষ্ঠ্য ভ্রাতা গরিব নেওয়াজ একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ। ভ্রাতা আল্লা নেওয়াজ খায়রু ছিলেন তুখোর বামপন্থী রাজনীতিবিদ। পিতা খ্যাতিমান হোমিও চিকিৎসক ডা. এমএ ওয়াহেদ ছিলেন রাজনীতি সচেতন। আল্লা নেওয়াজ খায়রুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ছাত্রজীবনেই বাম রাজনীতিতে ঘনিষ্ঠ হন। এ ধারার মধ্য দিয়েই তিনি পর পর তিনবার রাজবাড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগদান করেন। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদের নির্বাচনে তিনি রাজবাড়ি-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি পৌরসভাকে আধুনিক রুপকল্পে সজ্জিত করেন। রাজবাড়ি শহরের প্রবেশ সড়ককে তিনি দ্বিমুখী সড়কে রুপান্তর করে অলঙ্কারিক বৃক্ষে সুশোভিত করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল কলেজের নানা উন্নয়নমুখী কাজ করেন।

এই রাজনীতিককে প্রায়শই টিভিতে নানা টক শো এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সকল অনুষ্ঠানে তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শ্রোতাকে আকৃষ্ট করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্টবিজ্ঞানে এমএ পাস এ প্রাজ্ঞ রাজনীতিক, রাজনীতির অঙ্গন সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

মোঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস

রাজবাড়ি জেলার রাজাপুর গ্রামের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবদুল ওহাব বিশ্বাসের পুত্র মোঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হন। তিনি রাজবাড়িতে তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব। সবার প্রিয় ইমদাদুল হক বিশ্বাস এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশেষভাবে তৎপর থাকেন। বর্তমানে তিনি রাজবাড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। কেবল রাজনীতির অঙ্গনেই নয় সমাজ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তৃতা বিবৃতি দিক নির্দেশনামূলক ও আকর্ষণীয়। সুপণ্ডিত ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজাপুর গ্রামে ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক এবং বসন্ত পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যন ছিলেন। তিনি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন।

ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজাপুর ইয়াছিন হাই স্কুল থেকে ১৯৬৯ এ এসএসসি সরকারি ইয়াছিন কলেজ ফরিদপুর থেকে ১৯৭২ সালে এইচ এস সি পাস করেন। এরপর ১৯৭৮ সালে টিএন্ডটি কলেজ থেকে স্নাতক এবং ১৯৮২ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে ফরিদপুর ল’ কলেজ থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ইমদাদুল হক বিশ্বাস ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত । ১৯৮৫, ১৯৯০ এবং ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনবারই রাজবাড়ি সদর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সৎ নিষ্ঠাবান ও জনসেবক ইমদাদুল হক বিশ্বাস স্বচ্ছ রাজনীতি চর্চায় স্থানীয় রাজনীতির উৎকর্ষ সাধনে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন।


আমজাদ হোসেন জোয়ারদার

আমজাদ হোসেন জোয়ারদার বিশেষ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ছাত্রজীবনে তিনি মুসলিম স্টুডেন্ট লীগের সাথে সংশ্লিষ্ট হন। বেঙ্গল আসাম রেলওয়েতে যোগদানের পর ১৯৪৯ সাল থেকেই রেল শ্রমিকের সাথে কাজ করতে থাকেন। রেলশ্রমিক আন্দোলনে আমজাদ হোসেন জোয়ারদারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি আক্কাস আলী মিয়ার প্রতিষ্ঠিত ইসলামী জীবন গবেষণা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি হযরত হাফেজ্জী হুজুরের বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আদর্শ ও উদ্দেশ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে উক্ত সংগঠনের রাজবাড়ি জেলা শাখার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

Additional information