শিল্পসংস্কৃতি - পৃষ্ঠা নং-১৮

কুষ্টিয়ার অন্তর্গত খোকসার সৈয়দ আব্দুল কুদ্দুস রুমি (১৮৬৭-১৯২৩) প্রতিষ্ঠিত ‘আঞ্জুমানে ইত্তেফাক ইসলাম’ (১৩১১) এর তিনি ছিলেন উপদেষ্টা এবং এই সংগঠনের সাহায্যার্থে কয়েকবার তাঁর কিছু গ্রন্থও দান করেন। ধর্মীয় সভা সমিতিতে তাঁর যোগদানের আরো কিছু খবর পাওয়া যায়। ১৩০৭ সালের ২৬ বৈশাখ বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের (১৭৭৪-১৮৯০) সমাধি ক্ষেত্রে যে গ্রাম অবস্থিত কুষ্টিয়া শহরের সে ছেউড়িয়া গ্রামের এক ধর্ম সভায় যোগ দিয়ে বাংলা মৌলুদ শরীফ পাঠ করেন। সেই সভায় যশোরের মুনশী শেখ মেহেরুল্লা ও মুনশী শেখ জমির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পাংশার রওশন আলী চৌধুরী (১৮৭৪-১৯৩৩) কোহিনুর (১৩০৫) পত্রিকার পরিচালক সমিতির অন্যতম সদস্য এবং মিহির ও সুধাকর পত্রিকার বিশিষ্ট লেখক হিসেবে তাঁর নাম বিজ্ঞপিত হয়। মশাররফ মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর বসন্তকুমারী নাটক (১৮৭৩) উৎসর্গ করেন সোসাইটির কর্ণধার নবাব আব্দুল লতিফকে। মশাররফের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী থেকে জানা যায় পদমদিতে নবাব সাহেবের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় এবং তিনি মশাররফের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী থেকে জানা যায় পদমদিতে নবাব সাহেবের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় এবং তিনি মশাররফকে প্রীতির চোখে দেখতেন। ‘মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি’ ১৯০০ সালের ৯ জুন এক জরুরি সভায় সৈয়দ আমীর আলীর মাদ্রাসা শিক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানানো হয়। সোসাইটির কার্যবিবরণীতে মাদ্রাসা শিক্ষার স্বপক্ষে মশাররফ হোসেনের লিখিত বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব সহকারে মুদ্রিত হয়। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যও ছিলেন দীর্ঘকাল। তবে সে সব সভা সমিতিতে বৃটিশ রাজের যে আলোচনা বা বিরুদ্ধচারণ করা হত তার সঙ্গে তিনি কোনো যোগ রাখতেন না। শেষজীবনে তাই তিনি কোনো সভা-সমিতির সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী ছিলেন না। উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ তাঁকে উপদেষ্টা মনোনীত; সদস্যপদ প্রদান, সভাপতি কিম্বা আলোচক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করতেন। বৃটিশ সরকারও তাঁকে অনারারী ম্যাজিস্টেট নিযুক্ত করে তাঁর যোগ্যতা ও কর্মের স্বীকৃতি দেন। (মীর মশাররফ হোসেন, আবুল আহসান চৌধুরী, পৃষ্ঠা-৪৮,৪৯, বাংলা একাডেমি)।

মীর মশাররফ হোসেন রচনাবলী

১। রত্নবতী-গদ্যে রচিত রুপকথামূলক গল্প, প্রকাশ কলিকাতা, ১৮৬৯

২। গড়াই ব্রিজ অথবা গৌরী সেতু, কবিতা পুস্তক, ১৮৭৩

৩। বসন্তকুমারী, গদ্যে রচিত নাটক, মাঝে মাঝে গান ও কবিতা, ১৮৭৩

৪। জমিদার দর্পণ, গদ্যে রচিত নাটক, (উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্য), ১৮৭৩

৫। এর উপায় কি?, প্রহসন, ১৮৭৫

দ্বিতীয় প্রকাশ - টাঙ্গাইল-১৮৯২

৬। গোজীবন, টাঙ্গাইল, ১৮৮৯

৭। বেহুলা গীতাভিনয়, বাং ১২৯৬

Additional information