শিল্পসংস্কৃতি - পৃষ্ঠা নং-৩

কালুখালি রতনদিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এ গ্রামে সঙ্গীত চর্চা সে সময়ে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়। এ গ্রামের জগচ্চন্দ্র ভট্রাচার্য ছিলেন প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি। তিনি ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ ও সঙ্গীত প্রিয়। জানকি চত্রবর্তী ছিলেন ভালো গায়ক। নীলমনি সরকারের পুত্র কুঞ্জুলাল ছিলেন তবলা বাদক। আকবর নামক একজন সানাই বাদক ও ওস্তাদ নদীয়া জেলা হতে রতনদিয়া আসেন। তিনি এখানেই থেকে যান এবং শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মাঝে মাঝে বাহির হতে বড় বড় গায়ক আসতেন। সে সময়ে ফরিদপুরে প্রভু জগবন্ধুর আবির্ভাব ঘটে। তৎকালীন ফরিদপুর জেলার প্রতিটি পল্লী ‘জয় জগবন্ধু বল হরিবল-------হরিপুরুষ জগবন্ধু মহাউচ্চাণে সঙ্গীতে রাজবাড়ি জেলার প্রতিটি হিন্দু পরিবারকে মুখরিত করে রাখত। শিল্পী রশীদ চৌধুরী তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন-------‘তাদের পারিবারিক চৌহদ্দির মধ্যে আবহমান কৃষিসমান্ত সংস্কৃতি সোচ্চার ছিল। পহেলা বৈশাখে ঢোল বাজিয়ে নাচ, গান, মহররমের সময় লাঠিখেলা, যাত্রা, রাধাকৃষ্ণের পালা অনুষ্ঠিত হত।’

সাহিত্যিক-শিল্পী পরিচয় ও কবি আলাওল ------প্রসঙ্গ রাজবাড়ি

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান করে থাকে। মধ্যযুগের বহুল আলোচিত কবি আলাওলের জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম বাংলার সুলতানি আমল গ্রন্থে ফতেয়াবাদ বলতে চট্রগ্রামের কোনো স্থানকে বুঝিয়েছেন। তবে তিনি আলাওলের জন্মস্থান নিয়ে কোনো শ্রশ্ন তোলেননি। এদিকে আরাকানের সভাকবি আলাওল নিজেই তাঁর আত্মকথন লিখেছেন এভাবে------

আমি পরদেশী এক আলাওল হীন

রোষাঙ্গে পড়িনু আসি নিজের কুদিন।

গৌরমধ্যে প্রধান ফতেয়াবাদ দেশ

অতি পূণ্যবান স্থান নেই পাপ লেশ।

 দৈবচক্রে কার্যহেতু যাইতে নৌকা পথে

দরশন হইল দস্যু হারমাদের সাথে

শহীদ হইলা পিতা বুঝি বহুতর

যখম হইয়া আইনু রোষাঙ্গ শহর।

কবির বর্ণনাতে গৌর মধ্যে ফতেয়াবাদ উল্লেখ আছে। সুলতানি শাসনকালে বাংলার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল, ফতেয়াবাদ, খলিফাতাবাদ, মাহামুদাবাদ রাজ্য হিসেবে শাসিত হত। শাসনকেন্দ্র ছিল গৌর। কাজেই গৌরশাসিত ফতেয়াবাদ যে বর্তমান ফরিদপুর সে বিষয়ে সন্দেহ না থাকারই কথা। তবে প্রশ্ন হল ফতেয়াবাদের শাসনকেন্দ্র কোথায়? আলাওল তার আত্মকথনে যে হারমাদ জলদস্যুদের উল্লেখ করেছেন তারা পুর্তুগীজ জলদস্যু এবং হারমাদ নামে পরিচিত ছিল।

Additional information