শিল্পসংস্কৃতি - পৃষ্ঠা নং-২৩

বিল, বাওর, নদী, খাল, বন জঙ্গলে আচ্ছন্ন অঞ্চলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল অতি আকর্ষণীয়। বিলের পদ্ম, শাপলা, শালুক এবং বহমান চন্দনার নৌকা, লঞ্চ, পানসি, নদী তীরের বনরাজি, ফুল, পাখির কুজন, গুঞ্জন অঞ্চলটিকে অপরুপ শোভায় শোভিত করেছিল। জানা যায় দ্রাবিড় ব্যবহৃত দি, দিয়া থেকে ‘দি’ এবং পদ্মা থেকে ‘পদ’ মিলে ‘পদমদি’ নামকরণ। প্রদমদি, সোনাপুর, বহরপুর অঞ্চলের চন্দনার তীরবর্তী ঘন জঙ্গলে ছিল বন্য শুয়োর ও বাঘের বাস। ঘটনার স্রোতবাহী ধারায় সভ্যতার সিঁড়ি বেয়ে পদমদি আজ দেশের অতি পরিচিত একটি নাম। পদমদি নামের সাথে জড়িয়ে আছে জেলার একমাত্র নবাব উপাধিতে ভূষিত মীর মোহাম্মদ আলীল স্মৃতি চিহ্ন। মুসলমানদের মধ্যে প্রথম ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক, বিষাদ সিন্ধুর লেখক মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিকেন্দ্র। নবাব মীর মোহাম্মদ আলী এবং সাহিত্য শ্রেষ্ঠ মীর মশাররফ হোসেন একই বংশে জন্মগ্রহণ করেন। সাহ সাদুল্লার নাতি মীর কুতুবুল্লা। কুতুবুল্লার জ্যেষ্ঠ সন্তান মীর ওমর দারাজ এবং কনিষ্ঠ সন্তান মীর আলী আকবর। ওমর দারাজের বংশধর কুষ্টিয়ার সাঁওতা ও লাহিনীপাড়ায় বসতি স্থাপন করে কিন্তু পদমদির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয় না। অন্যদিকে মোহাম্মদ আলীর পূর্ব পুরুষ স্থানীয়ভাবে পদমদিতে জমিদারী ও নবাবী এস্টেট গড়ে তোলেন। মীর কুতুবুল্লার ছেলে মীর আলী আকবর। আলী আকবরের ছেলে মীর আলী আহম্মদ ঢাকা থেকে চাকরিসূত্রে উন্নতি শুরু হয়। তিনি ছিলেন দারোগা। বিভিন্ন থানায় চাকরিসূত্রে লোকে তাঁকে বাইশ থানার দারোগা বলত। প্রতাপশালী দারোগা ও ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। মীর আলী আহমদের পুত্র মীর আলী আশরাফ। মীর আলী আশরাফ ভালোমত লেখাপড়া শিখে ডেপুটি কালেক্টর হলেন। চাকরির সাথে সাথে তিনি ‘পরগনা’ গঙ্গা পথের অংশ’ এবং ঢাকায় ‘নোয়ারের চর’ দুটি জমিদারী ক্রয় করেন। চাকরি ও জমিদারী সূত্রে তিনি বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন। চাকরি ও জমিদারীর বিপুল অর্থ থেকে বাড়িঘর, দালানকোঠা নির্মাণ করেন।

Additional information