শিল্পসংস্কৃতি - পৃষ্ঠা নং-৫

সে কুল বালারে কেবা না দুষিরে

ভাইটিরে যদি যায় সে ভুলি?

জগতে কেহেই নহে কো একালা

সকলি বিধির বিধান গুণে

একের সহিত মিলিছে অপরে

আমি কেন না, বা তোমারই মনে?

এভাবে কবি রাজবাড়ির মাটি ও মানুষের সাথে সম্পর্কিত।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর স্পর্শ পেয়েছে রাজবাড়ির মাটি ও মানুষ। গোয়ালন্দ তৎকালীন বাংলার প্রবেশ পথ হওয়ায় তিনি রেলপথে ঢাকা, কুমিল্লা যাতায়াত করেছেন ট্রেন ও স্টিমারযোগে গোয়ালন্দ দিয়ে। পূর্ববাংলার প্রকৃতি ও মানুষের সাথে ছিল তাঁর নিবিড় বন্ধন। ১৯৪০ সালে গোয়ালন্দ ঘাটে বসে ‘আমি পূবর দেশের পুরনারী’ সঙ্গীত রচনা করেন।’ ১৯২৫ সালে মহাত্মাগান্ধী ফরিদপুরে কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলনে যোগদানকালে গান্ধীজীর সাথে কাজী নজরুল ইসলামের পরিচয় ঘটে। নজরুলের কণ্ঠে তাঁর চরকার গান শুনে গান্ধীজী মুগ্ধ হন। সে সূত্রে নজরুল ইসলাম কংগ্রেসে যোগদান করেন। ১৯২৬ সালে নজরুল তমিজ উদ্দিন খান (খানখানাপুর, রাজবাড়ি) এর সাথে বঙ্গীয় বিধান সভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। নির্বাচনে কবির প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে ১২ অক্টোবর ১৯২৬ গণবাণীতে লেখা হয় ‘কালের বরেণ্য কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঢাকা বিভাগের মুসলমান কেন্দ্র হতে ভারতীয় ব্যাবস্থাপক সভার সদস্য পদপ্রার্থী হইয়াছেন’ (নজরুল রচনাবলী ২য় খণ্ড কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড-২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৭ পৃষ্ঠা-৫৪৮)। উল্লেখ্য তখন ফরিদপুর, রাজবাড়ি ঢাকা নির্বাচন এলাকাভুক্ত ছিল। তমিজ উদ্দিন খান তাঁর আত্মজীবনীতে ১৯২৬ সালের নির্বাচনে নজরুলের বিষয়ে কিছু বলেননি। এ নির্বাচন বিষয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। তবে আবুল আহসান চৌধুরী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর অপ্রকাশিত পত্রাবলীর গ্রন্থের ১৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-----‘হেমন্ত কুমার সরকার ও কাজী নজরুল ইসলামের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে Bengal Peasants and worker's party প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখিত নানা তথ্যে প্রতীয়মান হয় ১৯২৬ এ নবগঠিত Bengal peasants and worker's party   থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন বা নির্দলীয় প্রার্থী হন। এ ক্ষেত্রে তমিজ উদ্দিন খান তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মোহন মিয়ার কথাই উল্লেখ করেছেন। গুরুত্বহীন Peasants পার্টি বা উদীয়মান একজন কবিকে দুর্বল প্রার্থী ভেবে লেখার প্রয়োজন মনে করেননি। গোলাম মুরশীদ তাঁর হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি গ্রন্থের ১৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন-----

১৯২৬ সালের শেষ দিকে যখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, ৩৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে ৩৮টি আসনে জয়ী হন আব্দুর হিমের দলের প্রার্থীরা। কাজী নজরুল ইসলাম তখন অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি। কৃষক শ্রমিকদের জন্য উচ্চকন্ঠে বিদ্রোহের বাণীও শুনিয়েছিলেন তিনি। তা সত্বেও মুসলমান প্রধান ফরিদপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তিনি জিততে পারেননি। কারণ আব্দুর রহিমের সাম্প্রদায়িকতার শর্ত তিনি পূরণ করতে পারেননি। এ সময় রাজবাড়ি মানুষের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। আরএসকে স্কুলের গণিত শাস্ত্রের প্রাক্তন শিক্ষক দেব ভট্রাচার্য (ডা. মাখনলাল মহাশয়ের বাড়িতে দীর্ঘদিন ভাড়ায় বসবাস করতেন) এর নিকট থেকে জানা যায় নজরুল সেসময় তাদের স্থায়ী বসতি পাংশার রুপিয়াট জমিদার বাড়ির সাথে গভীর আত্মীয়তা গড়ে তোলেন।

Additional information