শিল্পসংস্কৃতি - পৃষ্ঠা নং-৬

দেবুর পিতা অতুল দত্ত তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। নজরুল এ পথে আসলে রুপিয়াট জমিদার বাড়ি না হয়ে যেতেন না। দেবুর পিতা ও মাতার সাথে পত্রালাপ হত। কিছু পত্র তার নিকট ছিল কিন্তু যুদ্ধের সময় তা হারিয়ে যায়। দেবুর মায়ের নামে নজরুল একটি কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেন। রাজবাড়ির নজরুল বিশেষজ্ঞ গোলাপ ভাইয়ের নিকট থেকে জানা যায় নজরুল ১৯৩০ এর দশকের কোনো এক সময় প্রাক্তন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সাহেবের বাড়িতে আসেন। হাবিবুর রহমান তখন যুবক। তিনি নজরুলের সাথে একই খাটে শয়ন করেছিলেন। সাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরীর (পাংশা) সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের গভীর সখ্যতা ছিল। ১৯১৯ সালে প্রথম মহাযুদ্ধের পর কবি ফিরে এসে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সমিতিতে’ যোগ দেন। কর্মসূত্রে সেখানেই এয়াকুব  আলী চৌধুরী নজরুলকে আর্শিবাদ স্বরুপ বলেছিলেন -----‘আপনাকে বাংলার মুসলমান বারীন ঘোষ হতে হবে।’ (সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় রাজবাড়ি, অধ্যাপক আবুল  হোসেন মল্লিক, পৃষ্ঠা-৪৬। কবি ১৯৩৩ সালে কলিকাতা থেকে পাংশা সফরে আসেন। তিনি এখানে এক দিন এক রাত যাপন করেন। পাংশায় আনার দায়িত্ব দেওয়া হয় এয়াকুব আলী চৌধুরীকে। বিপুল আয়োজনে পাংশায় তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা কমিটিতে থাকেন এয়াকুব আলী চৌধুরী, তাহের উদ্দিন আহমেদ (সহসম্পাদক, দি মুসলমান পত্রিকা, কলিকাতা), সৈয়দ মাহমুদ (ডিএসআর), সুবোধচন্দ্র সাহা (কংগ্রেস নেতা, পাংশা), শ্রী অতুলচন্দ্র দত্ত (সিনেমা বিষয়ক পত্রিকা ‘জলসা’র সম্পাদক), খোন্দকার নাজির উদ্দিন আহমেদ সম্পাদক খাতক), শ্যামলাল কুণ্ডু প্রমুখ। তাঁর থাকার ব্যবস্থা হয় শ্যামলাল কুণ্ডুর দ্বিতল ভবনে। বৃটিশ রাজরোষে পতিত হওয়ার কারণে তাঁকে খোলা মাঠে সংবর্ধনা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মুচরাম সাহার গুদাম ঘরে তাঁকে সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হয়। এ অনুষ্ঠানে কবি স্বকন্ঠে ‘বিদ্রোহী’ ও ‘নারী’  কবিতা দুটি আবৃত্তি করেন। ‘টুনির মা’ নামে এক মহিলা নিজ হাতে সেলাই করা একখানি নকশী কাঁথা কবিকে উপহার দেন। পাংশার আড়ং বাজার রেলঘাট তাঁর আগমন উপলক্ষে যে মেলার আয়াজন করা হয় তা আজও বৈশাখী মেলা- (১ এপ্রিল) হিসেবে স্মৃতি বহন করছে। সেদিন এক ময়রা কবিকে কয়েক কেজি চমচম উপহার হিসেবে দেন। প্রচুর লোক সমাগমে কবি সবাইকে শুভেচ্ছা বাণী দেন।

পাংশার কবি বন্ধু দি মুসলমান পত্রিকার সম্পাদক তাহের উদ্দিন তাঁর বিবাহ বৌভাতে আমন্ত্রণ করেন। দাওয়াত রক্ষায় অপারগ হলে কবি তাঁকে আশীর্বাদ স্বরুপ লেখেন-----

রুপার সওদা সার্থক হল

রুপার শাহজাদী এসে

তব বাণিজ্য তরণী ভিড়িল

স্বপন পরীর দেশে।

অর্থের নীতি যাহার যাদুতে

হইল অর্থহীন

বেঁচে থাকে সেই ফুলের ডেরায়

ফুল হয়ে নিশিদিন।

Additional information