শিল্পসংস্কৃতি-২

 দশম অধ্যায়-২

মীর আলী আশরাফের পুত্র মীর মোহাম্মদ আলীর ডাকনাম মীর খয়রাতী। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ কেরন। নশরতশাহী ও নসিবশাহী পরগনা (পাংশা - বালিয়াকান্দি)জমিদারী ক্রয় করে প্রচুর অর্থবিত্তের অধিকারী হন। তিনি পদমদি ও মৃগীর নীলকুঠি ক্রয় করে নীলের ব্যবসায় প্রচুর লাভবান হন। পদমদিতে সুদৃশ্য দালানসহ মানুষের পানির অভাব দূর করতে বিরাট আকারের দিঘি খনন করেন। পদমদিতে পাঠশালা এবং কুষ্টিয়ায় একটি ইংলিশ স্কুল স্থাপন করেন। তিনি বেশিরভাগ সময় কলিকাতায় থাকতেন। কলিকাতায় মোহামেডান এ্যাসোসিয়েশনসহ মোহামেডান ক্লাবের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রচণ্ড আমোদ প্রমোদ স্বভাবের। তিনি বিবাহ করেননি। বংশ মর্যদায় ছিলেন অহঙ্কারী। বৃটিশ সরকার তাঁকে ‘নবাব’ উপাধি প্রদান করে। ঊনিশ শতকের শেষার্ধে যখন তিনি নবাব উপাধিপ্রাপ্ত হন,

কলিকাতা থেকে পদমদি আসার পথে পাংশায় তাঁকে বিপুল মানুষের সমাবেশে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পানশি নৌকা সাজিয়ে চন্দনা দিয়ে পদমদির পথে যাত্রা করেন। মীর মশাররফ হোসেনের কথায়-----

চন্দনার আনন্দ অপার

যেন হাসছে বারবার

বুকে করি নবাব তরী

যাচ্ছে অনিবা।

দুকূলে আকুল সবে

দেখবে নবাব সাধ মনে

তুমি ধন্য জগৎ মান্য

কে-তব জানে।

মীর মোহাম্মদ আলীর কনিষ্ঠ ভ্রাতা মীর আবদুস সামাদ। তিনিও জমিদারী ক্রয় করেন। তিনি নসিবশাহী পরগনা (রাজবাড়ি সদর উপজেলা) জমিদারী ক্রয় করে ধন-সম্পত্তির মালিক হন। সাথে নীলের ব্যবসা। বিবাহ করেন বরিশালের বামনার জমিদার কন্যা ককরন সেনাকে। চার কন্যা। জ্যেষ্ঠ কন্যা আশরাফন নেসার বিবাহ হয় শায়েস্তাবাদের জমিদার মোহাম্মদ হোসেনের সাথে। মধ্যম নাম অজ্ঞাত, বিবাহ সৈয়দ শামসুল হুদা এমএবিএল হাইকোর্টের উকিল। বিবাহের পর কন্যার মৃত্যু। তৎকনিষ্ঠ আসমাতন নেসার সাথে শামসুল হুদার দ্বিতীয় বিবাহ। তৎকনিষ্ঠ আবেদন নেসার বিবাহ চরমদ্দির (বরিশাল) জমিদার চৌধুরী মোহাম্মদ ইসমাইল। মোহাম্মদ আলী ও আবদুস সামাদের একমাত্র বোন হায়াতুন নেসার বিবাহ হয় পদমদির অদূরে কুর্শীর জমিদার গোলাম কাদেরের সঙ্গে। গোলাম কাদেরের ভাই মকবুল আহমেদের দুই কন্যা আক্কি বিবি ও ওয়াজেদন নেসা। ওয়াজেদন নেসা বিদূষী মহিলা ছিলেন। তিনি তৎকালীন মুসলমান ছাত্রদের পড়ালেখার উন্নতির জন্য বহু সম্পত্তি দান করে যান।

পদমদির কুতুবুল্লার সন্তান মীর ওমর দারাজের বংশেই জন্মগ্রহণ করেন মীর মশাররফ। ওমর দারাজের পুত্র মীর এবরাহিম। মীর ওমর দারাজ বহু সম্পত্তির মালিক ছিলেন। জমিদার না হলেও চালচলন, বেশভূষা ছিল জমিদারদের মত। পুত্র মীর এবরাহিম ছিলেন তেজস্বী ও ডানপিটে। লেখাপড়ায় তেমন মন ছিল না। সারাদিন বর্শা হাতে চন্দনা নদীর তীরবর্তী জঙ্গলে বরাহ ও নানা বন্য পশু শিকার করে বেড়াতেন। একদিন বরাহ শিকার করতে যেয়ে আহত বরাহের আক্রমণে মরণ থেকে রক্ষা পান।

Additional information