শিল্পসংস্কৃতি-২ - পৃষ্ঠা নং-২০

এখান থেকে মাইনর বৃত্তি পরীক্ষায় তৎকালীন ফরিদপুর জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে মাসিক পাঁচ টাকা বৃত্তি লাভ করেন। ঢাকা বিভাগে ইতিহাসে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় রাজা সূর্যকুমার তাঁকে রৌপ্যপদক প্রদান করেন। ১৮৭৮ সালে কুমারখালি স্কুল থেকে এনট্রান্স পাস করে বিদ্যাসাগরের সহায়তায় এসেমব্লীজ ইনস্টিটিউশনে এলএ পরিক্ষায় অকৃতকার্য হলে শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ১৮৮১ সালে তিনি গোয়ালন্দ স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। এ সময় গোয়ালন্দ ঘাটের মাইনর স্কুলটি নদী ভাঙ্গনের কারণে রাজবাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। তখন এ পরিচালনার ভার ছিল রাজা সূর্যকুমারের উপর। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকালীন তিনি স্বদেশীকতা এবং সাংবাদিকতার প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠেন। তখন বৃটিশ ও সামন্ত শাসনকাল। ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী পুরুষ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের সাথে গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় কাজ করেন। অস্থায়ী নিবাস রাজবাড়িতে। তিনি অত্র অঞ্চলের কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেন। তিনি কলিকাতায় কংগ্রেসের ‘দ্বিতীয় নিখিল ভারত কংগ্রেস অধিবেশনে গোয়ালন্দের প্রতিনিধিত্ব করেন (ডিসেম্বর ১৮৮৬)। এ ছাড়াও গোয়ালন্দে ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে তিনি রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের দ্বারা নানা বাধার সম্মুখীন হন। ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে চাকরি করেন। ১৮৮৭ সালে কলেরায় তার একমাত্র কন্যাশিশু মারা যায়। কন্যার মৃত্যুর মাত্র ১২ দিন পর স্ত্রী সুকুমারী দেবীও কলেরায় মারা যান। কন্যা ও স্ত্রী বিয়োগের তিন মাস জলধর সেনের মাতা মারা যাওয়ায় তিনি সংসার বিবাগী হয়ে হিমালয় যাত্রা করেন। অবশ্য মনের প্রশান্তি ফিরে এলে দেরাদুনে শিক্ষকতা শুরু করেন। হিমালয় থেকে ফিরে এসে ১৮৯১ তে মহিষাদল রাজ স্কুলে শিক্ষকতার কার্যে যোগ দেন। ১৮৯১ তে দ্বিতীয় দ্বার পরিগ্রহ করেন। ১৮৯৯ তে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে কলকাতায় আসেন। কিছুদিন সাপ্তাহিক বঙ্গবাণী পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯০৭ সালে ‘হিতবাদী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯০৯ পত্রিকায় ইস্তফা দিয়ে সন্তোষে রাজের গৃহশিক্ষকতা করেন। এখানে দু’বছর কাটানোর পর ১৯১১ সালে ‘সুলভ সমাচা’ সম্পাদনা করেন। এরপর কলকাতায় প্রত্যবর্তন এবং ‘মাসিক ভারতবর্ষ’ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর এ পত্রিকার সম্পদনা করেন। তিনি ভ্রমণ কাহিনীর লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ‘প্রবাহচিত্র’ ও ‘হিমালয়’ সুললিত ভাষায় রচিত গ্রন্থ দু’খানি পাঠক মহলে সাড়া জাগায়। গল্প ও উপন্যাস রচয়িতা হিসেবেও তিনি সমাধিক প্রসিদ্ধ। ‘নৈবেদ্য’(১৯০০), ‘কাঙ্গালের ঠাকুর’ (১৯২০), ‘বড় মানুষ’ (১৯২৯) তার প্রসিদ্ধ গল্প গ্রন্থ। ‘দুঃখিনী’ (১৯০৯), ‘অভাগী’ (১ম খণ্ড ১৯১৫, ২য় খণ্ড ১৯২২, ৩য় খণ্ড ১৯৩২), তাঁর উপন্যাস। জলধর সেন রচিত জীবনীগ্রন্থ ‘কাঙ্গাল হরিনাথ’। তিনি ১৩১৯-১৩২০ এবং ১৩৪৩-১৩৪৫ ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে’র সহ সভাপতি ছিলেন। বৃটিশ সরকার তাঁকে ‘রায় বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৫ মার্চ১৯৩৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

Additional information