শিল্পসংস্কৃতি-৩ - পৃষ্ঠা নং-১১

অধ্যাপক আবুল হোসেন মল্লিক

‘গবেষকের নিকট তথ্য প্রাপ্তি মনি মনিক্যের সাথে তুলনীয়’------অধ্যাপক আবুল হোসেন মল্লিকের এ উক্তি সকল গবেষকের মনে সত্যনিষ্ঠ। গবেষক এমন উক্তির আলোকে মনি মানিক্য স্বরুপ তথ্য খুঁজে বেড়ান পথে, প্রান্তরে, লোকমুখে, গ্রন্থের অন্তঃগভীরে, পত্রিকার পাতায়, তীক্ষ্ণ দৃষ্টির আড়ালে, বৃক্ষ বা দেওয়ালে, ধুলোমাটিতে অবজ্ঞায় দলিত ছেঁড়া কাগজে। আবুল হোসেন মল্লিক সঠিক অর্থেই একজন বিদগ্ধ গবেষক ও সাহিত্যসেবী। তৎকালীন সময়ের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা কোহিনূরসহ তিনি কাঙ্গাল হরিনাথের গ্রামবার্তা ও অন্যান্য প্রাচীন পত্রিকার সত্যনিষ্ট পরিচিতি তুলে ধরেছেন। তার লেখা ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা রাজবাড়ি জেলার অবদান’ গ্রন্থে সার্থকভাবে রাজবাড়ি জেলার সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের ঐতিহ্য কুড়িয়ে এনেছেন যা মোটেও সহজ কাজ নয়। কেবল নিবেদিত একজন গবেষকের পক্ষেই সম্ভব। অর্থে তিনি একজন সফল গবেষক। তাঁর লেখা অন্যান্য গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘খাতক’ সম্পাদক ‘নজির উদ্দিন আহম্মদ জীবন কর্ম ও সাংবাদিকতা’ ‘কোহিনূর সম্পাদক মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরীর জীবন ও সাংবাদিকতা’ ইত্যাদি। এসব গ্রন্থে দুর্লভ মণি-মাণিক্যের সন্ধান দিয়েছেন। তাঁর লেখা ‘অন্ধকারে আলোর উকি’ কবিতা গ্রন্থের পাতায় পাতায় আলোর আভা ছড়িয়ে আমাদের আলোকিত করে।

 আবুল হোসেন মল্লিক ১৯৪২ সালের ১ মার্চ ফরিদপুর জেলার মুধুখালি উপজেলার কামারখালি ঘাট সংলগ্ন আড়পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশবিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এএম। ১৯৭৩ সালে পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন) কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। বর্তমান পাংশায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন ২০০২ সালে পাংশা বি-কয়া তরুণ সংঘ ও পাঠাগার, সাহিত্য ও গবেষণা কাজের জন্য তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে। ২০০৫ সালে উত্তর বাংলা সংস্কৃতি পরিষদ পাবনা কর্তৃক উত্তর বাংলা সাহিত্য পদক ও শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৬ সালে সিরাজগঞ্জ কবিতা ক্লাব কর্তৃক তিনি পুরস্কৃত হন।

সবুর উদ্দিন

ইংরেজিতে একটা কথা আছে Either Perish or Publish। সবুরউদ্দিন Will never be perished by publishing his documentary `The History of Pangsa'. আমি সবুর উদ্দিনের পাংশার ইতিহাস খানি কুড়িয়ে পেয়ছিলাম পানের দোকান থেকে। এ গ্রন্থটি ক্ষুদ্রাকায় কিন্তু তথ্য ধারণে আমার নিকট অতি বৃহদাকার। রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস রচনায় অনেক দলিলিক তথ্য সন্নিবেশ করেছি এ গ্রন্থ থেকে। রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস রচনায় তিনি পৃথিকৃৎ। কারণ এ জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম পাংশার ইতিহাস রচনা করেন। নিরবে নিভৃতে থাকা এ মানুষটির আর কোনো পরিচিতি আমি দেব না। পশ্চাতের ঢেউ সম্মুখের ঢেউকে অগ্রগামী করে কিন্তু পশ্চাতের ঢেউ কেউ দেখে না। ঢেউয়ের মালায় পশ্চাতের ঢেউ চিনে নেওয়ার কাজ এ গ্রন্থের পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম।

 

 

Additional information