শিল্পসংস্কৃতি-৩ - পৃষ্ঠা নং-১২

অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন খান

সাহিত্য বিকাশের ধারায় সকল সৃষ্টিশীল লেখাই সাহিত্যকর্ম বলে বিবেচিত। অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন খান রাজবাড়ি জেলার লেখকদের মধ্যে ভিন্নধর্মী ধারার প্রবর্তক। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী। আইনশাস্ত্রের উপর তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২। সমাজ জীবনে আমরা প্রতিনিয়তই নানা সঙ্কটে নিপতিত হই। উদার নৈতিক চেতনা বিকাশের ক্ষেত্রে যেমন কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস আমাদের প্রয়োজন মেটায় তেমনি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বসবাস করে দৈনান্দিন জীবনের অধিকার, শৃঙ্খলা, শাসন, শান্তি বিষয়ে আমাদের জানা প্রয়োজন। একনিষ্ঠ ভাবে এ কাজ সম্পাদন করে চলেছেন মসলেম ‍উদ্দিন খান। মোসলেম উদ্দিন খান ১৯৫০ সালে মহেন্দ্রপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মরহুম মফিজউদ্দিন খান । রাজবাড়ি কলেজ থেকে বিকম এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ল’কলেজ থেকে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন। তিন যুগেরও অধিকাল থেকে রাজবাড়িতে আইন পেশায় কর্মরত আছেন। বিগত সময়ে রাজবাড়ি বার এসোসিয়েশনে সেক্রেটারী ও সভাপতি নির্বাচিত হন। চারবার জিপি ও পিপি পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী। শিল্পকলা একাডেমীর সহ-সভাপতি। নিজেকে নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রাখেন।

রবিশঙ্কর মৈত্রী

রাজবাড়ি জেলার সাবেক উপজেলা মধুখালি। প্রাচীন শাসন স্মৃতির কেন্দ্র ভূষণার অন্তবর্তী মধুখালির সন্নিকট গ্রাম মেঘচামী। প্রাচীন নাম মেঘচুম্বী। বর্তমান মেঘচামী গ্রামে মেঘের উচ্চতায় জন্ম নিয়েছেন সাহিত্যিক জগদীশ গুপ্ত আর রবিশঙ্কর মৈত্রীর মতো কালের সাহিত্যসেবী। জগদীশ গুপ্ত আর রবিশঙ্করের সাহিত্য সাধনার কালের ব্যবধান প্রায় আশি বছর। সেখানে কালের প্রান্তসীমায় উচ্চতর মাত্রায় কেবল সংযোজন করেননি সাহিত্য জগতে উত্তরআধুনিকতার সফলতা নির্মাণে তিনি অনেক অংশের দাবিদার। কেবল সৃষ্টিই তার কর্ম নয়, তিনি কবিতা তথা সাহিত্যের ধারায় সিক্ত করে চলেছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের মানুষকে। ইলেকট্রনিক পর্দার বাইরে তার পদচারণা যেকোন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। কবিতার কর্মশালায় তিনি শুদ্ধতায় আবৃত্তি জগতকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। এক ব্রতচারী শিক্ষকের মতো কবিতার আলো পৌঁছে দিচ্ছেন ঘরে ঘরে।

রবিশঙ্করের জন্ম ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৯। ইতিহাসের দিক থেকে ‘৬৯ আর ১৬ ডিসেম্বর স্মরণীয়। বিষয়টি নিছক কাকতলীয় হলেও অনেক মনীষীর মধ্যে এমন প্রাপ্তিযোগ দেখা যায়। বাবা কুমুদরঞ্জন, মা জয়ন্তী দেবী। কবিতা, ‍উপন্যাস, বাংলা ভাষার গবেষণামূলক গ্রন্থসহ তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫০। উল্লেখযোগ্য কবিতা গ্রন্থ ‘দুঃখ পড়েছে দীর্ঘ পাঞ্জাবী’ ‘দুস্যু রোধ’ ‘আগুনে আগুনে পুরছে আলো’ ‘বুকের ব্যাথাটা বেড়েই চলেছে’ ‘রাত গেল রাত্রিলিপি লিখে’ ‘পুনরায় প্রেরিত ঈশ্বরের চিঠি’ ‘ Selected Poems'। উপন্যাস ‘জলগৃহ’, ‘সুরঞ্জনা ফিরে এস’, ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। ভাষা উৎকর্ষতায় : ‘আধুনিক বাংলা বানান’ -অর্থ, ‘উচ্চারণ অভিধান’। ‘বিদেশী শব্দের অভিধান’। ‘লালন শব্দকোষ’ ফিল্ম ডিরেকশন : Father Marino Rigon---Venice to sundarban.

রবির প্রতিভা আমাদের অজান্তেই থেকে যেত যদি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রবির আলো বিকিরণের ব্যাস্থা না করতেন।

Additional information