শিল্পসংস্কৃতি-৩ - পৃষ্ঠা নং-১৫

মাজেদ বিশ্বাস

কবি মাজেদ বিশ্বাস বাস করেন লন্ডনে। কবিতা লেখেন মাতৃভূমির মায়ায়। নিসর্গ, মানুষ, স্বাধীনতা তাঁর কবিতার উপজীব্য। আলাপচারিতা স্টিফেন হকিং এর যত মহাবিজ্ঞানী ও মনীষীদের সাথে। জন্ম রাজবাড়ি জেলার পাংশায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিদ্যায় এমএসসি। গণিত ও আইনশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন উলভার ও লন্ডন থেকে। শিক্ষাকতা করেন। সময় পেলেই ছুটে আসেন মাতৃভূমির টানে। কবিতার ভাবনায় বিভোর থাকেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘দিনরাত্রির ভ্রম ঠিকানা’, ‘সার্থের ভাঙন’, চাঁদের পায়রা চাঁদে’।

রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম নানামুখী প্রতিভার অধিকারী। গীতিকার, সুরকার, গায়ক, কবি। গবেষণাকাজসহ নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সমাজসেবা ও সংস্কৃতি বিকাশের কর্মকাণ্ডে। পেশাগতভাবে তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তা। জেলার হত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে প্রকাশিত বাংলা একাডেমী বইমেলায় প্রকাশিত ‘কাশফুল’ কাব্যগ্রন্থটি পাঠক মহলে নন্দিত। বিটিভির তালিকাভুক্ত গীতিকার। দাবা খেলায় সিদ্ধহস্ত । ডা. আবুল হোসেন -এর সহায়তায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাজবাড়িতে বিভিন্ন সময়ে দাবা খেলার আয়োজন করে চলেছেন। তিনি রাজবাড়ি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের সক্রিয় সদস্য। এ সংসদের মাধ্যমে ২০০৯ সালে মীর মশাররফ হোসেন সম্মাননার (গবেষক আবুল হোসেন চৌধুরীকে) আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ড. আব্দুস সাত্তার

জগৎসংসারে কিছু মানুষ আপন স্বার্থ ত্যাগ করে পরার্থে নিজেকে নিবেদন করেন। রাজবাড়ি জেলা তথা জাতীয় কল্যাণে নিবেদিত মানুষদের মধ্যে ড. আব্দুস সা্ত্তার একজন। তিনি রাজবাড়ি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ‘রাজবাড়ি মুক্তিযুদ্ধ’ গ্রন্থ রচনা করে বর্তমান তথা কালান্তরের মানুষের নিকট নিবেদিত ব্যক্তি অভিধায় ভূষিত হন। রাজবাড়ি জেলার ইতিহাসের তৃতীয় সংস্করণ রচনায় তথ্যবহুল ও দালিলিক এ গ্রন্থখানা অতিগুরুত্বপূর্ণ। আমি রাজবাড়ি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার তাগিদ দীর্ঘদিন অনুভব করে আসছিলাম। আমার বার্ধক্য শারীরিক অসুস্থতায় আমার পক্ষে এ কষ্টসাধ্য কাজ করা সম্ভব নয় বিধায় আমার অনেক তরুণ ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষকদের এ কাজটি করার আহবান জানিয়ে আসছিলাম। ইতিমধ্যে রাজবাড়ি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকাশিত হয়েছে জেনে মাদ্রাসা লাইব্রেরি রাজবাড়ি (শিল্পকলার পাশে) থেকে গ্রন্থটি সংগ্রহ করি। গ্রন্থটির প্রণেতার নাম দেখে প্রথমেই আবেগ উচ্চ্বাসে মনটি তৃপ্ত হল। গ্রন্থটির লেখক আমারই এক গুণমুগ্ধ ছাত্র। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার এ যেন পরম পাওয়া। আরো ভালো লাগল যখন দেখলাম ‘সোনার বাংলার সোনার মানুষ’ অধ্যায়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহে আমার নাম ও রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থটি পাঠক মাত্রই আকৃষ্ট করবে। ড. মোঃ আব্দুস সাত্তার ১৯৫৭ সালে ১ মার্চ রাজবাড়ি সদর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং আইইআর থেকে দুটি বিষয়ে এমএ এবং পরবর্তীতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৮ এ স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি সামাজিক বিষয়দির গবেষক এবং শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ। তিনি শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির খণ্ডকালীন শিক্ষক। তাঁর লেখা গ্রন্থসমূহ-----‘ফরিদপুরে ইসলাম’, ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা ও সমাজ জীবনে এর প্রভাব’, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ প্রণয়ন ও পরিমার্জনের রুপরেখা’, ‘শান্তি ও কর্মমূখী শিক্ষা হিসেবে দাখিল স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীর প্রকৃতি ও পরিসর বিশ্লেষণ’।

Additional information