শিল্পসংস্কৃতি-৩ - পৃষ্ঠা নং-৩

উভয়ের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে যা তাদের আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ করে। বৃন্দাবন দাস তাঁকে পশ্চিম বাংলার হুগলী জেলার জোড়াঘাট গঙ্গা নদীর তীরে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেন। ঐ বাড়িতেই অবধুত মরুতীর্থ হিংলাজ প্রধান চরিত্র ভৈরবীকে নিয়ে দেশ বিভাগের পর বসবাস করতেন।

স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় রাজবাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা তার বাসায় ২/৩ দিন যাপন করেন এবং তার নিকট থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন। অবধূত সৈয়দ মুজতবা আলীকে তার গুরু বলে মানতেন এবং ঘরে সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্য একটি পালঙ্ক রাখতেন যাতে তিনি বসতেন না।

 বিজয়চন্দ্র মজুমাদর

রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থানার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা একটি প্রাচীন প্রসিদ্ধ গ্রাম। এই গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন সাহিত্য সম্রাট বিজয়চন্দ্র মজুমদার। তার জন্ম ১৮৬১ সালের ২৭ অক্টোবর। তিনি কবি, সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও প্রত্নতাত্বিক, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি পালি, তামিল, তেলেগু ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মালম্বী।

তিনি আইন পাস করে মফস্বলে ওকালতি শুরু করেন। প্রায় চল্লিশ বৎসর একটানা উড়িষ্যার দেশীয় রাজ্য মোমপুরের বাজার আইন উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নৃতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা করতেন। ব্যঙ্গ কবিতা লেখায় তিনি পারদর্শীতা অর্জন করেন। চোখের রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি অন্ধ হয়ে যান। তার রচিত কবিতা (১৮৮৯), যুগপ্রজা (১৮৯২), প্রাচীন সভ্যতা (১৯১৫), জীবন বাণী (১৯৩৩), উড়িয়া থেকে অনুবাদ গ্রন্থাবলী। তিনি ১৯৪২ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

সন্তোষ কুমার ঘোষ

প্রতিভাধর, জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী, সংগ্রামী, সাহসী সন্তোষ কুমার ঘোষ রাজবাড়ি জেলার অহঙ্কার। তিনি প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক ছিলেন। নিজ প্রচেষ্টায় ও মেধায় নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। সন্তোষ কুমার ঘোষের পিতা সুরেশচন্দ্র কলিকাতায় থেকে একটি সংবাদপত্র পরিচালনা করতেন। বাড়ি বরিশাল। স্ত্রী সরযূ বালা। সরযূ বালার পিতা রামচন্দ্র ধর ছিলেন রাজবাড়ি ফৌজদারী আদালতের প্রধান করণিক। সন্তোষ কুমারের জন্ম নানা বাড়ি, রাজবাড়ির বর্তমান কলেজপাড়ায়। সহোদর সরোজ কুমার ও সন্তোষ কুমার নানার আশ্রয়ে থেকে আরএসকে ইনস্টিটিউশনে পড়তেন।  সরোজ কুমার প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন। তিনি কলেরা রোগে মারা যান। সন্তোষ কুমার আরএসকে থেকে ১ম বিভাগে ম্যট্রিক পাস করে কলিকাতায় আসেন এবং বিএ পাশ করার পর সংবাদপত্রে যোগদান করেন।

১৯৪২ সালে তিনি ‘যুগান্তর’ পত্রিকারসহ সম্পাদক ‍নিযুক্ত হন। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত তিনি ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও ‘৪৮ সালে নেশান পত্রিকার মুখ্যসহ সম্পাদক ছিলেন। এরপর ‘৪৯ হতে ৫১ সাল পর্যন্ত তিনি কলিকাতার ‘স্টেটসম্যান’ পত্রিকারসহ সম্পাদক ও ‘৫২ সালে দিল্লীর ‘হিন্দুস্থান স্টান্ডর্ড’ পত্রিকার মুখ্য সহ-সম্পাদক ছিলেন। ‘৫৫ হতে ‘৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত পত্রিকার বার্তা সম্পাদক নিযুক্ত হন। ‘৫৮ সালে তিনি ‘আনন্দ বাজার’ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও সম্পাদক ও সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখক হিসেবে যোগদান করেন এবং ‘৬৪ সাল পর্যন্ত ঐ পদেই থাকেন। ‘৬৪ সাল থেকে তিনি ‘আনন্দবাজার’ ও হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডর্ড পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। সন্তোষ কুমার ঘোষ একজন খ্যাতনামা লেখক।

Additional information