শিল্পসংস্কৃতি-৩ - পৃষ্ঠা নং-৫

রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই

বাংলাদেশের গর্ব রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাই, দাদাভাইয়ের গর্ব ছিল পাংশাকে নিয়ে। ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৯ মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বেও এসেছিলেন প্রিয় ভূমি পাংশায়। শিশুদের পরম আপনজন, দেশের প্রধান শিশু কিশোর সংগঠক, কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দৈনিক ইত্তেফাকের ফিচার সম্পাদক ও ছোটদের পাতা কচিকাঁচার আসরের পরিচালক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের পৈতৃক বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার ভবানীপুর গ্রামে হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে পাংশায়। তাঁর মাতমহ বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা কোহিনূর এর সম্পাদক রওশন আলী চৌধুরী। ৬ বছর বয়সে তার মাতা মারা যান আর ৯ বছর বয়সে মারা যান মাতামহ।

এরপর মাতামহের ভ্রাতা সাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরীর নিকট তিনি লালিত পালিত হন। পাংশার জর্জ স্কুলে সর্বোচ্চ ক্লাশ শেষ করেন ১৯৪৩ সালে। মাতামহের বাড়ির সাহিত্যিক পরিমণ্ডলের বঙ্গদর্শন, ভারতবর্ষ, প্রবাসী, মুসলিম ভারত, নবনূর, স্বদেশ, সওগাত প্রভৃতি পত্রিকার সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। ১৯৪৪ সালে কলিকাতায় যান। ১৯৪৭ সালে কলিকাতা হতে ইত্তেহাদ প্রকাশিত হলে দাদাভাই হন প্রথম সম্পাদক। ১৯৪৯ সালে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কর্তৃক শিশু সওগাত প্রকাশিত হলে দাদাভাই এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫০ সালে দাঙ্গায় সওগাত প্রেস আক্রান্ত হলে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ১৯৫০ সালের ২৮ মে দাদাভাই এবং নিজের পরিবার পরিজন এবং কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মচারী নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকায় সওগাত প্রেসের ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। ১৯৫১ সালে দৈনিক মিল্লাত প্রকাশিত হলে দাদাভাই ঐ পত্রিকার কিশোর দুনিয়ার দরদী ভাই হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালের ১ মার্চ মফস্বল সম্পাদক হিসেবে দাদাভাই যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে। ১৯৫৫ সালে কচিকাঁচার আসর প্রকাশিত হলে দাদাভাই এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই হতেই তিনি শিশু কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ সকলের দাদাভাই। ১৯৫২ সালে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের একমাত্র কন্যা বেগম সম্পাদিক নূরজাহান বেগমকে বিবাহ করেন। ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর কবি বেগম সুফিয়া কামালের বাসভবনে প্রতিষ্ঠা করেন কচিকাঁচার মেলা। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি কচিকাঁচার মেলার পরিচালক। শিশুদের পরম প্রিয় দাদাভাই। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ ‘হাট্রি-মা টিম টিম’, ‘আজব হইলেও গুজব নয়ৎ, ‘খোকন খোকন ডাক পাড়ি’। দাদাভাই ১৯৯৮ সালে একুশে পদক, ১৯৯৪ সালে শিশু একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। ১৯৯৮ সালে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল এবং রোটারী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট তাঁকে সম্মানে ভূষিত করে।

আব্দুল লতিফ চৌধুরী

আব্দুল লতিফ চৌধুরী একজন প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক। তিনি ১৯২৬ সালে পাংশা থানার পাটকিয়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন ‘মীর মশাররফ হোসেন’, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর ‍উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

 

 

আলীমুজ্জামান চৌধুরী

‘ও নয়ন পাখিরে, তোরে কোথায় বেঁধে রাখিরে’, ‘আর নেমো না অথৈ জলে সই’। দুই একজন প্রথিতযশা কণ্ঠশিল্পীর কন্ঠে কথা ও সুরের আবেদনে গান দুটি অমূল্য সম্পদ। বলাবাহুল্য গান দুটির রচয়িতা আলীমুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বরাটের কাঁচন্দ গ্রামে বিখ্যাত চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী ছাত্র আলীমুজ্জামান চৌধুরী প্রথম জীবনে শিক্ষাকতা পেশা বেছে নেন।

Additional information