শিল্পসংস্কৃতি-৩ - পৃষ্ঠা নং-১০

পল্লীকবি আনোয়ারুল ইসলাম

পাংশার নারাণপুরের পল্লীকবি আনোয়ারুল ইসলাম একজন সায়র নির্মাতা ছিলেন। পল্লীর জীবনযাত্রা, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী, ইসলামী চেতনা, প্রেমকাহিনী নিয়ে অনেক পুস্তিকা রচনা করেন। এ কবি স্থানীয়ভাবে রেখে গেছেন অনেক কাহিনী যা ইতিহাসের উপাদান। তাঁর কবি প্রতিভার জন্য একবার তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ারর্দী কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তার রচনার মধ্যে ‘কাঠ মোল্লার মূলবাণী’, ‘সাপুড়ে মেয়ে জরিনা’ পাঠক মহলে সমাদৃত। জিহাদের ডাক পুস্তক লিখে তিনি কারাভোগ করেন।

 

জামাল হাবিব

সুন্দরী পদ্মা লো, সুন্দরী মেঘনা লো

মধুমতি, যমুনা ডাকিছে তোরে

মধুময় কথা ও সুরের শিল্পী জামাল হাবিব। সাদা ফতুয়া, পাজামা, মাথায় টুপি, শীর্ণকায় গৌরকান্তির জামাল হাবিব রাজপথে সোজা হয়ে হাঁটে। মনের দৃঢ়তা যেন আকাশ ছুঁয়ে যায়। লেখেন গদ্য, পদ্য, গান, ছড়া, নানা গ্রন্থ। নিজের লেখা গানে নিজে সুর করেন। সে সুর ছড়িয়ে দেন রাজবাড়ির বাতাসে। জন্ম ১৯৩৬ সালে ফরিদপুর শহরের মাতুলালয়ে। শিশুকাল গোয়ালন্দ খালার বাড়িতে এবং স্থায়ী বসতি রাজবাড়ি শহরের কলেজ পাড়ায়। ১৯৫৯ সালে রাজবাড়ি থেকে ম্যাট্রিকুলেশান এবং আইএ রাজবাড়ি কলেজ থেকে। উক্ত কলেজে পদার্থ বিভাগের সহকারী থাকা অবস্থায় প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে বিএ পাস করেন। ১৯৬৮ সাল থেকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তার চাকরি এবং ২০০৬ সালে দৃঢ়চেতা জামাল হাবিব স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ পয়ত্রিশ বছর একসাথে চাকরি করেছি। পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছে। আমার শিল্পী স্ত্রী শাহীনূর বেগম, দুলাল দা, রব ভাই, ফজলু চাচা, মহুয়া, নজরুল ইসলাম কুটি, মোতাহার হোসেনসহ অনেকে রাজবাড়িতে স্বাধীনতা উত্তরকালে বিশেষ করে ৮০ দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সঙ্গীত অঙ্গনের দৃঢ় ভিত রচনা করেন। জামাল হাবিবের লেখা ও সুরের গানে তারা মাতিয়ে তুলত। তাঁর নির্দেশনায় টিভিতে অংশগ্রহণ করত।

জামাল হাবিব চারণকবি নন। শব্দ ও ছন্দে আধুনিক কবিতার সৌষ্ঠব রয়েছে। তাঁর কবিতায় আছে অন্যায়ের প্রতিবাদ, ভালো মন্দের বিচার বিশ্লেষণ, সংসয় এবং আশা। দারিদ্র, অনটনের আঘাত তাকে স্পর্শ করে কিন্ত তিনি ভেঙ্গে পড়েন না। নিরলস কলম চলে অবসরে, কাজের ব্যস্ততার মধ্যে। অনেক কাজের ভিড়েও তাকে দেখেছি ক্যাম্পাসের ঘাসে বসে সে আপন মনে কিছু রচনা করছে।

জামাল হাবিব গুণীজনের দৃষ্টি এড়িয়ে যান না। ১৯৮৭ তে ফরিদপুরে গুণীজন সংবর্ধনা পান। রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমী তাকে এ সম্মানে সম্মানিত করে। ১৯৯৩ তে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ তাঁকে পুরস্কৃত করে। ১৯৯১ তে ‘জসিম উদ্দীন পুরস্কার’, ১৯৯২ কুষ্টিয়া থেকে ‘লুপ্ত সুপ্ত পুরস্কারে’ সম্মানিত করা হয়। তার রচিত গান ও কবিতার সংখ্যা দুই সহস্রাধিক। রেডিও, টিভির গীতিকার। তার হাতে গড়া ‘স্মৃতিময় সাহিত্য পরিষদ’ কর্তৃক তিনি রাজবাড়ি ও ফরিদপুরের গুণীজনদের সনদ প্রদান করেছেন।

Additional information