শিল্পসংস্কৃতি-৩

 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান রাজবাড়ি জেলা নয়। তবে তাঁর লেখা বহুল আলোচিত ও পঠিত উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝিতে পদ্মার তট সংলগ্ন মাঝিদের বিশ্বস্ত জীবন চিত্রন হয়েছে। উপন্যাসের চরিত্র চিত্রণ পটভুমি রাজবাড়ি জেলার ঐতিহ্যবাহী গোয়ালন্দ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পিতার কর্মস্থল সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে ১৯০৮ সালে মে মাসের ১৯ তারিখ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতিক নিবাস বিক্রমপুর-মুন্সিগঞ্জের মানিকদিয়া গ্রাম। পিতার নাম হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় (বিএ) ছিলেন সেটেলমেন্ট বিভাগের অফিসার এবং চাকরি জীবনের শেষে ডেপুটি ম্যাজিট্রেট পদে উন্নীত হন। মাতা নিরদাসুন্দরী দেবী পিতৃদত্ত নাম প্রবোধ কুমার। মানিক তাঁর ডাক নাম। তিনি খুবই মেধাবী ছিলেন। মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেক লেটারসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক

(১৯২৬) এবং বাঁকুড়া ওমেলীয় কলেজ থেকে ১৯২৮ সালে প্রথম বিভাগে আএসসি পাস করেন। অতঃপর গণিতে অনার্স নিয়ে কলিকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন। লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি। সমাজ চেতনা ও সাহিত্য রচনাই হয় জীবনের ব্রত। তার লেখা প্রথম গল্প ‘অতসী মামা’। ১৯৪৪ ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন এবং আমৃত্যু কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃভূমি বিক্রমপুর-মুন্সিগঞ্জ এবং গোয়ালন্দ একই পদ্মার তটরেখায়। পদ্মার তটভূমির পীড়িত মাঝিদের আটপৌরে জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন।

তিরিশোত্তর বাংলা কথা-সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর গল্প ও উপন্যাসগুলো স্বতন্ত্র ও স্বীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। শরৎচন্দ্র ও কল্লোল গোষ্ঠীর লেখকদের পর বাংলা সাহিত্যে বস্তুতান্ত্রিকতা ও মনোবিশ্লেষণের ধারা সর্বাধিক উজ্জ্বলভাবে অঙ্কনের কৃতিত্ব তাঁর। তাঁর পর্যায়ের রচনায় মানুষের অবচেতন মনে যে নিগূঢ় রহস্যলীলা প্রচ্ছন্ন, (ফ্রেয়েডীয় সুত্র) তার নিপুণ বিশ্লেষণ উপস্থাপিত। যৌন আকাঙ্খায় জন্ম আর জীবন ধারণে উদর পূর্তির উপাদান খাদ্য। যৌনাকাঙ্খার সঙ্গে উদরপূর্তির সমস্যার ভিত্তিতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। তিনি বাংলা সাহিত্যের সার্থক রিয়ালিস্টিক শিল্পী। তিনি সমসাময়িক কালের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত বাঙালি জীবনের ট্রাজেডি এত নির্মম, সত্যনিষ্ঠ ও শিল্পকুশলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন যে, তাঁর পূর্বে আর কেউ তা ফুটিয়ে তুলতে পারেননি বলে সমালোচকদের অভিমত।

১৯৩৬ সালে পদ্মা নদীর মাঝি প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতীয় উপন্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনুবাদ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ভারতের একাধিক ভাষাসহ ইংরেজি, চেক, হাঙ্গোরিয়ান, রুশ, লিথুনিয়ান, নরওয়েজিয়ান, সুইডিশ ভাষায় অনুদিত হয়েছে। পদ্মা নদীর মাঝি তাঁর চতুর্থ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে ইংরেজি অনুবাদ ‘Between on of the Padma'  প্রকাশিত হয়। পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসটি চলচ্চিত্র রুপায়নে চলচ্চিত্রটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে। বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী অনুযায়ী, ১৯৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির বাংলা আবশ্যিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত সহপাঠ উপন্যাস গ্রন্থ হিসেবে নির্বাচিত। প্রায় ষাটখান গ্রন্থও অসংখ্য অগ্রন্থিত রচনার প্রণেতা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি সার্থক আঞ্চলিক গ্রন্থ হিসেবেও বিবেচিত। অঞ্চলটি পদ্মানদীর তীর সংলগ্ন বাংলার ঐতিহ্যবাহী দ্বারপথ পরিচিত গোয়ালন্দ তথা রাজবাড়ি। উপন্যাসটিতে অঞ্চলভিত্তিক রাজবাড়ির নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনালেখ্যসহ তৎকালীন গোয়ালন্দের রেল, স্টিমার, ব্যবসা বাণিজ্যসহ জমজমাট শহর জীবনেরও কিছুটা আভাস পাওয়া যায়।  সে সাথে অত্র অঞ্চলের কৃত্রিমতা বর্জিত গ্রামীণ জীবন সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক ভাষার পরিস্ফুটন ঘটেছে। ঔপিনিবেশিক বৃটিশ শাসন ও শোষণে নির্জীব মানুষের পার্শে বামপন্থী লেখক, সাহিত্যিক রাজনীতিবিদগণ গণমানুষের চেতনায় নাড়া দেন। তৎকালীন গোয়ালন্দ গ্রামীণ পরিবেশে ব্যস্ত শহর। এখানে অনেক কারণেই লেখক সাহিত্যিক রাজনীতিবিদদেরও সমাগম ঘটে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পিতৃভুমির টানে গোয়ালন্দ হয়ে স্টিমারযোগে চলাচল করেছেন, সময় কাটিয়েছেন গোয়ালন্দ বা পার্শ্ববর্তী সাধারণ মানুষের সাথে। তাঁর উপন্যাস পদ্মানদীর মাঝিতে নিপুণভাবে অঙ্কিত তৎকালীন গোয়ালন্দ ঘাটের জনচলাচল, প্রতিবেশ, ভাষা জীবনছারণ তা স্মরণে আনে। উপন্যাসের শুরুতেই গোয়ালন্দের উজান ও ভাটির ঐতিহ্যবাহী ইলিশ ধরা, সে সময়ের গোয়ালন্দ ঘাটের বিভিন্নমুখী যাতায়াতের নিমিত্তে নোঙর করা জাহাজের ভিড়, পদ্মার তীর পর্যন্ত রেলস্টেশন তথ্য সন্নিবেশ দেখা যায়।


বর্ষার মাঝামাঝি পদ্মার ইলিশ মাছ ধরার মরশুম চলিয়াছে। দিবারাত্রী কোনো সময় মাছ ধরার কামাই নেই। সন্ধ্যার সময় জাহাজ ঘাটে দাঁড়াইলে দেখা যায় নদীর বুকে শত শত আলো অনির্বান জোনাকির মতো ঘুড়িয়া বেড়াইতেছে। জেলে নৌকার আলো ওগুলি। সমস্ত রাত্রি আলোগুলি এমনিভাবে রহস্যময়ের ম্লান অন্ধকারে দুর্বোধ্য সঙ্কেতের মতো সঞ্চালিত হয়। এক সময় সারারাত্র পার হইয়া যায়। শহরে, গ্রামে, রেলস্টেশনে ও জাহাজ ঘাটে শ্রান্ত মানুষ চোখ বুজিয়া ঘুমাইয়া পড়ে। শেষ রাত্রে ভাঙ্গা ভাঙ্গা মেঘে ঢাকা আকাশে ক্ষীণ চাঁদটি ওঠে। জেলে নৌকার আলোগুলি তখনও নেভে না। নৌকার খোল ভরিয়া জমতে থাকে মৃত সাদা ইলিশ মাছ। লণ্ঠনের আলোয় মাছের আঁশ চকচক করে। মাছের নিস্পলক চোখগুলিকে স্বচ্ছ নীলাভ মণির মতো দেখায়।

উপন্যাসের আরম্ভেতেই তৎকালীন মহকুমা শহর পদ্মার তীর সংলগ্ন গোয়ালন্দ ঘাট, জাহাজ, রেল, গোয়ালন্দের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ মাছের ব্যবসা বাণিজ্যের সঠিক চিত্র দেখতে পাই। ‘কুবের আজ মাছ ধরিতে ছিল দেবীগঞ্জের মাইল দেড়েক উজানে। নৌকায় আরো দু’জন লোক আছে ধনঞ্জয় এবং গণেশ। তিনজনের বাড়িই কেতুপুর গ্রামে। বর্তমান গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া সে সময় ছিল নদীগর্ভে। গোয়ালন্দ ঘাট ছিল বর্তমান গোয়ালন্দ বাজার থেকে ৪/৫ মাইল উজানে। বলা হত গ্যাঙ্গেজ বন্দর। আরিচা ঘাটকে সামনে করে তার অবস্থান ছিল। প্রমত্ত পদ্মার ভাঙ্গা গড়ায় কেতুপুর হারিয়ে গেছে নদীগর্ভে। দেবীগঞ্জ এখন দেবগ্রাম ইউনিয়ন হিসেবে দেবীগঞ্জের স্মৃতি বহন করছে।

উপন্যাসটিতে কুবের মাঝিকে কেন্দ্র কেন্দ্র করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা টানাপোড়নে তাদের জীবন চিত্রের কাহিনী অগ্রগামী হয়েছে। এ কাহিনীর মধ্যে অঞ্চলভিত্তিক মানুষের ভাষা, দৈনন্দিন জীবন, আশা নিরাশার চিত্র দেখতে পাই-----‘পাশেই কাঠের প্যাকিং কেসে এক সারি মাছ ও এক পরত করিয়া বরফ বিছাইয়া চালানের ব্যবস্থা হইতেছে। খানিক দূরে মেইন লাইন হইতে গায়ের জোরে টানিয়া আনা একজোড়া ‍উঁচু নিচু ও প্রায় অকেজো লাইনের উপর চার পাঁচটা ওয়াগন দাঁড়াইয়া আছে। মাছের বোঝা লইয়া যথাসময়ে ওয়াগনগুলি কলিকাতায় পৌছাইবে। সকালে বিকালে বাজারে বাজারে ইলিশ কিনিয়া কলিকাতার মানুষ ফিরবে বাড়ি। কলিকাতার বাতাসে পাওয়া যাইবে পদ্মার ইলিশ মাছ ভাজার গন্ধ।’ এখানে কৎকালীন বরফ ব্যবসা, মাছের ব্যবসা, গোয়ালন্দের পদ্মার ইলিশের স্বাদ, কলিকাতার সাথে গোয়ালন্দের যাতায়াত, ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্কসহ মানুষের জীবনচিত্র দেখতে পাই।

গনেশ বলিল-----হীরা জ্যাঠা ছন দিব? জ্যাঠারে তুই চিনিস না কুবির, কাইলের কাণ্ড জানস? বিহানে ঘরে ফিরা শুমু, বড় কয় চাল বাড়ন্ত। খাও আইঠা কলা, ভর রাইত জাইগা ঘুমের লাইগা দুই চক্ষু আধার দ্যাহে----চাল বাড়ন্ত। বৌরে কইলাম হীরা জ্যাঠার ঠাঁই, দুগা কর্জ আনগা। দুপুরে গাঁয়ে গিয়া কিনা আনুম। বৌরে জ্যাঠা কী কইয়া দিল। কয় কী, বিষ্যুদবার কর্জ দেওয়া মানা। এই ভাষাটিই এ অঞ্চলের ভাষা। ‘কাইলে’ ‘বিহানে’ ‘শুমু’ ‘কয়’ ‘জাইয়া’ ‘লাইগা’ ‘কহে’ ‘দ্যাহে’ ‘আনুম’ ‘বিষ্যুদবার’ এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা। একদিন গোয়ালন্দে অধরের সঙ্গে কুবেরের দেখা হইয়া গেল। অধর বলিল, কয়দিন আগে কপিলা চরডাঙ্গায় আসিয়াছে। কিছুদিন থাকিবে।

উপন্যাসের শে ১৩ পৃষ্ঠার আগে এভাবে গোয়ালন্দের উল্লেখে উপন্যাসটি শেষ হতে চলেছে। এর সাথে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝিদের তথা রাজবাড়ি গোয়ালন্দের অনেক স্মৃতিখণ্ড, ইতিহাস, ঐতিহ্য হিসেবে আমাদের গর্ব হয়ে থাকবে।

অবধূত

অবধূতের জন্মস্থান রাজবাড়িতে না হলেও রাজবাড়ির মাটি ও মানুষ অমর কথাসাহিত্যিক দিয়েছে তার অমর গ্রন্থ ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ ও ‘উদ্ধারণপুরের ঘাট’  লেখার উপাদান উদ্যোগ। যে কারণে অবধূত তাঁর মরুতীর্থ হিংলাজ রাজবাড়ির সূর্যনগরের হরিণধারার বিশিষ্ট ব্যক্তি বাবু বৃন্দাবন দাশের নামে উৎসর্গ করেন। দেশ বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত গোয়ালন্দ তখন সাহিত্য, রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্র বিন্দু হয়ে ওঠে। এর সূত্র আগমন ঘটে ছন্নছাড়া জীবনের এক অমর সাহিত্যিক অবধূত এর। যিনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কালে আস্তানা গেড়ে বসেন গোয়ালন্দে। বৃন্দাবন দাস ও স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রে গোয়ালন্দ থাকতেন।


উভয়ের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে যা তাদের আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ করে। বৃন্দাবন দাস তাঁকে পশ্চিম বাংলার হুগলী জেলার জোড়াঘাট গঙ্গা নদীর তীরে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেন। ঐ বাড়িতেই অবধুত মরুতীর্থ হিংলাজ প্রধান চরিত্র ভৈরবীকে নিয়ে দেশ বিভাগের পর বসবাস করতেন।

স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় রাজবাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা তার বাসায় ২/৩ দিন যাপন করেন এবং তার নিকট থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন। অবধূত সৈয়দ মুজতবা আলীকে তার গুরু বলে মানতেন এবং ঘরে সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্য একটি পালঙ্ক রাখতেন যাতে তিনি বসতেন না।

 বিজয়চন্দ্র মজুমাদর

রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থানার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা একটি প্রাচীন প্রসিদ্ধ গ্রাম। এই গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন সাহিত্য সম্রাট বিজয়চন্দ্র মজুমদার। তার জন্ম ১৮৬১ সালের ২৭ অক্টোবর। তিনি কবি, সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও প্রত্নতাত্বিক, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি পালি, তামিল, তেলেগু ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মালম্বী।

তিনি আইন পাস করে মফস্বলে ওকালতি শুরু করেন। প্রায় চল্লিশ বৎসর একটানা উড়িষ্যার দেশীয় রাজ্য মোমপুরের বাজার আইন উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নৃতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা করতেন। ব্যঙ্গ কবিতা লেখায় তিনি পারদর্শীতা অর্জন করেন। চোখের রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি অন্ধ হয়ে যান। তার রচিত কবিতা (১৮৮৯), যুগপ্রজা (১৮৯২), প্রাচীন সভ্যতা (১৯১৫), জীবন বাণী (১৯৩৩), উড়িয়া থেকে অনুবাদ গ্রন্থাবলী। তিনি ১৯৪২ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

সন্তোষ কুমার ঘোষ

প্রতিভাধর, জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী, সংগ্রামী, সাহসী সন্তোষ কুমার ঘোষ রাজবাড়ি জেলার অহঙ্কার। তিনি প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক ছিলেন। নিজ প্রচেষ্টায় ও মেধায় নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। সন্তোষ কুমার ঘোষের পিতা সুরেশচন্দ্র কলিকাতায় থেকে একটি সংবাদপত্র পরিচালনা করতেন। বাড়ি বরিশাল। স্ত্রী সরযূ বালা। সরযূ বালার পিতা রামচন্দ্র ধর ছিলেন রাজবাড়ি ফৌজদারী আদালতের প্রধান করণিক। সন্তোষ কুমারের জন্ম নানা বাড়ি, রাজবাড়ির বর্তমান কলেজপাড়ায়। সহোদর সরোজ কুমার ও সন্তোষ কুমার নানার আশ্রয়ে থেকে আরএসকে ইনস্টিটিউশনে পড়তেন।  সরোজ কুমার প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন। তিনি কলেরা রোগে মারা যান। সন্তোষ কুমার আরএসকে থেকে ১ম বিভাগে ম্যট্রিক পাস করে কলিকাতায় আসেন এবং বিএ পাশ করার পর সংবাদপত্রে যোগদান করেন।

১৯৪২ সালে তিনি ‘যুগান্তর’ পত্রিকারসহ সম্পাদক ‍নিযুক্ত হন। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত তিনি ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও ‘৪৮ সালে নেশান পত্রিকার মুখ্যসহ সম্পাদক ছিলেন। এরপর ‘৪৯ হতে ৫১ সাল পর্যন্ত তিনি কলিকাতার ‘স্টেটসম্যান’ পত্রিকারসহ সম্পাদক ও ‘৫২ সালে দিল্লীর ‘হিন্দুস্থান স্টান্ডর্ড’ পত্রিকার মুখ্য সহ-সম্পাদক ছিলেন। ‘৫৫ হতে ‘৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত পত্রিকার বার্তা সম্পাদক নিযুক্ত হন। ‘৫৮ সালে তিনি ‘আনন্দ বাজার’ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও সম্পাদক ও সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখক হিসেবে যোগদান করেন এবং ‘৬৪ সাল পর্যন্ত ঐ পদেই থাকেন। ‘৬৪ সাল থেকে তিনি ‘আনন্দবাজার’ ও হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডর্ড পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। সন্তোষ কুমার ঘোষ একজন খ্যাতনামা লেখক।


বিজন ভট্রাচার্য

বিজন ভট্রাচার্য ১৯০৬ সালে খানখানাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ক্ষিরোদ বিহারী ভট্রাচার্য ছিলেন স্কুল শিক্ষক। ভূ-স্মমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত নাট্যকার ও অভিনেতা। কথা সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর স্বামী। অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে ১৯২০ সালে রাজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন। আশুতোষ ও রিপন কলেজে অধ্যয়ন। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়ায় বিএ পড়ায় (১৯৩১) ছেদ পড়ে। কিছুকাল আনন্দবাজার পত্রিকায় চাকরি করেন। ১৯৪২ কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান এবং পার্টির সদস্যপদ লাভ। নবনাট্য আন্দোলনের প্রথম পুরোহিত। পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় গ্রাম বাংলার কৃষক সমাজের দুঃখ দুর্দশা এবং তাদের সংগ্রামের সফলতার ও বিফলতার আলেখ্য অবলম্বনে নবান্ন (১৯৪), নাটক রচনা করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। জনপদ (১৯৪৫), কলঙ্ক (১৯৪৬), মরাচাঁদ (১৯৪৬), অবরোধ (১৯৪৭), গেপ্তার (১৯৬০)। সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র এসব নাটকের উপজীব্য। মার্কসের দৃষ্টি নিয়ে যারা নাট্য রচনায় সার্থকতা লাভ করেছেন তাঁদের মধ্যে বিজন ভট্রাচার্যের স্থান শীর্ষে। তিনি কলকাতায় ১৯ জানুয়ারি ১৯৭৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী আবুল হোসেন

রাজবাড়ির মাটি যে সমস্ত সাহিত্য সাধকের জন্ম দিয়েছে তার মধ্যে কাজী আবুল হোসেন অন্যতম। ১৯০৯ সালে শৈলকূপায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস মৃগী ইউনিয়নের পারকুলা গ্রামে। পিতা কাজী মগবুল আলী দীর্ঘদিন তৎকালীন কুর্শী পদমদির নবাব শামছুল হুদা বাহাদুরের বিধবা পত্নীর  এস্টেটের নায়েবের চাকরি করতেন। কাজী আবুল হোসনের শৈশবে পিতৃবিয়োগ হওয়ায় এবং সংসারের নিদারুণ চাপে প্রাতিষ্ঠনিক শিক্ষা তেমনভাবে গ্রহণ করতে না পারলেও এই অসাধারণ প্রতিভাধর ঔপন্যাসিক বাংলা সাহিত্যের জন্য রেখে গেছেন অমূল্য সাহিত্য ভাণ্ডার। তাঁর উপন্যাসসমূহ ‘উমাপদ যোশোদাঃ সংবাদ’, ‘কাজল আঁখির মায়া’ ‘কালো বউ’, ‘চেনা অচেনা’, ‘জীবনের খেলাঘর’, ‘দোলনী বেগম’, ‘নূর বানু’ ‘রাঙা বউ’, ‘বন জোৎস্না’, ‘সতীনের ঘর’, ‘মরণ সাগর তীরে’, ‘জোহরা’, ‘মা’ ‘ফেলে আসা দিনগুলি’। তিনি ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী মাসুম

কাজী আবুল হোসেনের অনুজ কাজী বিশিষ্ট অনুবাদক সাহিত্যিক। তিনি উর্দু লেখক শওকত সিদ্দিকীর ‘খোদাকী বাস্তী’, মীর আম্মান ওয়ালীর ‘বাগ ও বাহার’, মীর্জা মোহাম্মদ আলী রচিত ‘ওমারাও জান’, কুদরত উল্লা সাহাব রচিত ‘লাল ফিতা’। এছাড়া আহম্মদ আব্বাস, নসিম হেজাজী, সাদাত হাসান মান্টোর অনেক গল্প পুস্তক অনুবাদ করেন।


রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই

বাংলাদেশের গর্ব রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাই, দাদাভাইয়ের গর্ব ছিল পাংশাকে নিয়ে। ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৯ মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বেও এসেছিলেন প্রিয় ভূমি পাংশায়। শিশুদের পরম আপনজন, দেশের প্রধান শিশু কিশোর সংগঠক, কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দৈনিক ইত্তেফাকের ফিচার সম্পাদক ও ছোটদের পাতা কচিকাঁচার আসরের পরিচালক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের পৈতৃক বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার ভবানীপুর গ্রামে হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে পাংশায়। তাঁর মাতমহ বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা কোহিনূর এর সম্পাদক রওশন আলী চৌধুরী। ৬ বছর বয়সে তার মাতা মারা যান আর ৯ বছর বয়সে মারা যান মাতামহ।

এরপর মাতামহের ভ্রাতা সাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরীর নিকট তিনি লালিত পালিত হন। পাংশার জর্জ স্কুলে সর্বোচ্চ ক্লাশ শেষ করেন ১৯৪৩ সালে। মাতামহের বাড়ির সাহিত্যিক পরিমণ্ডলের বঙ্গদর্শন, ভারতবর্ষ, প্রবাসী, মুসলিম ভারত, নবনূর, স্বদেশ, সওগাত প্রভৃতি পত্রিকার সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। ১৯৪৪ সালে কলিকাতায় যান। ১৯৪৭ সালে কলিকাতা হতে ইত্তেহাদ প্রকাশিত হলে দাদাভাই হন প্রথম সম্পাদক। ১৯৪৯ সালে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কর্তৃক শিশু সওগাত প্রকাশিত হলে দাদাভাই এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫০ সালে দাঙ্গায় সওগাত প্রেস আক্রান্ত হলে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ১৯৫০ সালের ২৮ মে দাদাভাই এবং নিজের পরিবার পরিজন এবং কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মচারী নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকায় সওগাত প্রেসের ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। ১৯৫১ সালে দৈনিক মিল্লাত প্রকাশিত হলে দাদাভাই ঐ পত্রিকার কিশোর দুনিয়ার দরদী ভাই হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালের ১ মার্চ মফস্বল সম্পাদক হিসেবে দাদাভাই যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে। ১৯৫৫ সালে কচিকাঁচার আসর প্রকাশিত হলে দাদাভাই এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই হতেই তিনি শিশু কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ সকলের দাদাভাই। ১৯৫২ সালে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের একমাত্র কন্যা বেগম সম্পাদিক নূরজাহান বেগমকে বিবাহ করেন। ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর কবি বেগম সুফিয়া কামালের বাসভবনে প্রতিষ্ঠা করেন কচিকাঁচার মেলা। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি কচিকাঁচার মেলার পরিচালক। শিশুদের পরম প্রিয় দাদাভাই। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ ‘হাট্রি-মা টিম টিম’, ‘আজব হইলেও গুজব নয়ৎ, ‘খোকন খোকন ডাক পাড়ি’। দাদাভাই ১৯৯৮ সালে একুশে পদক, ১৯৯৪ সালে শিশু একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। ১৯৯৮ সালে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল এবং রোটারী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট তাঁকে সম্মানে ভূষিত করে।

আব্দুল লতিফ চৌধুরী

আব্দুল লতিফ চৌধুরী একজন প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক। তিনি ১৯২৬ সালে পাংশা থানার পাটকিয়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন ‘মীর মশাররফ হোসেন’, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর ‍উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

 

 

আলীমুজ্জামান চৌধুরী

‘ও নয়ন পাখিরে, তোরে কোথায় বেঁধে রাখিরে’, ‘আর নেমো না অথৈ জলে সই’। দুই একজন প্রথিতযশা কণ্ঠশিল্পীর কন্ঠে কথা ও সুরের আবেদনে গান দুটি অমূল্য সম্পদ। বলাবাহুল্য গান দুটির রচয়িতা আলীমুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বরাটের কাঁচন্দ গ্রামে বিখ্যাত চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী ছাত্র আলীমুজ্জামান চৌধুরী প্রথম জীবনে শিক্ষাকতা পেশা বেছে নেন।


প্রথমে রামদিয়া কলেজ, এরপর হরগঙ্গা কলেজ এবং পরে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। রাজেন্দ্র কলেজে থাকাকালীন তিনি তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ বেতারের উচ্চপদে চাকরি করে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি একজন গীতিকার, কবি ও সাহিত্যিক। তাঁর রচিত পুস্তক ‘ও নয়ন পাখিরে’ (গীতিগ্রন্থ), ‘অন্ধকার তুবও’, ‘চতুষ্কোণের কিয়দংশ’ (সমালোচনা), ‘নয়ন সম্মুখে’ কবিতা গ্রন্থ পাঠক মহলে সমাদৃত। তিনি অকৃতদার।

বেগম রাজিয়া খান

রাজবাড়ি জেলার খানখানাপুর (ফুলতলা) ঐতিহাসিক স্থান। খানখানাপুরের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ তমিজ উদ্দিন খান ও তাঁর পরিবার বিভিন্ন কারণে বিখ্যাত। তমিজউদ্দিন খানের কন্যা বেগম রাজিয়া খান দেশের একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। ‘বটতলার উপন্যাস’, ‘আবর্ত নাটক’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

 

 

সানজিদা খাতুন

প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও রবীন্দ্র গবেষক সানজিদা খাতুন পাংশার কাজী পরিবারে ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ড. কাজী মোতাহার হোসেনের কন্যা। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘সত্যেন্দ্র কাব্য পরিচয়’, ‘রবিন্দ্রনাথের হাতে হাত রেখে’, ‘ধ্বনির কথা আবৃত্তির কথা’।

 

 

প্রফেসর ড. ফকীর আব্দুর রশীদ

রাজবাড়ি জেলার সাহিত্য কর্মে ড. ফকীর আব্দুর রশীদ বিশেষ ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৮ সালে বাংলা একাডেমী প্রকাশিত দেশের সাহিত্য ব্যক্তিদের নামের তালিকায় তিনি তার সাহিত্য কর্ম দ্বারা স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম বিভিন্নমূখী। তিনি ষাট দশকে প্রথমে রাজবাড়ি থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক ‘চন্দনা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ড. ফকীর আব্দুর রশীদ-এর জন্মস্থান পদমদি গ্রামে। তিনি একাধারে শিক্ষক, সাহিত্যিক, কবি, গবেষক। তাঁর রচিত ‘সুফি দর্শন’ দেশে বিশেষভাবে সমাদৃত। গ্রন্থের সংখ্যা দশেরও অধিক। তিনি ‍সুফি দর্শনের উপর গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্ত হন। তিনি মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ড. ফকীর আব্দুর রশীদ বর্তমানে বাংলা একাডেমী কর্তৃক বিভিন্ন জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিাহস রচনা প্রকল্পের ‘রাজবাড়ি জেলার মুক্তিযুদ্ধে’র ইতিহাস রচনায় দায়িত্ব প্রাপ্ত লেখক।

প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা

প্রফেসর শংকর চন্দ্র সিনহা একজন শিক্ষাবিদ হয়েও সাহিত্য সাধনা তাঁর নিত্যকর্ম। শংকর চন্দ্র সিনহার অসংখ্য লেখা ম্যাগাজিন, পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি গান, কবিতা, প্রবন্ধ লিখে থাকেন। গান রচনায় তাঁর মেধা প্রশংসনীয়। তার রচিত ‘বাণী বিচিত্রা’ বিভিন্ন মহলে ভূয়সী প্রশংসা পায়। তিনি একজন নাট্যকর্মী। তার লেখা গান কবিতা নিয়ে একটি পুস্তক মুদ্রিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান তিনি ‘সনাক’ এর সভাপতি। সনাকের পক্ষ থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় গমন করেন। তিনি বোয়ালমারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

 


মোঃ শামসুর রহমান

রাজবাড়ি জেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামে মোঃ শামসুর রহমান ১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বৃষ্টি ঝরা গান’ (কবিতা) তাঁতি হলো রাজা’ (ছোটগল্প), ‘সাঝ আকাশের তারা’, ‘হযরত আলী’।

 

 

 কবি কালীকৃষ্ণ গুহ

পশ্চিমবাংলার স্বনামধন্য কবি কালীকৃষ্ণ গুহ রাজবাড়ি জেলার ছাইবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজনীতিবিদ কমলকৃষ্ণ গুহ তার ভ্রাতা। আবহমান বাংলার রুপ তার মনে যে রেখাপাত করেছিল পরিণত জীবনে তাই হয়ে ওঠে কালীকৃষ্ণ গুহের কাব্যের উপাদান। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবাংলার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারী।

 

 

হাজেরা নজরুল

রাজবাড়ি সদর থানার পদ্মা পাড়ের গ্রাম রামচন্দ্রপুর। পদ্মার খাড়িতে অবস্থিত ছোট ছিমছাম গ্রাম রামচন্দ্রপুর বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য ব্যক্তির জন্মস্থান। দেশের বিশিষ্ট লেখক হাজেরা নজরুল এই রামচন্দ্রপুরের মাটিতে শৈশব কাটিয়েছেন। তার প্রকাশিত----‘জোনাকির আলো’ ও অন্যান্য গল্পগ্রন্থ উল্লেখযোগ্য

 

 

নজরুল ইসলাম চৌধুরী (এনআই চৌধুরী)

নজরুল ইসলাম চৌধুরী রাজবাড়ি জেলা হোগলাডাঙ্গি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন রাজবাড়িতে ওকালতি করতেন। তার প্রকাশিত ‘মনের বীণায়’ ‘মজার গল্প’ উল্লেখযোগ্য।

 

 


ড. মাসুদুজ্জামান

ড. মাসুদুজ্জামান কবি, গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষক। বর্তমানে তিনি গবেষণার সাথে যুক্ত এবং কলাম লেখক। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে কবিতা ও গবেষণা পুস্তকরে সংখ্যাই বেশি।

 

 

মোস্তফা মীর

হাঁটি হাঁটি পা পা করে মোস্তফা মীর সাহিত্য জগতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। স্বাধীনতা উত্তরকালে রাজবাড়ি থেকে প্রায়শঃই সঙ্কলন বের হত এবং সকল সঙ্কলনেই মোস্তফা মীরের কবিতা, গল্প ছাপা হত। পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় তিনি গল্প ও কবিতা লিখতেন। মোস্তফা মীর বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ঔপন্যাসিক। তার প্রকাশিত কবিতা ও উপন্যাসের সংখ্যা দশ এর উপরে।

 

 

ওবায়দুল ইসলাম

রাজবাড়ি জেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কবি ওবায়দুল ইসলাম। তার পিতা মরহুম আব্দুল ওয়াহাব বিশ্বাস একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ছিলেন। ওবায়দুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলা একাডেমীর উপ-পরিচালকের পদে আসীন থাকেন। তার প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ ‘জলে স্রোত যায়’, ‘এসব মহৎ মিথ্যাচার’, ‘আপনের সপ্তপাট’ দীপনের জবানবন্দি, ‘সারাবেলা মুখোমুখি’।

 

 

মোঃ ইদ্রিস মিয়া (ময়না ভাই)

লোকটিকে দেখলে মনে হয় না মানুষটির মেধায় এত তেজ। হালকা গড়ন তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। মানুষটি ৭১ এর যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিসেনাদের বিরুদ্ধে। তিনি শুধু মুক্তিযোদ্ধাই নন, তিনি একজন গীতিকার, সুরকার। তার লেখা গীতিনাট্য ‘ষোড়শী’ বেতার ও টিভিতে প্রচারিত হয়। তাঁর গান স্থানীয় অনেক শিল্পীর কণ্ঠে শোনা যায়। তার রচিত পল্লীগীতি, দেশাত্মবোধক গান, মুরশীদি, আধুনিক গান, ভাষা আন্দোলনের গান, খালকাটার গান সমাদৃত। তার জন্মস্থান লক্ষীকোল গ্রাম, পিতা মৌলবী ইব্রাহিম মিয়া। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী বুলেটিনে তাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে।

 


শহীদুল ইসলাম

শহীদুল ইসলাম (মিন্টু) ৪র্থ শ্রেণিতে থাকাকালীন কলেজের বিজ্ঞান সপ্তাহে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উপস্থিত বক্তৃতা শুনে মনে হয়েছিল সে একদিন একটা কিছু করবে। পরবর্তীতে সে খ্যাতিমান লেখক। তার ২২টি বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত কয়েকটি গ্রন্থের নাম ‘হৃদয় ছুয়ে যায়’ (উপন্যাস), ‘ভালোবাসার প্রথম ছোঁয়া’, ‘আকবর দ্যা গ্রেট’ (অনুবাদ), ‘রাবেয়া খাতুনের নির্বাচিত উপন্যাস’ (সম্পাদনা), ‘ভুতগুলো সব জোকার’ (শিশু উপন্যাস), ‘ডেট লাইন-৭১’ (গবেষণা)।

নাসির উদ্দিন (পথিক কবি)

আমি এক সীমিত শূন্য

বিশাল শূন্যের মাঝে

একা একা বিচরণ

এই পৃথিবীর বুকে

-------নাসির উদ্দিন

আত্মার ক্রন্দনে বলিয়ান আত্মশক্তি তার, সবল বৃক্ষের মতো ছায়াদান করে চলেছেন পথে প্রান্তরে। তিনি আত্মভোলা পথিক কবি নাসির উদ্দিন। পথে প্রান্তরে ঘুরে বেরিয়েছেন ৩০ বৎসরের অধিককাল। নিজ গ্রাম খানখানাপুরের চরধোপাখালি কিন্তু জীবন কাটে হাটে-বাটে, মাঠে-ঘাটে। মাঝে মাঝে ফিরে আসেন চিরচেনা স্বজনের কাছে। এককালে রাজবাড়ি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। রেডিওতে গান করেছেন ১৯৭৫ পর্যন্ত। পরে কবিতা লেখা, আবৃত্তি আর বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের সাথে দর্শনচর্চা। ১৯৮৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের সভাপতি রানী ইসাবেলার উত্তরসূরী প্রিন্সেস আইরীনের ভোলা জেলার অর্ফানেজে ৭২টি গাভী দেয়দান অনুষ্ঠানে নিজের লেখা ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি করায় রানী খুশী হয়ে তাকে ‘দেয়দানে’ ভূষিত করেন। তার লেখা পাঁচ থেকে ছয়শত কবিতা অপ্রকাশিত। দেশের বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক বিশেষ করে শামসুর রহমান, রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, সমুদ্র গুপ্তের সাথে আলাপচারিতা। দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত জীবন। সৃষ্টি তার অনবদ্য, দর্শন তার জীবনের বোধ আর পরিচয় পথিক কবি।

পল্লীকবি আকবর হোসেন

পল্লীকবি আকবর হোসেনের জন্মস্থান খামার মাগুরা জামালপুর, বালিয়াকান্দি।তিনি দক্ষতার সাথে গ্রাম্য সায়র রচনা করতেন। তার বিখ্যাত সায়রের মধ্যে ছিল বাড়াদির টর্নেডোর ট্রাজেডির বর্ণনা। ১৯৫৪-৫৫ সালে বাড়াদিতে স্বরণকালের টর্নেডো আঘাত হানে। ঐ টর্নেডোতে বাড়াদি গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যায়। ‘তাল গাছের মধ্যে দিয়ে কেমনে ছন যায়’ তাঁর কবিতার একটি লাইন।

 

 

 


পল্লীকবি আনোয়ারুল ইসলাম

পাংশার নারাণপুরের পল্লীকবি আনোয়ারুল ইসলাম একজন সায়র নির্মাতা ছিলেন। পল্লীর জীবনযাত্রা, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী, ইসলামী চেতনা, প্রেমকাহিনী নিয়ে অনেক পুস্তিকা রচনা করেন। এ কবি স্থানীয়ভাবে রেখে গেছেন অনেক কাহিনী যা ইতিহাসের উপাদান। তাঁর কবি প্রতিভার জন্য একবার তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ারর্দী কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তার রচনার মধ্যে ‘কাঠ মোল্লার মূলবাণী’, ‘সাপুড়ে মেয়ে জরিনা’ পাঠক মহলে সমাদৃত। জিহাদের ডাক পুস্তক লিখে তিনি কারাভোগ করেন।

 

জামাল হাবিব

সুন্দরী পদ্মা লো, সুন্দরী মেঘনা লো

মধুমতি, যমুনা ডাকিছে তোরে

মধুময় কথা ও সুরের শিল্পী জামাল হাবিব। সাদা ফতুয়া, পাজামা, মাথায় টুপি, শীর্ণকায় গৌরকান্তির জামাল হাবিব রাজপথে সোজা হয়ে হাঁটে। মনের দৃঢ়তা যেন আকাশ ছুঁয়ে যায়। লেখেন গদ্য, পদ্য, গান, ছড়া, নানা গ্রন্থ। নিজের লেখা গানে নিজে সুর করেন। সে সুর ছড়িয়ে দেন রাজবাড়ির বাতাসে। জন্ম ১৯৩৬ সালে ফরিদপুর শহরের মাতুলালয়ে। শিশুকাল গোয়ালন্দ খালার বাড়িতে এবং স্থায়ী বসতি রাজবাড়ি শহরের কলেজ পাড়ায়। ১৯৫৯ সালে রাজবাড়ি থেকে ম্যাট্রিকুলেশান এবং আইএ রাজবাড়ি কলেজ থেকে। উক্ত কলেজে পদার্থ বিভাগের সহকারী থাকা অবস্থায় প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে বিএ পাস করেন। ১৯৬৮ সাল থেকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তার চাকরি এবং ২০০৬ সালে দৃঢ়চেতা জামাল হাবিব স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ পয়ত্রিশ বছর একসাথে চাকরি করেছি। পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছে। আমার শিল্পী স্ত্রী শাহীনূর বেগম, দুলাল দা, রব ভাই, ফজলু চাচা, মহুয়া, নজরুল ইসলাম কুটি, মোতাহার হোসেনসহ অনেকে রাজবাড়িতে স্বাধীনতা উত্তরকালে বিশেষ করে ৮০ দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সঙ্গীত অঙ্গনের দৃঢ় ভিত রচনা করেন। জামাল হাবিবের লেখা ও সুরের গানে তারা মাতিয়ে তুলত। তাঁর নির্দেশনায় টিভিতে অংশগ্রহণ করত।

জামাল হাবিব চারণকবি নন। শব্দ ও ছন্দে আধুনিক কবিতার সৌষ্ঠব রয়েছে। তাঁর কবিতায় আছে অন্যায়ের প্রতিবাদ, ভালো মন্দের বিচার বিশ্লেষণ, সংসয় এবং আশা। দারিদ্র, অনটনের আঘাত তাকে স্পর্শ করে কিন্ত তিনি ভেঙ্গে পড়েন না। নিরলস কলম চলে অবসরে, কাজের ব্যস্ততার মধ্যে। অনেক কাজের ভিড়েও তাকে দেখেছি ক্যাম্পাসের ঘাসে বসে সে আপন মনে কিছু রচনা করছে।

জামাল হাবিব গুণীজনের দৃষ্টি এড়িয়ে যান না। ১৯৮৭ তে ফরিদপুরে গুণীজন সংবর্ধনা পান। রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমী তাকে এ সম্মানে সম্মানিত করে। ১৯৯৩ তে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ তাঁকে পুরস্কৃত করে। ১৯৯১ তে ‘জসিম উদ্দীন পুরস্কার’, ১৯৯২ কুষ্টিয়া থেকে ‘লুপ্ত সুপ্ত পুরস্কারে’ সম্মানিত করা হয়। তার রচিত গান ও কবিতার সংখ্যা দুই সহস্রাধিক। রেডিও, টিভির গীতিকার। তার হাতে গড়া ‘স্মৃতিময় সাহিত্য পরিষদ’ কর্তৃক তিনি রাজবাড়ি ও ফরিদপুরের গুণীজনদের সনদ প্রদান করেছেন।


অধ্যাপক আবুল হোসেন মল্লিক

‘গবেষকের নিকট তথ্য প্রাপ্তি মনি মনিক্যের সাথে তুলনীয়’------অধ্যাপক আবুল হোসেন মল্লিকের এ উক্তি সকল গবেষকের মনে সত্যনিষ্ঠ। গবেষক এমন উক্তির আলোকে মনি মানিক্য স্বরুপ তথ্য খুঁজে বেড়ান পথে, প্রান্তরে, লোকমুখে, গ্রন্থের অন্তঃগভীরে, পত্রিকার পাতায়, তীক্ষ্ণ দৃষ্টির আড়ালে, বৃক্ষ বা দেওয়ালে, ধুলোমাটিতে অবজ্ঞায় দলিত ছেঁড়া কাগজে। আবুল হোসেন মল্লিক সঠিক অর্থেই একজন বিদগ্ধ গবেষক ও সাহিত্যসেবী। তৎকালীন সময়ের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা কোহিনূরসহ তিনি কাঙ্গাল হরিনাথের গ্রামবার্তা ও অন্যান্য প্রাচীন পত্রিকার সত্যনিষ্ট পরিচিতি তুলে ধরেছেন। তার লেখা ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা রাজবাড়ি জেলার অবদান’ গ্রন্থে সার্থকভাবে রাজবাড়ি জেলার সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের ঐতিহ্য কুড়িয়ে এনেছেন যা মোটেও সহজ কাজ নয়। কেবল নিবেদিত একজন গবেষকের পক্ষেই সম্ভব। অর্থে তিনি একজন সফল গবেষক। তাঁর লেখা অন্যান্য গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘খাতক’ সম্পাদক ‘নজির উদ্দিন আহম্মদ জীবন কর্ম ও সাংবাদিকতা’ ‘কোহিনূর সম্পাদক মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরীর জীবন ও সাংবাদিকতা’ ইত্যাদি। এসব গ্রন্থে দুর্লভ মণি-মাণিক্যের সন্ধান দিয়েছেন। তাঁর লেখা ‘অন্ধকারে আলোর উকি’ কবিতা গ্রন্থের পাতায় পাতায় আলোর আভা ছড়িয়ে আমাদের আলোকিত করে।

 আবুল হোসেন মল্লিক ১৯৪২ সালের ১ মার্চ ফরিদপুর জেলার মুধুখালি উপজেলার কামারখালি ঘাট সংলগ্ন আড়পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশবিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এএম। ১৯৭৩ সালে পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন) কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। বর্তমান পাংশায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন ২০০২ সালে পাংশা বি-কয়া তরুণ সংঘ ও পাঠাগার, সাহিত্য ও গবেষণা কাজের জন্য তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে। ২০০৫ সালে উত্তর বাংলা সংস্কৃতি পরিষদ পাবনা কর্তৃক উত্তর বাংলা সাহিত্য পদক ও শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৬ সালে সিরাজগঞ্জ কবিতা ক্লাব কর্তৃক তিনি পুরস্কৃত হন।

সবুর উদ্দিন

ইংরেজিতে একটা কথা আছে Either Perish or Publish। সবুরউদ্দিন Will never be perished by publishing his documentary `The History of Pangsa'. আমি সবুর উদ্দিনের পাংশার ইতিহাস খানি কুড়িয়ে পেয়ছিলাম পানের দোকান থেকে। এ গ্রন্থটি ক্ষুদ্রাকায় কিন্তু তথ্য ধারণে আমার নিকট অতি বৃহদাকার। রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস রচনায় অনেক দলিলিক তথ্য সন্নিবেশ করেছি এ গ্রন্থ থেকে। রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস রচনায় তিনি পৃথিকৃৎ। কারণ এ জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম পাংশার ইতিহাস রচনা করেন। নিরবে নিভৃতে থাকা এ মানুষটির আর কোনো পরিচিতি আমি দেব না। পশ্চাতের ঢেউ সম্মুখের ঢেউকে অগ্রগামী করে কিন্তু পশ্চাতের ঢেউ কেউ দেখে না। ঢেউয়ের মালায় পশ্চাতের ঢেউ চিনে নেওয়ার কাজ এ গ্রন্থের পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম।

 

 


অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন খান

সাহিত্য বিকাশের ধারায় সকল সৃষ্টিশীল লেখাই সাহিত্যকর্ম বলে বিবেচিত। অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন খান রাজবাড়ি জেলার লেখকদের মধ্যে ভিন্নধর্মী ধারার প্রবর্তক। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী। আইনশাস্ত্রের উপর তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২। সমাজ জীবনে আমরা প্রতিনিয়তই নানা সঙ্কটে নিপতিত হই। উদার নৈতিক চেতনা বিকাশের ক্ষেত্রে যেমন কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস আমাদের প্রয়োজন মেটায় তেমনি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বসবাস করে দৈনান্দিন জীবনের অধিকার, শৃঙ্খলা, শাসন, শান্তি বিষয়ে আমাদের জানা প্রয়োজন। একনিষ্ঠ ভাবে এ কাজ সম্পাদন করে চলেছেন মসলেম ‍উদ্দিন খান। মোসলেম উদ্দিন খান ১৯৫০ সালে মহেন্দ্রপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মরহুম মফিজউদ্দিন খান । রাজবাড়ি কলেজ থেকে বিকম এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ল’কলেজ থেকে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন। তিন যুগেরও অধিকাল থেকে রাজবাড়িতে আইন পেশায় কর্মরত আছেন। বিগত সময়ে রাজবাড়ি বার এসোসিয়েশনে সেক্রেটারী ও সভাপতি নির্বাচিত হন। চারবার জিপি ও পিপি পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী। শিল্পকলা একাডেমীর সহ-সভাপতি। নিজেকে নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রাখেন।

রবিশঙ্কর মৈত্রী

রাজবাড়ি জেলার সাবেক উপজেলা মধুখালি। প্রাচীন শাসন স্মৃতির কেন্দ্র ভূষণার অন্তবর্তী মধুখালির সন্নিকট গ্রাম মেঘচামী। প্রাচীন নাম মেঘচুম্বী। বর্তমান মেঘচামী গ্রামে মেঘের উচ্চতায় জন্ম নিয়েছেন সাহিত্যিক জগদীশ গুপ্ত আর রবিশঙ্কর মৈত্রীর মতো কালের সাহিত্যসেবী। জগদীশ গুপ্ত আর রবিশঙ্করের সাহিত্য সাধনার কালের ব্যবধান প্রায় আশি বছর। সেখানে কালের প্রান্তসীমায় উচ্চতর মাত্রায় কেবল সংযোজন করেননি সাহিত্য জগতে উত্তরআধুনিকতার সফলতা নির্মাণে তিনি অনেক অংশের দাবিদার। কেবল সৃষ্টিই তার কর্ম নয়, তিনি কবিতা তথা সাহিত্যের ধারায় সিক্ত করে চলেছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের মানুষকে। ইলেকট্রনিক পর্দার বাইরে তার পদচারণা যেকোন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। কবিতার কর্মশালায় তিনি শুদ্ধতায় আবৃত্তি জগতকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। এক ব্রতচারী শিক্ষকের মতো কবিতার আলো পৌঁছে দিচ্ছেন ঘরে ঘরে।

রবিশঙ্করের জন্ম ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৯। ইতিহাসের দিক থেকে ‘৬৯ আর ১৬ ডিসেম্বর স্মরণীয়। বিষয়টি নিছক কাকতলীয় হলেও অনেক মনীষীর মধ্যে এমন প্রাপ্তিযোগ দেখা যায়। বাবা কুমুদরঞ্জন, মা জয়ন্তী দেবী। কবিতা, ‍উপন্যাস, বাংলা ভাষার গবেষণামূলক গ্রন্থসহ তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫০। উল্লেখযোগ্য কবিতা গ্রন্থ ‘দুঃখ পড়েছে দীর্ঘ পাঞ্জাবী’ ‘দুস্যু রোধ’ ‘আগুনে আগুনে পুরছে আলো’ ‘বুকের ব্যাথাটা বেড়েই চলেছে’ ‘রাত গেল রাত্রিলিপি লিখে’ ‘পুনরায় প্রেরিত ঈশ্বরের চিঠি’ ‘ Selected Poems'। উপন্যাস ‘জলগৃহ’, ‘সুরঞ্জনা ফিরে এস’, ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। ভাষা উৎকর্ষতায় : ‘আধুনিক বাংলা বানান’ -অর্থ, ‘উচ্চারণ অভিধান’। ‘বিদেশী শব্দের অভিধান’। ‘লালন শব্দকোষ’ ফিল্ম ডিরেকশন : Father Marino Rigon---Venice to sundarban.

রবির প্রতিভা আমাদের অজান্তেই থেকে যেত যদি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রবির আলো বিকিরণের ব্যাস্থা না করতেন।


সিদ্দিকুর রহমান মাস্টার

মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাহিত্যকর্মী, নাট্যকার, রাজনীতি সচেতন সিদ্দিক মাস্টার। শিক্ষকতার সাথে সাথে সৃষ্টি করেন কবিতা, নাটক। সম্পাদনা করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি পুস্তিকা। সিদ্দিক মাস্টার বাঁশের লাঠি, একটি পা, একটি সাইকেল নিয়ে তার সন্তানবৎ ছাত্রদের যখন শিশু একাডেমীসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় নিয়ে যান তখন মনে হয় তিনি কেবল শিক্ষকই নন, ছাত্রদের ছাত্রদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নদ্রষ্টা।

 

 

মোসাদ্দেক আহমেদ

সাহিত্য রচয়িতা, সৃষ্টিধর্মী লেখক মোসাদ্দেক আহমেদ স্বল্প সময়ের মধ্যে সাহিত্য জগতে বিশেষ স্থান অধিকার করেছেন। ভাষার বিশিষ্টতা এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গীর স্বকীয়তায় ১২ টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ভাষার বিশিষ্টতা এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গীর স্বকীয়তায় ১২টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। তাঁর গল্পসমূহে মাটি সংলগ্ন মানুষের আটপৌরে ভাষা ও জীবন ঘনিষ্ঠতায় সহজেই অঞ্চল তথা মাতৃভূমিকে চিনে নেওয়া যায়। ‘হায়দার ফকির রিক্সা ভ্যানের গতিরোধ করে বলে, শান ভ্যানতে লাব’ ------এখানে যেমন গ্রামীণ সাধারণ মানুষের কথা ও জীবনের নিখুঁত চিত্র লক্ষ্য করা যায় তেমনি ‘একটি নদী আপন যাত্রাপথে যতবার বাঁক বদল করে, বুঝি তত বাঁকেই পূর্ণ নদী তীরবর্তী আরমান আলীর জীবন’-----পঙ,ক্তিমালায় লেখকের দার্শনিক মনন বিকাশ লক্ষণীয়। তাঁর লেখা বাস্তবতার নিরিখে ইতিহাস ঘনিষ্ঠ।

মোসাদ্দেক আহম্মেদের জন্ম ১৯৬০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজবাড়ি জেলায়। পিতা মরহুম মরগুম আহমেদ ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। মোসাদ্দেক আহম্মেদ ছিলেন খুবই মেধাবী ছাত্র। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২। ‘ফাদার ও ‍মুক্তিযুদ্ধের গল্পগ্রন্থ’ এবং ‘শেখ মুজিবের সাইকেল’ উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

রাজা হাসান

সত্তরের পরে রাজবাড়িতে যে সব কবি কবিতার জগতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন রাজা হাসান তাদের প্রেরণার উৎস। কবিতা লেখেন, কাব্যচর্চা করেন ঋষির মতো। আলাপচারিতায় বিনম্র। দৃষ্টিপাত শেকড়ের দিকে।

 

 

 


খোকন মাহমুদ

আধুনিক কবিতার জগতে খোকন মাহমুদ পরিচিত নাম। ইতিমধ্যে তার কবিতার গ্রন্থের সংখ্যা সাত। কবিতার ভাষা, শব্দের নব সংযোজন কবির প্রথম কাজ। কবির দ্বিতীয় কাজ সামাজিক চেতনা সৃষ্টি। খোকন মাহমুদের কবিতার মধ্যে উভয়ের সমন্বয় ঘটেছে। কাব্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে খোকন একজন সার্থক কবি। তার কবতার মধ্যে ছন্দগতির অপূর্ব স্বাদ আছে। যে কারণে তার কবিতা সঠিক অর্থেই আধুনিক। কবিকে যখন বায়োস্কোপের মাধ্যম সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে তির্যক কোপ মারতে দেখি তখন তার কলমকে কুড়াল বলে মনে হয়। আবার কবিতার পাখা মেলে যখন তাকে অতীত, বর্তমান ভবিষ্যৎ রোমন্থন করতে দেখি তখন তাঁকে ‘কবিতায় দ্রষ্টা’ বলে মনে হয়। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হল-------‘ডেকোছো, পালক?’, ‘দূরাগত ধ্বনি’, ‘চলেছি সাঁকোর ওপাড়’, ‘বায়োস্কোপ (ছড়া)’, ‘এবার ভ্রমণে যাব’ ‘কবিতার শহর’ কাব্যোপন্যাস -------রৌদ্রো মেঘের ডানা। জন্ম-২২ জুন ১৯৬৯ ভাজনচালা।

অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী

অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু রাজবাড়ির সাহিত্য অঙ্গনে একজন রম্য লেখক হিসেবে বিশেষ পরিচিত। তিনি কবিতা ও কলাম লেখক হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ ‘সাপ্তাহিক অনুসন্ধান’, ‘দৈনিক সহজ কথা’, ‘সাপ্তাহিক সাহসী সময়’ এবং ‘দৈনিক মাতৃকণ্ঠে’ নিয়মিত রম্য রচনা, কবিতা ও কলাম লিখে চলেছেন। সদ্য প্রতিষ্ঠিত কালুখালি উপজেলাধীন রতনদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম নাজির আলী ও মাতার নাম মছিরন নেছা।

 

নেহাল আহমেদ

কবিতার সাথে গল্প, তার সাথে নানা প্রহসন নেহালের সাহিত্যচর্চা। জীবনের টানাপোড়েন, সংঘাত, জীবনারচরণর মধ্যে সাহিত্য চর্চা তাঁর নেশা। অন্তর্দৃষ্টি মানুষ আর ছোট্রশহর রাজবাড়ির কর্মকোলাহলের গতিশীল জীবন। স্বাধীনতা যুদ্ধ নেহাল দেখেনি কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ কতদূর যায় তা জানতে চায়। জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৭৩। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘অসম্পূর্ণ দুপুর’।

 

 

মনিরুজ্জামান মিন্টু

‘শব্দের পাখায় শব্দ ওড়ে’ এমনি ভাব ব্যাঞ্জনায় সৃষ্ট মনিরুজ্জামান মিন্টুর কবিতা। জল আর মেঘের অটুট বন্ধন কে কবে ছিন্ন করতে পারে? এমন বোধে কবির উজ্জীবন। ভাব আর ভাষার লালিত্যে কবি মোহনীয় জগৎ সৃষ্টিতে পারঙ্গম। ইতি মধ্যে কাব্যসাধানায় পুরস্কৃত। প্রকাশিত ‘পৌষের পত্রে মুখরিত গান’, ‘জলমেঘ’। জন্ম ৬৮ জুলাই ১৯৭৯ রাজবাড়িতে।


মাজেদ বিশ্বাস

কবি মাজেদ বিশ্বাস বাস করেন লন্ডনে। কবিতা লেখেন মাতৃভূমির মায়ায়। নিসর্গ, মানুষ, স্বাধীনতা তাঁর কবিতার উপজীব্য। আলাপচারিতা স্টিফেন হকিং এর যত মহাবিজ্ঞানী ও মনীষীদের সাথে। জন্ম রাজবাড়ি জেলার পাংশায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিদ্যায় এমএসসি। গণিত ও আইনশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন উলভার ও লন্ডন থেকে। শিক্ষাকতা করেন। সময় পেলেই ছুটে আসেন মাতৃভূমির টানে। কবিতার ভাবনায় বিভোর থাকেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘দিনরাত্রির ভ্রম ঠিকানা’, ‘সার্থের ভাঙন’, চাঁদের পায়রা চাঁদে’।

রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম নানামুখী প্রতিভার অধিকারী। গীতিকার, সুরকার, গায়ক, কবি। গবেষণাকাজসহ নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সমাজসেবা ও সংস্কৃতি বিকাশের কর্মকাণ্ডে। পেশাগতভাবে তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তা। জেলার হত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে প্রকাশিত বাংলা একাডেমী বইমেলায় প্রকাশিত ‘কাশফুল’ কাব্যগ্রন্থটি পাঠক মহলে নন্দিত। বিটিভির তালিকাভুক্ত গীতিকার। দাবা খেলায় সিদ্ধহস্ত । ডা. আবুল হোসেন -এর সহায়তায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাজবাড়িতে বিভিন্ন সময়ে দাবা খেলার আয়োজন করে চলেছেন। তিনি রাজবাড়ি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের সক্রিয় সদস্য। এ সংসদের মাধ্যমে ২০০৯ সালে মীর মশাররফ হোসেন সম্মাননার (গবেষক আবুল হোসেন চৌধুরীকে) আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ড. আব্দুস সাত্তার

জগৎসংসারে কিছু মানুষ আপন স্বার্থ ত্যাগ করে পরার্থে নিজেকে নিবেদন করেন। রাজবাড়ি জেলা তথা জাতীয় কল্যাণে নিবেদিত মানুষদের মধ্যে ড. আব্দুস সা্ত্তার একজন। তিনি রাজবাড়ি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ‘রাজবাড়ি মুক্তিযুদ্ধ’ গ্রন্থ রচনা করে বর্তমান তথা কালান্তরের মানুষের নিকট নিবেদিত ব্যক্তি অভিধায় ভূষিত হন। রাজবাড়ি জেলার ইতিহাসের তৃতীয় সংস্করণ রচনায় তথ্যবহুল ও দালিলিক এ গ্রন্থখানা অতিগুরুত্বপূর্ণ। আমি রাজবাড়ি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার তাগিদ দীর্ঘদিন অনুভব করে আসছিলাম। আমার বার্ধক্য শারীরিক অসুস্থতায় আমার পক্ষে এ কষ্টসাধ্য কাজ করা সম্ভব নয় বিধায় আমার অনেক তরুণ ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষকদের এ কাজটি করার আহবান জানিয়ে আসছিলাম। ইতিমধ্যে রাজবাড়ি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকাশিত হয়েছে জেনে মাদ্রাসা লাইব্রেরি রাজবাড়ি (শিল্পকলার পাশে) থেকে গ্রন্থটি সংগ্রহ করি। গ্রন্থটির প্রণেতার নাম দেখে প্রথমেই আবেগ উচ্চ্বাসে মনটি তৃপ্ত হল। গ্রন্থটির লেখক আমারই এক গুণমুগ্ধ ছাত্র। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার এ যেন পরম পাওয়া। আরো ভালো লাগল যখন দেখলাম ‘সোনার বাংলার সোনার মানুষ’ অধ্যায়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহে আমার নাম ও রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থটি পাঠক মাত্রই আকৃষ্ট করবে। ড. মোঃ আব্দুস সাত্তার ১৯৫৭ সালে ১ মার্চ রাজবাড়ি সদর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং আইইআর থেকে দুটি বিষয়ে এমএ এবং পরবর্তীতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৮ এ স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি সামাজিক বিষয়দির গবেষক এবং শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ। তিনি শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির খণ্ডকালীন শিক্ষক। তাঁর লেখা গ্রন্থসমূহ-----‘ফরিদপুরে ইসলাম’, ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা ও সমাজ জীবনে এর প্রভাব’, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ প্রণয়ন ও পরিমার্জনের রুপরেখা’, ‘শান্তি ও কর্মমূখী শিক্ষা হিসেবে দাখিল স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীর প্রকৃতি ও পরিসর বিশ্লেষণ’।

Additional information