চিত্র শিল্প - পৃষ্ঠা নং-১২

১৯৭৭ - চারুকলায় বিশেষ করে ট্যাপেস্ট্রিতে সৃজন ক্ষমতার জন্য একুশে পদক

১৯৮০- বাংলাদেশ শিল্পকলা ‍একাডেমী পুরস্কার

১৯৮৬ - জয়নুল পুরস্কার

* তথ্যসূত্র- রশীদ চৌধুরী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, পৃষ্ঠা - ৩৬, ৩৭, ৩৮ ট্যাপেস্ট্রি শিল্পকর্মে রশীদ চৌধুরীর অবদান------

ট্যাপেস্ট্রি হল এমন এক শিল্পকর্ম যা উঁচু মানের বস্ত্রের উপর রঙিন এমব্রয়ডারী অথবা বুননের মাধ্যমে সমাধা করা। বোনার কাজটি সম্পন্ন করা হয় অলঙ্কার অথবা নানা চিত্র সম্বলিত নকশা অনুসরণ করে। তাপিশ্রীর কাজ জানালার পর্দা বসার আবরণী, উৎসবাদিতে জানালা অথবা ঝুল বারান্দায় ঝুলন্ত বর্হিভূষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বি-মাত্রিক পেইন্টিং ও গ্রাফিক আর্টের মতো তাপিশ্রীও বহু বাড়ির দেয়ালসজ্জার উপকরণ রুপে ব্যবহার দেখা যায়। দামী কাপড়ের উপর যেখানে অলঙ্কার ও চিত্র সম্বলিত নকশা। পোড়েনের সুতো দিযে বোনা হয় তা সাধারণত রঙিন উল, বিশিষ্ট অথবা পাট এর হয়ে থাকে। পোড়েনের সুতা সোনালি অথবা রুপালি রঙের হয়। ট্যাপেস্ট্রি অন্যান্য বয়ন শিল্পের চেয়ে ভিন্ন প্রকৃতির। এর পোড়েনের সুতো পুরো নকশা জুড়ে বিস্তৃত হয় না। আবার অনেক সময় নকশার রঙ বুঝে কিম্বা এলাকা বুঝে ট্যাপেস্ট্রির পটভূমিতে পোড়েনের সুতা ব্যবহৃত হয়।

ট্যাপেস্ট্রি খুবই পুরনো শিল্প মাধ্যম। প্রাচীনকালের পিরামিডের অভ্যন্তরে এর সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাচ্য দেশে প্রথমত এর ব্যবহার দেখা গেলেও ৮ম, ৯ম শতাব্দী থেকে পাশ্চাত্যে বিশেষ করে ইউরোপে এর বিকাশ ঘটে। আধুনিক বিশ্বে ফ্রান্সই হল ট্যাপেস্ট্রির বড় উৎপাদক দেশ। বেলজিয়াম, পর্তুগাল এবং আরো কিছু পশ্চিমা দেশে ট্যাপেস্ট্রি উৎপাদিত হয়। এই শিল্পটি খুবই শৈল্পিক সূক্ষ্ণ সমন্বিত কাজ। চাহিদার তুলনায় এর উৎপাদন কম, দামও বেশি। এর জনপ্রিয়তার কারণ ট্যাপেস্ট্রি অন্যান্য সুকুমার শিল্পের চোখে খুবই হালকা, সহজেই বহনযোগ্য, ভাঁজ করা যায় রক্ষণাবেক্ষনের ব্যায় খুবই কম এবং অন্যান্য শিল্প মাধ্যমের মতো ভঙ্গুর নয়। সবচেয়ে বড় ট্যাপেস্ট্রি সজ্জিতকরণ দেয়াল বা বসার স্থান যেন মুহুর্তেই অহঙ্কারী হয়ে ওঠে এই উপলদ্ধি ট্যাপেস্ট্রি সংগ্রাহকদের। এ কারণেই ধনী দেশের নাগরিক ও  প্রতিষ্ঠান ট্যাপেস্ট্রির অধিকারী হয়ে গর্ববোধ করে।

রশিদ চৌধুরীর শিল্পকর্ম শিল্পী রশীদ চৌধুরীই একমাত্র ব্যক্তি যিনি উপমহাদেশে ১৯৬৪ সালে প্রথম একলুম বিশিষ্ট ঢাকাতে ট্যাপিস্ট্রি স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তা মীরপুর দশ নম্বর সেকশনে চারলুম বিশিষ্ট স্টুডিওতে পরিণত হয়। তিনি নিজে তাঁত শিল্পী ও প্রশাসনিক কর্মকার্তাকে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নতমানের ট্যাপেস্ট্রি উৎপাদন শুরু করেন। বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক তাঁতী এ প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ট্যাপেস্ট্রি পল্লী গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁর ভাবনা ছিল পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে এদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে। এ বিষয়ে তিনি তাঁর মতামত এভাবেই ব্যক্ত করেন-------‘এই মাধ্যমটিকে একটি আধুনিক হস্তশিল্পের মধ্যে ধরা হলেও চারুকলা বা ফাইন আর্টের মাধ্যমরুপে এর বেশি পরিচয়। তুলির মাধ্যমে ক্যানভাসে রঙ লাগানোর পরিবর্তে রঙিন সুতো (রেশম পশম) দিয়ে ‍বুনিয়ে একটি ছবি তৈরিকেই ট্যাপেস্ট্রি বা তাপশ্রী বলা হয়। বর্তমানে বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে দেয়াল চিত্রের মাধ্যম হিসেবে এর খুবই সমাদর। বেশিরভাগই এগুলো উন্নত দেশগুলোতে তৈরি হয় তবে চারুকলার মাধ্যম হিসেবে ফ্রান্সের দক্ষতাই সবচেয়ে উপরে। মাধ্যমটি মূলত প্রাচ্য দেশ থেকেই ইউরোপে গিয়েছিল। ব্যবহারের অভাবে বর্তমান প্রাচ্যে এর প্রচলন ও খুবই কম। বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে গত ষোল বছর কাজ করে আসছি। প্যারীতে রোজ আর্টে  আমি চার বছর বিষয়টি নিয়ে বহু কাজ করেছি এবং একই সাথে ফরাসী সরকারের নিজস্ব তাপশ্রী কারখানা গোবলাতে আঙ্গিক বা টেকনিক্যাল শিক্ষানবিশ ছিলাম। গত চার বছর যাবৎ দেশে বিভিন্ন উপাদান নিয়ে প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। বিশেষ করে দেশজ পাট ও রেশম নিয়ে। বিদেশে তৈরি তাপিশ্রী থেকে আমাদের দেশে এর দাম পড়ে চারভাগের একভাগে। আধুনিক অভ্যন্তরীণ গৃহসজ্জার একটি বিশেষ মাধ্যম হিসেবে এর সমাদর রয়েছে, সমগ্র বিশ্বে।

Additional information