চিত্র শিল্প - পৃষ্ঠা নং-৫

রশিদ চৌধুরীর শিল্পকর্ম অবয়বে একই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে শিশুসাদৃশ্য সারল্য। রুপের তারতম্য ও ফ্যান্টাসীর আনাগোনা ক্রমশ এটি রুপ নিচ্ছে মধ্যাকর্ষণবিহীন বস্তুপুঞ্জের দিকচিহ্নহীন বিচরণশীলতায়, শাগালিয় প্রভাবের পরিপুষ্ট উপস্থিতি। তার এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে ট্যাপিস্ট্রিকে নিজের প্রধান মাধ্যম হিসাবে গ্রহনের তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়ার পর তার প্রকাশাবলীতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এই ক্রান্তিলগ্নের উদাহরণও দুষ্প্রাপ্য। যা পাওয়া যায় তাতে দেখা যায়, পাখি, মাছ মানুষ অবয়ব ইত্যাদির কিছুটা রুপান্তিরিত ভাসমান বিন্যাস। মাঝে মাঝে রেখার সর্পিল ও ছন্দিত ব্যবহারে কান্দিনিস্কি থাকেন অবচেতনে। চিত্রতলের বিন্যাসে ও দীপ্রর্বতনের নৃত্যশীল বিচরণে এই শিল্পীর প্রভাব পরবর্তী পর্যায়ে হয়ত আরো বিশেষভাবে অনুভূত হবে।

কান্দিনিস্কির মতোই রশীদ চৌধুরী আজীবন ছিলেন সঙ্গীতের বিশেষ অনুরাগী এবং চিত্রের পটে সাঙ্গীতিক সিস্ফনির আবেগ উভয়েরশিল্পের অন্যতম চরিত্র। তার শিল্পীমনের সাঙ্গীতিক সিস্ফনির শিল্পকর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থকেনি যখন তাঁকে দেখা যায় কবিতার আয়তনীর মধ্যে। কবিতার আয়তন সীমানায় অবরুদ্ধ নয়। কিন্ত রশিদ চৌধুরীর কবিতার বিচরণ ক্ষেত্র জীবন বাস্তবতার অতি সন্নিকট। পারিবারিক মমত্ববোধ বা মুক্তিযুদ্ধের অতিবাস্তবতায় তিনি ছন্দলোকের পরাবাস্তবতার চেয়ে জীবন ঘনিষ্ঠতার উষ্ণ আবেগে সুনীল বা বুদ্ধদেব। কবিতার প্রতি তাঁর কথা----‘আমি নকশাই করি, যাকে ছবি আঁকা বলি। শব্দ সাজান কবি যাকে কবিতা বলি। আমার রক্তে আছে মায়ের আদরের নকশী করা কাঁথা। তাই আদরের কাঁথাকে যদি নকশী করি, নিশ্চয়ই নকশী কবিতা বলে ডাকলে দোষ হবে না। হলে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন।’ রশিদ চৌধুরী------

তনয়াদের প্রতি

তোমরা চলে গেছ।

প্রতিদিন তাই ভাবি

যখন অজস্র বৃষ্টি নামে

আবার কিছু গুলির শব্দে

আতঙ্কিত হই

আশপাশে আগুন

লেগেছে দেখে।

ভাবি তোমরা চলে গেছ

আমাদের ঘরগুলো এলোমেলো

বেড়ালকে দেখে খুব মায়া হয়।

তোমরা ফিরবে কি

হঠাৎ এ আলো নিভে যাক

Additional information