চিত্র শিল্প - পৃষ্ঠা নং-৯

ইয়াহিয়ার সরকার বাঙালি মনের ক্ষোভ প্রশমনে দেশবরেণ্য শিল্পী, সাহিত্যিক, কবিকে স্বর্ণপদক প্রদান ঘোষণার কুটকৌশল গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে রশীদ চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণায় তিনি মর্মাহত হন এবং স্বর্ণপদক প্রত্যাখান করেন। তাঁর প্রত্যাখানের ভাষা ছিল------

রশিদ চৌধুরীর শিল্পকর্ম‘যেখানে  জীবনের মূল্য নেই, যেখানে বাঙালিদের পথে ঘাটে পশুর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে লুণ্ঠন, আগুন, হত্যা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা----যা নিজের চোখে দেখা, যেখানে মেয়েদের ব্যারাকে উলঙ্গ করে পাশবিক অত্যাচারের রাজত্ব, কান্নায় বিদ্ধস্ত বাংলা যেখানে এক দোজখে পরিণত; সেখানে শিল্পীর সম্মান এক উলঙ্গ বাচালতা ! তাই সে উলঙ্গ পশুকে সম্মোধন করে বলছি, তোমার পাপের প্রায়শ্চিত্যের জন্য তোমার দেয়া কোনো সম্মান কোনো বিবেক সম্পন্ন বাঙালির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলার শিল্পীর সম্মান, বাঙালীর হাত থেকেই গ্রহণযোগ্য। তোমার কোনো অধিকার নেই সম্মাননার। তোমার স্বর্ণপদক তোমার মুখে ছুঁড়ে আজ একমাত্র তোমার ধ্বংস কামনা করে বাঙালী। সফল হোক জয় বাংলার। বাংলার জয় হোক।’ (সম্পূর্ণ বিবরণ ১৯৭১ ও রশীদ চৌধুরী। ত্রৈমাসিক পত্রিকা পৃষ্ঠা-৭৫-৭৯)।

ইতিপূর্বে এপ্রিল মাসে তিনি স্ত্রী ও কন্যাদের প্যারিসে পাঠিয়ে দেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসে গমন করেন। একাত্তরের বিজয় তাঁর শিল্পী সত্ত্বাকে জাগ্রত করল। অবিলম্বে তিনি দেশে ফিরে আসার মনস্থ করলেন। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের কাছ থেকেও কাজে যোগদানের জন্য তাগাদাপত্র পাচ্ছিলেন। তিনি প্যারীতে খুব অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন রাষ্ট্রদূতের সহায়তায় তিনি দেশে ফিরে কাজে যোগদান করেন। কিন্তু নানা অজুহাতে তাঁর বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবশ্য পরবর্তীতে এ সঙ্কট দূর হয়। কর্মজীবনে রশীদ চৌধুরী প্রথম ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটে অঙ্কন ও চিত্রাঙ্কন বিদ্যার শিক্ষক (১৯৫৪-১৯৬০), চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রাচ্য শিল্পের প্রভাষক (১৯৬০-১৯৬৫) বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদে খণ্ডকালীন শিক্ষক (১৯৬৪-১৯৬৬), চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (১৯৭৮-১৯৮০)। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সভাপতি (১৯৭১-১৯৭৭)। তাঁর নিজের গড়া স্টুডিওতে ট্যাপিস্ট্রি উৎপাদন (১৯৮১-১৯৮৬)।

রশীদ চৌধুরীর সৃষ্টিকর্ম

একক প্রদর্শনী

১৯৫৪-একক পেইন্টিং ও ড্রইং প্রদর্শনী, প্রেসক্লাব, ঢাকা

১৯৫৫-পেইন্টিং ড্রইং প্রদর্শনী, কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি, চট্রগ্রাম

১৯৬৯- পেইন্টিং ড্রইং ও জলরং, কোয়ে দে বো আর্ট গ্যালারী প্যারি, ফ্রন্স

১৯৬২-পেইন্টিং ড্রয়িং ও জল রং গ্যালারী পারনিয়ে প্যারী, ফ্রান্স

১৯৬৪- পেইন্টিং ড্রয়িং ও জল রং গ্যালারী পারনিয়ে প্যারী, ফ্রান্স

১৯৬৫- ট্যাপেস্ট্রি, পেইন্টিং, ড্রয়িং ও জল রং, বাংলা একাডেমী, ঢাকা

১৯৬৬- পেইন্টিং ও ড্রয়িং সোসাইটি অব কনটেমপোরারী আর্ট, রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তান

১৯৭০- ট্যাপিস্ট্রি ও পেইন্টিং, আলিয়ঁস ফ্রাসেইজ, চট্রগ্রাম

Additional information