সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-২

হাজেরা বিবি রাজবাড়ি জেলার সূর্যনগরে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। তিনি পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের সাহচার্য থেকে সঙ্গীত জগতে স্থান করে নেন। জসীম উদ্দিন রচিত পল্লীগীতি, মুর্শীদি গেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বিচার ও জারীগানে সমান তার জনপ্রিয়তা। ১৯২৭ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত রেডিও পাকিস্তানের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। তাঁর নিজের রচিত গান গ্রামবাংলায় খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করে।

কাঙ্গালিনী সুফিয়া

কাঙ্গালিনী সুফিয়া কীসের কাঙ্গাল? টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায় সারাদিন পরিশ্রমের পর মজুরী নিতে এসে দেখে পুরুষের চেয়ে তার বেতন কম। তিনি প্রশ্ন করেন আমার বেতন কম ক্যা? সুফিয়াকে দেখে তখন মনে হয় সে নারী সমাজের প্রতিনিধি। প্রতিবাদ তুলেছে মেয়েদের মজুরী কম দেওয়ার বিরুদ্ধে। সুফিয়া মেয়েদের দাবি আদায়ের কাঙ্গাল। ‘প্রাণের বান্ধবরে বুড়ি হলাম তোর কারণে’। সুফিয়া যখন এ গানের সুর তার গলায় তোলেন তখন মনে হয় সুফিয়া প্রেমের কাঙ্গাল। সুফিয়া বঞ্চিত। আর বঞ্চনাই সুফিয়াকে জীবনের এ স্থানে এনে দিয়েছে। রাজবাড়ির রামদিয়া গ্রামের এক দরিদ্র ঘরে জন্ম নিয়ে জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়ে সমাজ সংসারের কাছে আবার নিজেকে সমর্পণ করেছেন। এই সমর্পণ বঞ্চনার প্রতিবাদে কটাক্ষ নয়। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন মানুষের ব্যাপক কর্মের পরিধিতে কেমন করে গোলাপ ফোটানো যায়। কাঙ্গালিনী সুফিয়া আজ বাউল সুরে দেশেই নয়, বিশ্বকে মাতিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ টিভি ও বাংলাদেশের বেতারের শিল্পী ছাড়াও দেশে বিদেশে অনেক অনুষ্ঠান করেছেন। জয় করেছেন অনেক পুরস্কার। রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুফিয়া অতিপরিচিত এবং আদরণীয়। তা সত্ত্বেও যেন তার দেশ নাই। অতি সাধারণ হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়ে কাঙ্গালিনী সুফিয়া তার কর্মের মাধ্যমে জাত পাত, কাল ধর্মকে অতিক্রম করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি রাজবাড়ির কাঙ্গালিনী সুফিয়া।

লেদু দাস

লেদু দাস ছিলেন বিশিষ্ট তবলা বাদক। ষাটের দশকে লেদু দাস লেদু দা রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ পরিচিত ব্যক্তি। কোনো অনুষ্ঠানই লেদু দাসের তবলার বাদ্য ছাড়া জমতো না।

 

 

নিখিল কুমার নাগ (দুলাল দা)

রাজবাড়ি জেলার সংস্কৃতি বিকাশে যে ব্যক্তির অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে তিনি নিখিল কুমার নাগ (দুলাল দা) এককালের জেলার শ্রেষ্ঠ ফুটবলার কিভাবে সঙ্গীতের সাধনায় ডুবে গেলেন তা ভাবতে অবাক লাগে। দুলাল দা-এর রবীন্দ্র সঙ্গীত সুরজ্ঞান অপূর্ব। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিক্ষক, শিল্পী। তার অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী রাজবাড়ির রবীন্দ্র সঙ্গীতে উৎকর্ষতার ছাপ রেখে চলেছে।

 

 

Additional information