সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-১১

কাজী নাসির ও শাবনূর

শাবনুর কাজী নাসির ও তার বড় কন্যা শারমীন নাহিদ নুপুর (চিত্রনায়িকা শাবনূর) বাংলাদেশের শিল্প ও সাহিত্য জগতে অতি পরিচিত নাম। কাজী নাসিরের পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ি জেলার পাংশা থানার বাগমারা গ্রাম। পিতা কাজী ওয়াহেদ হোসেন ছিলেন শান্তি নিকেতনের শিক্ষক। সাহিত্য সমালোচক ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক কাজী আব্দুল ওয়াদুদ কাজী নাসিরের আপন চাচা। কাজী নাসির কলিকাতায় সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করেন। কলিকাতায় কাজী ভীস্মদেব চট্রাপাধ্যায় ও শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিকট উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম নেন। শান্তি নিকেতনের কমলা বসুর নিকট রবীন্দ্র সঙ্গীতে দীক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র থাকাকালীন তাঁর রচিত গীতিনাট্য মলুয়া’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে প্রফেসর মুনীর চৌধুরীর পরিচালনায় মঞ্চস্থ হয়। ১৯৮৪ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে বাংলার লোকসঙ্গীত’ শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০-৭১ এ বাংলা একাডেমীতে লোকসঙ্গীত সংরক্ষণ অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারী কোম্পানিতে ‍উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি লন্ডন প্রবাসী হন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘সুরমা’ ও ‘জনমতে’ তিনি লিখতেন। মূলত তিনি একজন গবেষক, শিল্পী, সুরকার, স্বরলিপিকার, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, কবি ও লেখক। তাঁর লোকগীতির স্বরলিপিগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘লোকগীতির সুর সঞ্চায়ন’ হাচন রাজার গান’ সিলেটের লোকসঙ্গীত’, উত্তর বঙ্গের ভাওয়াইয়া ও বিয়ের গীত, চরগ্রামের আঞ্চলিক লোকগীতি সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তাঁর রচিত ‘কোলা ব্যাঙের বিয়ে’ ছড়া গ্রন্থটি শিশুদের জন্য প্রিয়। এই গুণী শিল্পী এখন নিরব নিভৃত পল্লীর আঁনাচে-কাঁনাচে ঘুরে বেড়ান। কাজী নাসিরের বড় কন্যা কাজী শারমীন নাহিদ নুপুর শাবনূর নামে চিত্রনায়িকা। চিত্র জগতে শাবনূর নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

মোতাহার উদ্দিন

চিত্রজগতের অভিনেতা ও চিত্র পরিচালক মোতাহার উদ্দিন রাজবাড়ির ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন নাট্য পাগল এবং স্থান করে নিয়েছিলেন চিত্রশিল্প জগতে। চলচ্চিত্রে অভিনয়সহ অনেক সৃষ্টিধর্মী ও রুচিশীল চিত্রনির্মাতা ও পরিচালক ছিলেন।

 

দেবাহুতি চক্রবর্তী

রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অতি পরিচিত নাম দেবাহুতি চক্রবর্তী। পিতা নারায়ণ চন্দ্র চক্রবর্তী ছিলেন সংস্কৃতিমনা এবং সমাজসেবক। পারিবারিক পরিবেশে শিল্প সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে তিনি বেড়ে ওঠেন। রাজবাড়ি কলেজের মেধাবী ছাত্রী দেবাহুতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ এবং এলএলবি পাস করেন। সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে রাজবাড়ি আদালতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। সফল ও বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। দেবাহুতি চক্রবর্তী নানা সামাজিক কর্মের মধ্যেও সংস্কৃতি চর্চা তাঁর নেশা। তাঁর উদ্যোগে শিশুদের মনোজগতের বিকাশে ‘আবোল তাবোল’ শিশু সংগঠন গড়ে ওঠে। রবীন্দ্রচর্চায় নিবেদিত দেবাহুতি চক্রবর্তী প্রতিষ্ঠিত করেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন কেন্দ্র।

Additional information