সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-১৩

সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান

রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অতিপরিচিত নাম সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান। শহরে এ অঙ্গনকে সুসংগঠিত করা এবং বহমান রাখায় তাঁর ভূমিকা অসামান্য। বিগত দশ বছর যাবৎ রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগে মোজাফফর আহমেদ, সুলতানা কামাল, ড. আতিউর রহমান, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি সমুদ্র গুপ্ত, কবি হাসান শাহরিয়ার, ড. সাজিদ কামাল এর মতো বরেণ্য ব্যক্তিত্ব রাজবাড়িতে বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। রাজবাড়িতে আবুল হোসেন কুইজ এক ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি কয়েক ঘন্টাব্যাপী সুশৃংখলভাবে উপস্থাপনার গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি আবুল হোসেন কুইজের জেলা প্রশাসক মনোনীত একজন সম্মানিত জীবন সদস্য। রাজবাড়িতে আবৃত্তি শিল্পের বিকাশে তিনি রবিশঙ্কর মৈত্রীর পরিচালনায় শিল্পকলায় কয়েকটি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন। তিনি একটি আবৃত্তি সংঘ গড়ে তুলেছেন। মুক্তবুদ্ধির চর্চায় তার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে মুক্তি পাঠচক্র। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের রাজবাড়ি শাখার ছাত্রছাত্রীদের গ্রন্থপাঠ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কেএস আলম ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিবেশ সংরক্ষণে অরণি ক্লাবের সদস্য সচিব। প্রথম আলো বন্ধুসভা এবং শিল্পী রশিদ চৌধুরী স্মৃতি সংসদের সম্পাদক। রাজবাড়ি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে জেলা প্রশাসনসহ স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং নানা সেমিনার ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তার সাবলীল উপস্থাপনা নিখুঁত ও চমৎকার। চাকরিসূত্রে বিশ বছরেরও অধিকাল রাজবাড়িতে বসবাস, বর্তমান রাজবাড়ি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)। তিনি শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য এবং শিশু সংগঠক। শিক্ষাবিস্তারসহ শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তিনি অনন্য ব্যক্তিত্ব। বাঙময় সংগঠন তাকে ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ পদক প্রদান করে। তিনি বিএসবি ফাউণ্ডেশন এ্যাডওয়ার্ড (শ্রেষ্ট শিক্ষক) লাভ করেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমী

এক সময় সঙ্গীত চর্চা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ছিল না। ঘরোয়া পরিবেশে ওস্তাদের নিকট সঙ্গীত শিক্ষা প্রাধান্য পেয়েছে, এ জন্যে সঙ্গীতকে গুরুমুখী বিদ্যা বলা হয়। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানভিত্তিতে সঙ্গীত, নৃত্যকলা প্রসার লাভ করেছে। রাজবাড়িতে প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীত ও নৃত্য শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শুরু হয় একথা বলা যায়। স্বাধীনতা উত্তরকালে ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় এমএ মোমেন বাচ্চু মাস্টারকে সম্পাদক, ফজলুল হক, নিখিলকৃষ্ণ নাগ, শাহিনুর বেগম, আব্দুর রব, হাসমত আলী, নজরুল ইসলাম, জামাল হাবীব, দীপ্তি গুহসহ অনেককে নিয়ে বর্তমান যেখানে অফিসার্স ক্লাব সেখানে একটি টিনের চালাঘরে রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমীর পথচলা। এসময় ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমী বিশেষ সুনাম অর্জন করে। তৎকালীন সময়ে এ শিল্পকলা পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এমএ মোমেন বাচ্চু মাস্টার। আশির দশকের শুরু থেকে শিল্পকলার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। কেন্দ্রীয় শিল্পকলার অধীনে বিধিবদ্ধ নিয়মের মাধ্যমে তা পরিচালিত হতে থাকে। এ সময় এটিএম রফিক উদ্দিন, সুকুমার ভদ্র, সুভাস সিংহ, মোঃ সানাউল্লাহ, প্রণব সরকার, তপন কুমার দে, নজরুল হোসেন কুটি, আবদুল মান্নাফ মোহন, আবুল হোসেন মাসুদ-সহ অনেকে এর পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন। সুকুমার ভদ্র (সঞ্জু) দীর্ঘদিন সম্পাদক পদে থেকে এর ভৌত অবকাঠামোসহ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেনে।

Additional information