সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-১৪

রাজবাড়ি জেলা শিল্পকলা একাডেমী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহানারা বেগম এর পৃষ্ঠপোষকতায় দোতলা ভবন নির্মিত হয়। শিল্পকলা একাডেমীতে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নিখিলকৃষ্ণ নাগ, নজরুল হোসেন কুটি, দীপ্তি গুহ, নিজাম আনসারী, তপন কুমার দে, সুব্রত চক্রবর্তী, আব্দুস ছাত্তার কালু, গোলাম মোস্তফা চৌধুরী রন্টু, অমলেম পাল, বিমল রায়, চপল সান্যাল, প্রণব সরকার প্রমুখ। রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমী থেকে অনেক শিল্পী জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি জেলা প্রশাসক (পদাধিকার বলে)। বর্তমানে আবুল হোসেন মাসুদ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, রাজবাড়ি জেলা সংসদ

ভারতীয় উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক শাসন শোষণ থেকে মক্তি তথা গণমানুষের অধিকার আদায়ে শিল্পী সাহিত্যিকের ভূমিকা এদেশে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত। পাকিস্তান শাসনামলেও শোষণ নিপীড়ন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে অনেক প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠন গণমানুষকে উজ্জীবিত করে। এমনি একটি সংগঠন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। ১৯৬৮ সালের ঊনত্রিশে অক্টোবর সংগ্রামী সত্যেন সেনের নেতৃত্বে ঢাকা নগরের উত্তর প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উদীচী। এর সাথে সংশ্লিষ্ট হন রনেশ দাস গুপ্ত, মোস্তফা ওয়াহিদ খান, মঞ্জুর  মোর্শেদ চৌধুরীসহ অনেক ত্যাগী নেতৃবৃন্দ। প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডের দ্বারা অচলায়তনের বাঁধ ভেঙ্গে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তবুদ্ধির চেতনার প্রসার ঘটানো এ সংগঠনের উদ্দেশ্য। রাজবাড়ি অতীত থেকেই সংস্কৃতি সচেতন। মুক্ত বুদ্ধির বিকাশে তারা সকল সময়েই কাজ করেন। উদীচীর শাখা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার কালে ১৯৭৫ এ রতনদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় যার নেতৃত্বে থাকেন সৌমেন দাস (ভরত)। রাজবাড়িতে ১৯৮৩ সালে রাজবাড়ি ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রথম রাজবাড়ি উদীচীর কমিটি গঠিত হয়। সভাপতি থাকেন সৌমেন্দ্র কুমার এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলা। আরো সংশ্লিষ্ট থাকেন আশু ভরদ্বাজ, মুনসুফি মৃধা, আজিজুল হাসান, মনি ভাই, কৃষ্ণ চক্রবর্তী প্রমুখ। ১৯৮৭ সালে রাজবাড়ি জেলা উদীচীর দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নেতৃত্বে থাকেন সৌমেন্দ্র কুমার আসাদুজ্জামান বাবলা, মনিসুফি মৃধা, বাবু মল্লিক প্রমুখ। উদীচীর কার্যক্রমের প্রসারতায় রাজবাড়িতে ১৯৮৯ সালের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী নতুন কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির সভাপতি থাকেন মানুষের মুক্তির চেতনায় সদ সচেতন এক জেদী প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট কমলকৃষ্ণ গুহ। সহ-সভাপতি থাকেন ষাটের দশকের রাজবাড়ি কলেজের ছাত্রনেতা এবং সদ্য রাজবাড়িতে বদলী হয়ে আসা এক প্রতিবাদী সমাজকর্মী তৎকালীন মার্কেটিং অফিসার আব্দুল কাইয়ুম (কাইয়ুম ভাই)। সাধারণ সম্পাদক থাকেন মকবুল হোসেন বাবু। কমল কৃষ্ণ গুহ এবং কাইয়ুম ভাই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ইইলোক ত্যাগ করেন। দায়িত্বে থাকেন এনায়েতুল করিম সেন্টু। ‘৯০ এর গণআন্দোলনে উদীচী রাজবাড়ি জেলা সংসদ প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখে। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন বাবুর রচনা ও সুরে এলাকার মানুষকে আন্দোলনে উদ্দীপ্ত করার লক্ষ্যে রচিত হয় এরশাদ বিরোধী গণসঙ্গীত। উদীচীর শিল্পীবৃন্দ সে সময় প্রতিদিন শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে এই সঙ্গীত পরিবেশন করে আন্দোলনরত মানুষের অনুপ্রেরণা যোগাত। এরমধ্যে একটি গান খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল----‘দেশে নাইকো গণতন্ত্র.....’। প্রতিষ্ঠানটির নেতৃবৃন্দ বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার কালে পথসভা এবং ভ্রাম্যমান সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের মানবিক চেতনা জাগ্রত করতে সচেষ্ট হন----‘মানুষকে ভালোবাসা দাও....’ মকবুল হোসেন বাবুর রচনা ও সুরের এই গণসঙ্গীতটি তখন খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। অতঃপর ১৯৯৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে ২১ সদস্যবিবিষ্ট নতুন কমিটি গঠিত হয়। সভাপতি হন বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন বাবু, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, ইকবাল হোসেন, নাট্য সম্পাদক-আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। তবে যিনি এর প্রাণ পুরুষ হয়ে সবসময় কাজ করে চলেছেন তিনি আবুল কালাম (কালাম ভাই)। আবুল কালাম, মকবুল হোসেন বাবু, সৌমেন দাস ভরত এবং সংগঠনের সকল সদস্যদের আপ্রাণ চেষ্টায় উদীচী রাজবাড়ি জেলা সংসদের একটি নিজস্ব ভবন হয়েছে।

Additional information