সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-১৫

এটি চিত্রা মার্কেটের উত্তরে খালপাড়ে অবস্থিত। বর্তমানে ২০০৮ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান সভাপতি ডা. সুনিল কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার। ডা. সুনিল কুমারসহ কমিটির সকল সদস্যদের প্রচেষ্টায় বর্তমানে সংগঠনটি নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে থাকে।

রাজবাড়ি জ্ঞান চর্চাকেন্দ্র ও ডা. আবুল হোসেন কুইজ

সহজ অর্থে জ্ঞানের অর্থ কোনো বিষয়ের সঠিক বিবরণ। বিবরণে তত্ত্ব ও তথ্য আবশ্যক। তত্ত্ব ও তথ্য বিকাশের ধারায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক বিজন কান্তি সরকার জেলা প্রশাসনের আওতায় ২০০৩ সালে ‘রাজবাড়ি জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। কেন্দ্রের মাধ্যমে তিনি জেলার সর্বস্তরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জ্ঞান বিকাশের স্বপ্ন দেখেন। ঐ বছরই ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। জেলার মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতার পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় ৪টি উপজেলা থেকে ৪জন এবং রাজবাড়ি সদর পৌরসভা থেকে দুইজন মোট ছয়জনকে বাছাই করে ২১ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ি জেলা স্কুল ময়দানে সাড়ম্বরে ফাইনাল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। মাঠভর্তি দর্শক শ্রোতার উপস্থিতিতে বিপুল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ছয়টি বিষয়ের উপর মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে উপস্থাপন করেন তৎকালীন পৌরনির্বাহী ও উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন। জাকজমকপূর্ণ এ অনুষ্ঠানের সফলতা ও জ্ঞান চর্চার এমন বৈশিষ্ঠপূর্ণ কাজের অনন্ত স্থিতির কথা বিদগ্ধ বিজন কান্তি সরকার তাৎক্ষণিক ভাবতে থাকেন। মুহুর্তেই যেন তার ভাবনার অবসান ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডা. আবুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, ডা. আবুল হোসেনের ভগ্নিপতি ভবদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ আওয়াজ দেওয়ান ও জেলা প্রশাসক বিজন কান্দি সরকার লন্ডনে ডা. আবুল হোসেন এর সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। ডা. আবুল হোসেন লন্ডন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র ফান্ড প্রদানে স্বীকৃত হন। এ ঘোষণায় জেলা স্কুলের মাঠ করতালি, ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা, ডা. আবুল হোসেন, বিজন কান্তি সরকার উচ্চারণে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সে এক অভাবনীয় অনুভূতি। ঐ বছর প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ছিল দশ হাজার, দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল সাত হাজার, এবং তৃতীয় পুরস্কার ছিল পাঁচ হাজার টাকা যা জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রদান করা হয়। এছাড়া উপস্থিত জাতীয় সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও নাসিরুল হক সাবু প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করেন। পরবর্তীতে ‘জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র’ ও ডা. আবুল হোসেন কুইজকে শক্ত ভিত প্রদানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি কমিটি এবং কনস্টিটিউশন প্রস্তুত করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র ডা. আবুল হোসেন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে এর উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান। একুশ উপলক্ষ্যে প্রতিবছর জেলা প্রশাসন বইমেলা ও ডা. আবুল হোসেন কুইজ আয়োজন করে। বিষয়টি রাজবাড়ি জেলাবাসীর ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

রাজবাড়ি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ

রাজবাড়ি জেলার সাহিত্য চর্চা, সাহিত্য বিকাশ ও শিল্প সাহিত্যের ঐতিহ্য লালনে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, রাজবাড়ি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ। সংগঠনটির সভাপতি থাকেন প্রফেসর মতিয়র রহমান এবং সম্পাদক আবুল হোসেন মাসুদ। সাংগঠনিক বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ড. কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, এয়াকুব আলী চৌধুরী, জগদীশ গুপ্ত, শিল্পী রশিদ চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করে। স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহসহ, স্থানীয় লেখক ও কবিদের গ্রন্থ আলোচনা করে থাকে। এ সংগঠনটি ২০০৯ থেকে প্রতি দুই বছর পরপর বাংলা ভাষার প্রথম মুসলমান উপন্যাসিক, সাহিত্য বিকাশের কালপর্বের স্রষ্টা ও কালজয়ী গ্রন্থ বিষাদ সিন্ধুর লেখক, ‘মীর মশারফ হোসেন স্মৃতি পদক’ ঘোষণা করে। দেশ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান গবেষক ও সাহিত্যসেবী প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরীকে ২০০৯ সালে পদক ও দশ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এ পদক প্রদানে পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মদ, ডা. আবুল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম খাজা, নাসিম শফি, প্রফেসর কেরামত আলী, ইমদাদুল হক বিশ্বাস, মহম্মদ আলী চৌধুরী, জেলা পরিষদ।

Additional information