সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-৪

 নজরুল হোসেন কুটি

সঙ্গীতের উৎকর্ষতার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাজবাড়ি শিল্পকলা, গোয়ালন্দ শিল্পকলা, পাংশা শিল্পকলার অবদান স্মরণীয়। এ সকল শিল্পকলার শিক্ষক হিসেবে নজরুল হোসেন কুটি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সঙ্গীতের প্রতি ঝোঁক থাকার কারণে তিনি ওস্তাদ কবির খান, ছগিরুদ্দিন খানের নিকট তালিম গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সাল থেকে তিনি সংগীত সাধনায় সুরের প্রতি দক্ষতা অর্জন করেন। উচ্চাঙ্গ, নজরুলগীতির শিক্ষক হিসেবে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর অনেক ছাত্র-ছাত্রী এখন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। এ গুণী শিল্পী ২০০৯ সালের ২ অক্টোবর পরলোকগমন করেন।

 

প্রণব সরকার

কথায় বলে জর্দা ছাড়া পান আর তবলা ছাড়া গান। ষাটের দশকে একমাত্র লেদু দাস ছাড়া তবলা ছিল না বললেই চলে। এ সময় প্রণব সরকার তবলায় তালিম গ্রহণ করে রাজবাড়ির সঙ্গীত অঙ্গনে একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন। তিনি বেতার ও টিভির শিল্পী ছিলেন। অত্যন্ত দক্ষ এ তবলাবাদক দীর্ঘদিন জাতীয় পর্যায়ের গুনী শিল্পী বশীর আহম্মেদ এর ব্যক্তিগত তবলাবাদক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি শুধু তবলা বাদকই নন একজন উচ্চাঙ্গ সংগীতশিক্ষকও বটে। তার ছাত্রী রাজবাড়ির আবিদা সুলতানা উচ্চাঙ্গ সংগীতে জাতীয় পুরস্কার স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত হয়।

 

ড. ফকীর শহিদুল ইসলাম (সুমন)

ড. ফকীর সুমন রাজবাড়িতে সঙ্গীত জগতের প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত একমাত্র ফকীর শহিদুল ইসলাম সুমন। ফকীর আব্দুল জব্বারে পুত্র ফকীল শহিদুল ইসলাম। ছোট বেলা থেকেই ছেলের সঙ্গীতের প্রতি ঝোঁক দেখে পিতা তাকে ঢাকা মিউজিক কলেজে ভর্তি করে দেন। অতঃপর বিশ্বভারতী থেকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এবং কোলকাতা থেকে সঙ্গীতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। সঙ্গীত বিষয়ে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ফকীর সুমন উচ্চঙ্গ, নজরুল সঙ্গীতে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করে বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী।

 

ছায়া রানী কর্মকার

রবীন্দ্র সঙ্গীতের অনন্য প্রতিভা ছায়া রানী কর্মকার। তিনি দেশ ও বিদেশে রবীন্দ্র সঙ্গীতে আপন প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর কলিকাতা রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ১৯৯৮ সালে মিউজিকে বিএ অনার্স (রবীন্দ্র সঙ্গীত) এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে মিউজিকে এমএ (রবীন্দ্র সঙ্গীত) ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র থাকাকালীন তিনি ১৯৯২ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীতে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ছায়া রানী কর্মকার ১৯৭৩ সালে ৮ মে রাজবাড়ি সজ্জনকান্দায় জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি নিখিলচন্দ্র নাগ (দুলাল দা) এর নিকট রবীন্দ্র সঙ্গীতের তালিম গ্রহণ করেন।

Additional information