সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-৫

অতঃপর রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমীতে সঙ্গীত বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি স্থানীয়ভাবে রাজবাড়ির সঙ্গীত জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন। ঢাকায় মাস্টার মেইনড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মিউজিকের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি টিভির একজন নিয়মিত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। তার কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত ভিন্ন মাত্রা লাভ করেছে। তিনি জাতীয়ভাবে রবীন্দ্র, নজরুল, উচ্চাঙ্গ, গণসঙ্গীত, দেশাত্মবোধ সঙ্গীতের বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে চলেছেন।

আবিদা সুলতানা

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এ শিল্পীর সঙ্গীতে হাতেখড়ি ১৯৯০ সালে। তার বাবা মকবুল হোসেন বাবু’র কাছে। রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষক নিজাম আনছারী ও প্রণব সরকারের নিকট উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম নিয়ে ১৯৯২ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এবং দেশাত্মবোধক গানে ১ম পুরস্কার অর্জন করে। শিল্পী ছায়নটে কিছুদিন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বর্তমানে অনিল কুমার সাহার নিকট উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। ১৯৯৪ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগ থেকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এবং লালন সঙ্গীতে ৩য়,  ১৯৯৫ সালে ঐ একই প্রতিযোগিতায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে জাতীয় পুরস্কার (স্বর্ণপদক) লাভ করে। 

রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকাসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে উচ্চাঙ্গ, লালন ও নজরুল সঙ্গীতে ১ম স্থানের গৌরব অর্জন করে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ১৯৯৭ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে নজরুল সঙ্গীতে এবং ১৯৯৮ সালে রাজবাড়ি জেলায় উচ্চাঙ্গ এবং নজরুল সঙ্গীতে ১ম স্থান অধিকার করে। ১৯৯৮-৯৯ সালে রাজবাড়ি সরকারি কলেজের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। অতঃপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন সময়ে ফয়জুন্নেছা হলের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নজরুল, লালন এবং আধুনিক গানে ১ম পুরস্কারের ধারা বজায় রাখে। সম্প্রতি বেঙ্গল মিউজিক থেকে ‘ঝালমুড়ি’ নামক একটি সিডি প্রকাশ করেছে তাতে শিল্পীর নিজের লেখা ও সুরের একটি গান----‘প্রজাপতিটা যখন তখন’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শ্রোতামহলে গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আবিদা সম্প্রতি ‘ফিরে এসো বেহুলা’ নামের একটি ছায়াছবিতে প্লেব্যক করেছে। মুক্তি প্রতিক্ষিত এ ছবিটির গান নিয়ে ‘ফিরে এসো বেহুলা’ নামে ২৩/০৫/২০১০ তারিখে একটি সিডি প্রকাশিত হয়েছে। আবিদা সুলতানার স্বামী শৌভিক করিম ওরফে অর্জুন একজন গানের মানুষ। ‘ফিরে এসো বেহুলা’ ছবির গানের কথা, সুর এবং কণ্ঠ দিয়েছেন আবিদা এবং অর্জুন। উক্ত ছবির কয়েকটি গানের মধ্যে ‘ভালোবাসা তোমার ঘরে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসুক’ এবং ‘যা, যারে যা’ গান দুটি ঢাকার এফএম রেডিওতে বহুল প্রচারিত এবং জনপ্রিয়। আবিদার একক এ্যালবাম প্রকাশের অপেক্ষায়। এ শিল্পী রাজবাড়ি সরকারি কলেজে অধ্যায়নকালীন সময়ে লেখকের প্রিয় ছাত্রী ছিল।

কাজী আবু শরীফ (যিপু)

কাজী আবু শরীফ রাজবাড়িতে এককালের অতি পরিচিত মাউথ অর্গানবাদক ছিলেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মাউথ অর্গান প্রতিযোগিতায় দুইবার (১৯৬৪ ও ১৯৬৫) ইস্ট পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হন। তিনি একজন অভিনেতা এবং অনির্বাণ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। একসময় রেডিও পাকিস্তানের ঘোষক ছিলেন। তিনি মৎস্য ও পশু সম্পদ দপ্তরের পরিচালক ছিলেন। উপসচিব পদ থেকে অবসর গ্রহণ করে বর্তমানে কাজীকান্দায় বসবাস করেছেন।

Additional information