সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-৭

 ক্ষুদে কণ্ঠশিল্পী কবি

বিগত কয়েক বছর যাবৎ টিভি চ্যানেলে সঙ্গীত জগতের উৎকর্ষতার লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে ক্ষুদে শিল্পী সঙ্গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০০৮ এ চ্যানেল আই আয়োজিত দেশব্যাপী ‘ক্ষুদে গানরাজ’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় রাজবাড়ির  ক্ষুদে কণ্ঠশিল্পী কবি ৭ম রাউন্ডে সেরা ৪ নির্বাচিত হয়। সে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সবুজ কুঁড়ি শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্র সঙ্গীতে ১ম স্থান ও নজরুল সঙ্গীতে ২য় স্থান অধিকার করে। ২০০৫ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্র, নজরুল ও দেশত্মবোধক সব কটিতেই তার প্রথম স্থান। কবি রাজবাড়িতে অতিপরিচিত ছখিনা আপার নাতি, পিতা প্রকোশলী শাখাওয়াত হোসেন শামীম, মামা রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ আশরাফ আলী (অব)। কবি বড় হয়ে রাজবাড়ি তথা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে এ আশা সকলের।

আব্দুস ছাত্তার কালু

রাজবাড়ির সংস্কৃতির অঙ্গনে আব্দুস সাত্তার কালু এক কিংবদন্তি নাম। তিনি তাঁর কর্ম প্রচেষ্টায় এ অঙ্গনকে উচ্চতর স্থান দান করেছেন। শিশুকাল থেকেই নৃত্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণ থাকায় ঢাকায় দীপা খন্দকার, হাসান ইমাম, বেলায়েত হোসেন, সাজু আহমেদের নিকট নৃত্যে তালিম গ্রহণ করেন। এরপর কলিকাতার খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী মাধুরী মগডাল এর নিকট ক্লাসিক এবং আধুনিক নৃত্যে বিশিষ্টতা অর্জন করেন। এ সময় থেকেই তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ করে বিটিভিতে নৃত্য প্রদর্শন করেন নৃত্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, চীন, ভুটান, মালদ্বীপ, রাশিয়া, ভারত ভ্রমণ করেন। আব্দুস সাত্তার কালু নৃত্য জগতকে সমৃদ্ধ করতে এবং উচ্চতর মাত্রা দান করার লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে সজ্জনকান্দায় ঢাকা দিব্যকলা নৃত্য প্রতিষ্ঠানের শাখা স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত শত শত ছাত্র-ছাত্রী নৃত্যে পারদর্শীতা অর্জন করে। এসব ছাত্র-ছাত্রী শিল্পকলা একাডেমীসহ নানা অনুষ্ঠানে নৃত্য প্রদর্শনে বিমোহিত করে। এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে দিলরুবা খানম সাথী, ইভা, আতাউর রহমান মোহন, চয়ন----- জাপান, চীন, কোরিয়া, ভারত, নেপাল গমন করে এবং দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনে। আব্দুস সাত্তার কালুর অংশগ্রহণ এবং পরিচালনায় ‘চিত্রাঙ্গদা’ ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নৃত্যনাট্য অনুপম সৃষ্টি। ঢাকা, জসিম মেলা, রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত নৃত্যনাট্য ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নৃত্য অনুশীলন করছে।

সদালাপী, সদাহাস্য কালু কেবল রাজবাড়ি নয় দেশের গর্ব। প্রায়শই তিনি জাতীয় অনুষ্ঠানসহ টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলে নৃত্য পরিবেশন করেন। রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক জগতে তিনি অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। তিনি রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমীর নৃত্য শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন সময়ে নিয়োজিত। অকৃতদার কালুর মানসজগত নৃত্য ও নৃত্যের উৎকর্ষতা নিয়ে আবর্তিত।

যাত্রা, নাট্য ও চিত্রজগৎ

অনেক পূর্বে রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে জিমিদার বাড়িতে নাট্যচর্চা হত। নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে রাজা সূর্যকুমার ও তাঁর পুত্র কুমার বাহাদুর বিশেষ অবদান রেখে গেছে। বাণীবহের জমিদার পরিবারও নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিল। যে স্থানটিকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ির নাট্য আন্দোলন গড়ে ওঠে উক্ত স্থানটি ছিল বর্তমানের চিত্রা হল।

Additional information