সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-৯

মুকাভিনয়ের ক্ষেত্রে কণ্ঠ একেবারেই অনুপস্থিত। শিল্পী এখানে বোবা-কালা। কেবল অঙ্গভঙ্গীতে বিষয়বস্তুকে হৃদয়গ্রাহী করে তোলেন। পার্থপ্রতিম মজুমদার এমনি একজন মুকাভিনেতা। তাঁর অভিনয় দেশ বিদেশে প্রশংসিত। দর্শক তার অভিনয়ে ভিন্ন স্বাদ গ্রহণ করে। তিনি মুকাভিনয় জগতকে ভিন্নতা দান করেছেন।

এই মহৎ শিল্পীর জন্ম রাজবাড়ি জেলা পাংশা উপজেলার বাগডুলিতে। পিতা হিমাংশু মজুমদার জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। এই জমিদার বংশ ছিল খুবই প্রতাপশালী। তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে সাধারণ প্রজা ছাতা মাথায় বা পায়ে জুতা পরে হাঁটত না। তাদের ভগ্নপ্রায় প্রাসাদ বিদ্যমান রয়েছে। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলে হিমাংশু মজুমদার পরিবারসহ পাবনা শহরে গমন করেন এবং বসতি স্থাপন করেন। পাবনা শহরে ‘ধুপছায়া স্টুডিও’ গড়ে তোলেন। পার্থপ্রতিম পাবনা থাকাকালীন মুকাভিনয়ে নানা শৈলী অর্জন করেন এবং উচ্চতর শিক্ষার জন্য ফ্রান্স গমন করেন পরবর্তীতে পরিবারটি পশ্চিমবাংলার চন্দন নগরে স্থায়ী বসতি গড়ে তুললেও আপন মাটির মায়া ভুলে যান না। সময় পেলেই ছুটে আসেন বাগডুলিতে। ফেলে যাওয়া নানা স্মৃতি ক্যামেরা বন্দি করে নেন। পার্থ প্রতিম মজুমদার ২০০৯ সালের শেষার্ধে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমীতে মাসব্যাপী মুকাভিনয়ের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। এই শিল্পীকে ২০১০ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

আব্দুর রউফ (রাজা ভাই)

আব্দুর রউফ (রাজা ভাই) দেশের একজন খ্যাতিমান যাত্রাশিল্পী ছিলেন। রাজবাড়ি শহরে ডা. আব্দুর রহমান একজন বিশেষ ধার্মিক ব্যক্তি। পরিবারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকেও তার পুত্রগণের মধ্যে আব্দুর রউফ, আব্দুর রব, এটিএম রফিক ‍উদ্দিন রাজবাড়িতে একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলেন। এদের মধ্যে আব্দুর রউফ সাংস্কৃতিক জগতে দেশের বিশেষ স্থান অধিকার করে নেন। প্রথমে রাজবাড়ি শহরে নাট্যভিনেতা হিসেবে বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি নিউ বাসন্তী অপেরায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করে দেশজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে একবার শিল্পকলা একাডেমীতে যেখানে অমলেন্দু বিশ্বাস, রত্নেশ্বর চক্রবর্তী, নয়ন মিয়া, আনোয়ার হোসেনের মতো বিশিষ্ট শিল্পীগণ অভিনয় করতে দ্বিধাগ্রন্থ তিনি সেখানে সিরাজ-উদ-দ্দৌলা নাটকে অভিনয় করে জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত হন। তিনি পরলোকগমন করেছেন।

সুভাস সিংহ

রাজবাড়ি শহরের বিশেষ নাট্য ব্যক্তিত্ব সুভাস সিংহ যার কৈশোর আর যৌবন কেটেছে অভিনয়, নাট্য আন্দোলন আর নাট্য পরিচালনা নিয়ে তিনি রাজবাড়ি তথা দেশের খ্যাতনামা নাটক ও যাত্রাশিল্পী আব্দুর রউফের (রাজা ভাই) সহচার্যে থেকে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তার অভিনীত ও নির্দেশিত নাটকের সংখ্যা ১০০ এর উপর। তিনি ১৯৮৪ সালে শিল্পকলার পক্ষ থেকে টিভিতে অভিনয় করেন। তিনি একজন রাজনীতিবিদ। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। রাজবাড়ি নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে তার অবদান স্মরণীয়। তিনি ইহধাম ত্যাগ করেছেন।

 

Additional information