সঙ্গীত ও নৃত্য - পৃষ্ঠা নং-১০

নিতাইচন্দ্র বসাক

নিতাই চন্দ্র বসাক রাজবাড়ি সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে চাকরিরত। শিক্ষকতার ফাঁকে ফাঁকে তিনি স্থান করে নিয়েছেন রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। দীর্ঘ ২৫ বৎসর তিনি রাজবাড়ি সরকারি কলেজ সংসদের নাট্য ও বিনোদন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকের পর থেকে রাজবাড়ির নাট্য আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট হন। তিনি মৈত্রী থিয়েটার গ্রুপের সভাপতি। ১৯৯৭ সালে রাজবাড়িতে নাট্য সপ্তাহ পালনে তিনি গুরু দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি অবসর জীবনযাপন করেছেন। উদীচীসহ অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। নানাভাবে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

চিত্রনায়িকা রোজিনা

চিত্রজগতের স্বপ্নকন্যা রোজিনা। জীবনের তরঙ্গ ঢেউয়ের দোলায় গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছেন নিজেকে। অনেক কষ্টের অতীত পেরিয়ে আজ তিনি কেবল দেশেই নয় বিশ্বে নন্দিত চিত্রনায়িকা। বিগত শতাব্দীর সত্তর দশকের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত চিত্রজগতে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী, আবশ্যক ও ব্যস্ত নায়িকা। মেধা, মনন, অধ্যবসায়, কুশলতায় তিনি সমৃদ্ধ করেছেন চিত্রপুরী। বয়ে এনেছেন নিজের ও দেশের সুনাম। এ স্বপ্নকন্যার জন্ম গোয়ালন্দে তাঁর নানার বাড়িতে। পিতা দলিল উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মা খোদেজা বেগম গৃহিনী। তারা রাজবাড়ি শহরের বাসিন্দা ছিলেন। আজকের দিনে রাজবাড়ি শহরে যে বিত্ত বৈভবের জৌলুস চোখে পড়ে তখনকার দিনে তেমন ছিল না। সকল পরিবারেই কম বেশি দারিদ্রক্লীষ্ট, আয় উপার্জনহীন। চার কন্যা আর দুই পুত্র সন্তানের পরিবারে অভাব অনাটন লেগেই থাকত। তারমধ্যেও জেষ্ঠকন্যা রোজিনার তুষ্টির জন্য পিতার আয়োজন কম ছিল না। মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবনের সুখ সমৃদ্ধির আশায় আদরের মেয়ে রেনুকে (চিত্র জগতে এসে রোজিনা) বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। রাজবাড়ির সাংস্কৃতিক আবহ তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। নাটক, সিনেমা দেখা হয়ে ওঠে রুটিন কাজ। নায়ক নায়িকা হন আপন ভুবনের সাথী। একসময় মিশে যেতে ইচ্ছে করে শিল্প মোহনায়। নানা বাধাবিপত্তি, অবজ্ঞা, অনুশোচনা, শাসন, বঞ্চনার মধ্যে দিয়ে জীবনযুদ্ধে বিজয়িনী রোজিনা চিত্রশিল্প জগতের মানসকন্যা। সাগরে ফুলের সুবাস এমন অলীকতার মতই ‘সাগর ভাসা’ সিনেমার রেনু আপন প্রতিভায় আয়নার-----‘শায়লা’, মায়াবড়ির--‘মায়ারানী’ সবশেশে লক্ষ হৃদয়ের ‘রোজিনা’। রোজিনা দিনকাল ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৮৬ সালে পাকিস্তানে ‘হাম দো হায়’ অভিনয়ের জন্য জার্মানীতে ‘নিগার এ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এ ছবির জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন নাদিম। রোজিনা নেপাল, শ্রীলঙ্কায় কো-প্রডাকশনের ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৮৪ সালে রোজিনা ভারতের সাথে কো-প্রডাকশনের ছবি অবিচার, এ ছবিতে বোম্বের সুপার স্টার নায়ক মিঠুন চত্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করেন। এ ছবির পরিচালক ছিলেন হাসান ইমাম ও শক্তি সমান্ত। ১৯৯০ সালে এসে তার অভিনিত ছবির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫৫টি। ১৯৯০ এরপর তিনি কলিকাতায় পাড়ি জমান। মাঝে মধ্যে ইংল্যান্ডে বসবাস। কলিকাতায় থাকাকালীণ সেখানে ‘সবার উপরে মা’, বাংলার বধু’, ‘মাতাপিতা’, ‘ভাই আমার ভাই’, ‘আমার স্বামী’, ‘এই ঘর’, ‘কুচ বরণ কন্যা’ ইত্যাদি সমাজ সচেতনমূলক ছবিতে অভিনয় করেন। দীর্ঘদিন পর ফিরে আসেন দেশে। এ সময় তিনি নাটক নির্মাণে বেশি ব্যস্ত। শরৎচন্দ্র ও নজরুল ইসলামের লেখা কাহিনী ও গল্প নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘ষোড়শী’, ‘মেজদিদি’, ‘বনের পাপিয়া’ নাটক। নির্মাণ করেছেন ‘দরজার ওপাশে’, ‘সম্পর্ক’, ‘কবি কিংকর চৌধুরী’, ‘বদনাম’, ধারাবাহিক নাটক।

Additional information