লোক ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-২

আমার সাথীরা পদ্মার, উথাল পাথাল

ঢেউ দেখে ভয় পায়

জাহাঙ্গীর স্যারের চোখ নাকি গরম

ওরা এসব কী বলে বাবা?

আমি তো দেখি

পদ্মার পানি পশ্চিম থেকে

কোথায় যেন যায় আর যায়।

স্যার আমাকে বলে

আমি নাকি ফোটা ফুল।

বলত বাবা? ফুল কেন নোশিন নয়?

তুমিই ফুল, তুমিই নোশিন

তাহলে বাবা এবার যাই

ফুলের শ্রান্তি দুচোখে মেখে

ফুলে ফুলে ঘুমাই

কাঁদছ বাবা?

কেঁদো না--------

আমিই ফুল, আমিই পাখি তারায় তারায় লীন

আমিই তোমার স্বপনের নোশিন।

ফুটফুটে নোশিন টাউন মক্তব তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বোনম্যারো ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ২০০৯ সালে জুন মাসে সকলকে ফাঁকি দিয়ে তারার মেলায় মিশে যায়। ভেলোরে চিকিৎসাধীন নোশিনের বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। পাগল প্রায় বাবা গাজী হাবিবকে সাহায্যের হাত বাড়াল রাজবাড়ির শিক্ষক সমাজ, ইমাম কমিটি, ব্যবসায়ী, প্রশাসকসহ রাজবাড়ির সকল স্তরের মানুষ। নোশিনকে বাঁচানো গেল না। বাবা ও ব্যথিত মানুষ গঠন করল ‘নোশিন স্মৃতি চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা, রাজবাড়ি’। উদ্দেশ্য বিপন্ন আর্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান। সংস্থাটির দৃঢ় ভিত ও অনন্ত স্থিতির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন শক্তিশালী কার্যনির্বাহী কমিটি। পৃষ্ঠপোষক, কার্যকরী সদস্য, উপদেষ্টা মণ্ডলী, সাধারণ সদস্যসহ সকল স্তরের মানুষ। সংস্থাটির ০৯/০৮/২০১০ তারিখের সভায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক কাজী ইরাদত আলী ৫০,০০০.০০ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, প্রভাত দাস বিষ্ণু ও প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খানসহ বিশিষ্ট নাগরিক বৃন্দ বিপুল অংকের অর্থ মানবতার কল্যাণে সংস্থাটিকে দেন। ঐ  দিন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে নোশিন স্মৃতি চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা থেকে একলাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

Additional information