লোক ঐতিহ্য - পৃষ্ঠা নং-১৫

আতাসে পাতাসে বাঁশি চালানি

চল হাত চল

যেখানে বিষ থাকে

সেখানে চল

বিষ থুয়ে এদিক ওদিক যাস

ঈম্বর মহাদেব জটা খাস

ভূ মন্ত্রকে খীন পড়।

ধবংসাত্মক মন্ত্র

এজাজাল জেলাতেল আরদে মালেকা

ফলনার পাচতুন জ্বলে জা

মিলনের মন্ত্র

বিসমিল্লা গুণকর

ফলনার সাথে ফলনীর মিল কর

এরুপ শত শত মন্ত্র রয়েছে। কেবলমাত্র এ থেকেই আন্দাজ করা যায় আমাদের গ্রাম সমাজ এক প্রকার লোক বিশ্বাসে ধাঁধায় পড়ে আছে। এখনো ক্ষ্যাপা কুকুরে কামড়ালে খাপড়া পড়া দেওয়া হয়, জন্ডিস রোগে হলুদ পড়া দেওয়া হয়। এরুপ কত রকমের ভাব রয়েছে। এসব লোকজ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে আমরা হাজার হাজার বছর কাটিয়েছি।

লোকনাট্য, আঞ্চলিক নৃত্য

লোকনাট্য : লোকনৃত্যের যেমন একটি প্রাকৃতিক ভিত্তি আছে লোকনাট্যে এমন প্রাকৃতিক ভিত্তি নেই। লোকনাট্য লোকজ জীবনের প্রতিচ্ছবি। তা অনুষ্ঠিত হয় পরিকল্পনা মাফিক সাজানো গোছানোভাবে। লোকনাটক লোকজ জীবনের সাধারণ চিত্র ফুঠে ওঠে। লোকজ সঙ্কট, গাথা, গল্প-প্রেমকাহিনী লোকনাটকের ভিত রচনা করে। লাইলী মজনু, শিরি ফরহাদ প্রেমভিত্তিক আখ্যান। এগুলোতে যাত্রার আমেজ থাকলেও তা যাত্রা নয়। আবার শ্রোতাদের দিক থেকে এর ভিত্তি গ্রামীণ হলেও আখ্যান পুরোপুরি লোকভিত্তিক নয়। সিরাজ-উদ-দ্দৌলা, টিপু সুলতান, জমিদার দর্পণ সার্থক নাটক তবে তা লোকনাটকভুক্ত নয়। লোকচিত্র এতে ফুটে ওঠেনি। এ সব নাটকে সমাজের অগ্রগামীতার চিত্র প্রকাশ পায়। লোকনাট্য সাধারণ জীবনের প্রতিচ্ছবি। গাথা ও পুঁথিভিত্তিক জীবনলেখ্য লোকনাটকের ভিত্তি এ কথা বলা যায়। লোকনাটকে কথার সাথে নাটকের ভাব বিদ্যামান। রাজবাড়ি জেলার নাটকে পুরাতন ভিত্তি রয়েছে। জেলা প্রসিদ্ধ জমিদার বাড়িতে বিশেষ করে বাণীবহ জমিদার বাড়ি, রাজা সূর্যকুমারের বাড়ি, পদমদির নবাববাড়ি, রতনদিয়া নাট্যচর্চা হত। পরবর্তীতে বর্তমান চিত্রা হলটি বাণীবহের জমিদার ডানলফ রংমহল নামে নাট্যচর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে হোসনেবাগ হল যাকে শফিউর রহমান হল বলা হয়। সেখানে নাট্যচর্চা ও নাটক অনুষ্ঠিত হয়। হলটিতে এখনো নাটক অনুষ্ঠিত হয়। রামদিয়া, সোনাপুর, পাংশা, গোয়ালন্দ, নাড়ুয়া, পাঁচুরিয়া, বেলগাছি এসব স্থানে নিয়মিত নাট্যচর্চা হত। এসব স্থানে গ্রাম জীবনভিত্তিক নাটকই বেশি অভিনীত হত। বর্তমানে গোয়ালন্দের একটি নাট্যদল গ্রামীণভাষায় নাটক করে। সাধারণ মানুষ একে ‘ভ্যাজাইলা’ নাটক বলে।

Additional information